BD24Live
ঢাকা, সোমবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ১০ মাঘ ১৪২৩

জিম্বাবুয়েকে হাথুরুসিংহের ‘উপহার’!

২০১৬ জানুয়ারি ২১ ১১:০০:১২
জিম্বাবুয়েকে হাথুরুসিংহের ‘উপহার’!

স্পোর্টস ডেস্ক: নুরুল হাসান ১৭ বলে ৩০। মুক্তার আলী ১৫ বলে ১৯। সপ্তম উইকেটে দুজনের ৯.৪৮ রানরেটে ৪৯ রানের অপরাজিত জুটি। ভালোই তো!

ঘোড়ার ডিম ভালো!

ভালো হলে কি আর বাংলাদেশ ওভার নির্দিষ্ট খেলায় খুলনার মাঠে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ (পড়ুন বিস্বাদ) পায়! এমন অবাস্তব চেহারা নেয় শেষ ওভারে বাংলাদেশের চাহিদাটা —৬ বলে ৪৪ রান!

না, দুই নবীনের প্রতি অন্যায় হয়ে যাচ্ছে। ওদের কী দোষ! এই সিরিজেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে প্রথম পরিচয় নুরুলের, মুক্তারের তো এই ম্যাচেই অভিষেক। তাঁদের ওপরই কিনা চাপিয়ে দেওয়া হলো এভারেস্ট ডিঙানোর দায়িত্ব।

এভারেস্টই তো!

উইকেটে যখন দুজনের যুগলবন্দী শুরু, জয়ের জন্য ৩১ বলে বাংলাদেশের চাই ৮১ রান। দুই নতুন এটা করে ফেলতে পারলে তো বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপার দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হয়ে যায়!

ম্যাচশেষে দুই কোচের দেখা হয়েছে কি না কে জানে! হয়ে থাকলে ডেভ হোয়াটমোর জন্মসূত্রে স্বদেশি শ্রীলঙ্কান চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে একটা ধন্যবাদ দিতেই পারতেন। পরাজয়ে পরাজয়ে বিপর্যস্ত জিম্বাবুয়েকে এই জয় তো হাথুরুসিংহেরই উপহার! এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে এই সিরিজে একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে, এটা জানাই ছিল। তাই বলে এতটা! আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি না প্রস্তুতি ম্যাচ, এই ধন্দে ফেলে দিয়ে নামিয়ে দেওয়া হবে চার নতুনকে?

স্টেডিয়াম উপচে পড়া দর্শক গাঁটের পয়সা খরচ করে এই খামখেয়ালি দেখতে আসেননি। প্রিয় দলের জয় দেখতে এসেছিলেন। মাঠফেরত দর্শকদের প্রতিক্রিয়া তা পরিষ্কার বুঝিয়েও দিল।

ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই সাবেক জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর টুইট করলেন। যেটিতে জিম্বাবুয়ের জয়ের আসল কারণটাও থাকল, ‘বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই কিছু কোয়ালিটি খেলোয়াড়কে মিস করছে।’

সেটি তো প্রথম ওভার থেকেই। কোনো দেশের প্রথম টেস্ট, প্রথম ওয়ানডে বা প্রথম টি-টোয়েন্টি হলে ভিন্ন কথা। নইলে এমন আন্তর্জাতিক ম্যাচ আর খুঁজে পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ, যেটিতে প্রথম তিন বোলারই ‘নতুন’!

হাথুরুসিংহে নাকি মাশরাফিকে এমনও বলে দিয়েছিলেন, তিন বোলারকেই পুরো চার ওভার করে বোলিং করাতে হবে! কারণ সবাইকে তিনি ভালো করে দেখতে চান। কোচকে এটি কে বলবে, মূল উদ্দেশ্য যদি তা-ই হয়ে থাকে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে আরও দুই-তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেললেই হতো। যেখানে হাথুরুসিংহে এক ম্যাচেই ১৩/১৪ জনকে ‘দেখতে’ পারতেন। তিন ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ১৭টি ম্যাচে মাত্র দ্বিতীয় পরাজয়টা ম্যাচ শুরুর আগেই এমন অবশ্যম্ভাবী মনে হতো না।

প্রথম দুই ওভারে ২৪ রান দেওয়ার পর আবু হায়দার শেষ দুই ওভারে ১৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন। নতুন তিন বোলারের মধ্যে শুধু তাঁকেই পুরো ৪ ওভার করানোর সাহস পেয়েছেন মাশরাফি। সাকিবের ৩ উইকেটকেও জিম্বাবুয়ের রানপ্রবাহে বাঁধ দিতে অপর্যাপ্ত প্রমাণ করে জিম্বাবুয়ে করে ফেলল ১৮৭ রান। ম্যাচের ভাগ্যও লেখা হয়ে গেল তখনই।

প্রথমে ব্যাটিং করেও বাংলাদেশ এত রান করতে পেরেছে মাত্রই একবার (২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯০)। রান তাড়া করে জয়ে সর্বোচ্চ স্কোর ঠিক আগের ম্যাচেই ৬ উইকেটে ১৬৬। কোনো দিন যা পারেনি, এদিন তা পারবে আশা করাটা একটু বাড়াবাড়িই হতো। ব্যাটিং অর্ডারে বড় দুটি শূন্যতা। শুরুতে তামিম ইকবাল নেই, মাঝখানে মুশফিকুর রহিম। প্রায় আট বছরে প্রথমবারের মতো এই দুজনকেই ছাড়া বাংলাদেশের মাঠে নামা।

অভিজ্ঞতা বলতে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ। ইমরুল কায়েসের নামটা ভুলে বাদ পড়েনি। মনে করিয়ে দিই, টেস্টে নিয়মিত বাঁহাতি ওপেনারের এটি মাত্র ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি। তার পরও তাঁর কাছ থেকে আশা ছিল। প্রথম ওভারেই বোল্ড হয়ে গিয়ে যে আশার গুড়ে বালি ছিটাতে একদমই সময় নিলেন না। সাকিব-মাহমুদউল্লাহও একই পথের যাত্রী। তিনজনের মোট রান কোনোমতে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারল।

সৌম্য-সাব্বিরের ৬৭ রানের জুটিটির সময়ই শুধু বাংলাদেশ ম্যাচে ছিল। যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ—এই প্রবাদে আসলে ‘শ্বাস’-এর জায়গায় সাব্বির রহমান নামটিই বসিয়ে দিতে পারেন। আগের দুই ম্যাচে ৪৬ ও অপরাজিত ৪৩-কে ছাড়িয়ে গিয়ে কাল ৩১ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। ৩২তম বলটি পত্রপাঠ মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার মতোই বাজে। কিন্তু সাব্বির পাঠাতে পারলেন ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো ফিল্ডার পর্যন্ত।
মেঘলা আকাশ আর ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে বিষণ্ন এক দিন ক্রমেই বিষণ্নতর হতে লাগল এর পর। যেটির শেষ পরাজয়ে।

ডেকে আনা এক পরাজয়! #প্র/আ

পাঠকের মতামত:

স্পোর্টস এর সর্বশেষ খবর

স্পোর্টস - এর সব খবর



রে