BD24Live
ঢাকা, রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭, ১২ চৈত্র ১৪২৩
জাহিদুল ইসলাম,

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:

যে কারণে টি টোয়েন্টিতে পারছে না বাংলাদেশ

২০১৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১০:২২:১৮
যে কারণে টি টোয়েন্টিতে পারছে না বাংলাদেশ

একদিনের ক্রিকেটে বিশ্ব ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত শক্তির নাম এখন বাংলাদেশ। শুরুটা ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডকে বাংলাওয়াশের মাধ্যমে। এরপর ২০১২ সালের এশিয়া কাপ। ফাইনালে ২ রানের হেরে গেলেও অনেকটা ঢাক ঢোল পিটিয়েই বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিলো টাইগারদের উত্থান।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে দূর্দান্ত নৈপূন্যের পর ঘরের মাঠে তিন পরাক্রমশালী দল ভারত পাকিস্তান ও দক্ষিন আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিয়ে সরিজ জিতে নেয় টাইগাররা। কিন্তু টি টোয়েন্টি থেকে যায় রহস্য হয়েই! ওয়ানডের বাঘ কেন টি টোয়েন্টিতে এসে বিড়াল হয়ে যাচ্ছে? এই রহস্য এখন ঘোরপাক খাচ্ছে ১৬ কোটি মানুষের মনে।

সঠিক খেলোয়াড় নির্বাচনে ব্যার্থতা:এমন তো হওয়ার কথা ছিলো না। কেন পারছে না বাংলাদেশ? নানামুখি বিশ্লেষণে সে কারেই আজ তুলে ধরব পাঠকদের কাছে। প্রথম কারণ হচ্ছে যথেষ্ট পরিমান টি টোয়েন্টি ধাচেঁর খেলোয়াড়ের অভাব। এশিয়া কাপ টিটোয়েন্টিই দেখুন, লক্ষ্য যেখানে পাহাড়সম সেখানে একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে ইমরুল কায়েস কেমন পরিস্থিতি বিরুধী ব্যাটিং করলেন। আমার কাছে ইমরুল কায়েসের ব্যাটিং নিয়ে কোন সংশয় নেই। টেস্টে তিনি এখন বাংলাদেশের সেরা ২/৩ জন ব্যাটসম্যানের একজন। তাই বলে তাকে টি টোয়েন্টিতেও খেলাতে হবে?

নির্বাচক যখন ‘অবিবেচক’ : সাফল্যের ভেলায় ভাসতে থাকলে নির্বাচকদের দোষ ত্রুটি আড়ালে পড়ে যায়। আমাদের বর্তমান নির্বাচক প্যানেলের ক্ষেত্রে হয়েছে তেমনটাই। যাদের কাছে ফরম্যাট কিংবা অভিজ্ঞতা কোনটিরই দাম নেই। বিপিএল এর দ্বিতীয় আসরে শাহরিয়ার নাফিস দূর্দান্ত শতক হাঁকিয়েও দলে ডাক পান নি। মাস দুই আগে শেষ হওয়া বিপিএলে দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে দূর্দান্ত ফর্মে ছিলেন জহুরুল ইসলাম অমি। ৩ ম্যাচে হয়েছিলেন ম্যান অব দ্যা ম্যাচও। স্ট্রাইক রেটও ছিলো দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪০ প্লাস। সেই জহুরুলকেই কিনা ডাকলেন না ২৫ সদস্যের প্রাথমিক দলেই! টি টোয়েন্টিতে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং গড় এনামুল হক বিজয়ের। অন্যদের যেখানে ২০ ছুই ছুই সেখানে বিজয়ের গড় ৩৫+। এরপরও দলে ঠাই নেই তার।

নেই কোন বিগ হিটার: প্রতিটি দলেই টি টোয়েন্টির কথা ভেবে দু একজন বিগ হিটার রাখা হয়। যারা ন্যাচারালি ছক্কা হাঁকাতে পটু। বাংলাদেশে সেই মানের ক্রিকেটা কই। জিয়াউর রহমানকে দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছিলো কিন্তু তিনি ব্যর্থ। এরপর সম্ভাবনা ছিলো মুক্তার আলীর তিনিও ব্যর্থ। এরপর আর একজন ক্রিকেটার ছিলেন যার নাম নাজমুল হোসেন মিলন। গত দশ বছর ধরে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ে খেলে যাচ্ছেন। সবাই তাকে ছক্কা মিলন নামেই চিনেন। অবলীলায় ছক্কা হাঁকাতে পারার কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও রয়েছে তার ব্যাপক চাহিদা। তিনটি বিপিএলেই তিনি নিজেকে প্রমান করেছিলেন। ওভার প্রতি রান ১০/১২ হলেও কিভাবে দলকে জেতাতে হয় সেটা ভালো রপ্ত আছে টাংগাইলে জন্ম নেয়া এই ক্রিকেটারের। অথচ সেই ছক্কা মিলনকেও বাজিয়ে দেখার প্রয়োজন করলেন না আমাদের অতি বিজ্ঞ নির্বাচক মন্ডলী। সব ক্ষেত্রেই যদি বড় স্কোর আর ভালো গড় খোঁজেন তাহেল এধরনের ক্রিকেটারকে কোনও দিনই পাবেন না। বিপিএল তৃতীয় আসরের একটি ম্যাচে জিততে হলে শেষ ২ বলে ৫ রান দরকার। এন কঠিন সমীকরণেও কিন্তু নাজমুল হোসেন মিলন ক্রিজে নেমেই প্রথম বলেই ছক্কা হাকিয়ে দলকে জিতিয়ে ছিলেন। টি টোয়েন্টিতে ভালো করতে হলে এরকম নেমেই পরিস্থিতি বিবেচনায় ছক্কা হাঁকানোর সহজাত সামর্থ্য আছে এমন ব্যাটসম্যান দরকার।

মোমেন্টাম ধরে না রাখতে পারার ব্যর্থতা: ভালো শুরুর পরও ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার নজির কম নেই। সেটা ব্যাটিং- বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই। এই জায়গায় উন্নতি করতে হবে। একটা ক্যাচ মিস হতেই পারে সেটার প্রভাব পুরো দলে পরতে দেয়া যাবে না। বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং আর পরিস্থিতী অনুযায়ী ব্যাটিং করে মোমেন্টাম নিজেদের দিকে নিয়ে আসতে হবে। যখন কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না ওরকম পরিস্থিতীতে চটপট ছোট করে টিম মিটিং সেরে ফেলতে হবে।

ব্যাটিং পাওয়ার প্লে আর শেষের ৪ ওভার :আর ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে দুটো জায়গায় উন্নতি প্রয়োজন টাইগারদের। যেটা হলে বিশ্বের যেকোন দলকেই হারিয়ে দিতে পারবে বাংলাদেশ। প্রথমেই উন্নতি করতে হবে ব্যাটিং পাওয়ার প্লের ৬ ওভারের ব্যাটিংয়ে। পরিসংখ্যান বলছে ২০১৪ সালের পর থেকে ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে রান তোলায় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা নিম্নতর দিক থেকে দ্বিতীয়। অর্থ্যাৎ পাকিস্তানের পরেই তাদের অবস্থান। প্রথম ৬ ওভারে টাইগার ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইকরেট মাত্র ১১২।

দ্বিতীয়ত যে জায়গাটিতে উন্নতি করতে হবে সেটি হচ্ছে শেষের ৪ ওভার। রান তোলার জন্য এই ৪ ওভার খুবই গুরুত্বপূর্ন। বড় বড় দলগুলো হরহামেশাই ৫০+ রান তুলে ফেলে এই চার ওভারে। সেখানে আমাদের ব্যাটসম্যানদের অবস্থান পূর্ন সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সবার নিচে। বোঝাই যাচ্ছে টি টোয়েন্টিতে রান তুলার সবচেয়ে বড় দুটো জায়গাতে আমরা দূর্বল । এছাড়া বোলিং ফিল্ডিং নিয়ে তেমন কোন দুশ্চিন্তা নেই। বোলিংতো বলতে গেলে বিশ্বের সেরা তিন চার দেশের একটি হবে। মাশরাফি-মুস্তাফিজ-সাকিব-সানি-আল আমিনদের নিয়ে গড়া বোলিং লাইন আপ যেকোন ব্যাটিং লাইন আপকে ধ্বসিয়ে দিতে পারে।

তাই এই ফরম্যাটে সাফল্য পেতে হলে এই দুটি জায়গায় উন্নতি করতেই হবে। কেবল বোলিং-ফিল্ডিং দিয়ে এটা রিকভার করা সম্ভব নয়। তাই সাফল্য পেতে এবার ব্যাটসম্যানদেরেক শুরুর ৬ ওভার ও শেষের ৪ ওভারে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। আরও খোলাসা করে বললে প্রথম ৬ ওভারে ৫৫+ ও শেষ ৪ ওভারে অন্তত ৪৫+ রান তুলা শিখতে হবে। তাহলে এই ১০ ওভার থেকে আসবে ১০০+ রান আর মাঝের ১০ ওভারে যদি রয়ে সয়েও খেলে তাও চলে আসবে ৭৫+ রান। তাহলে দেখা যাবে ইনিংস হয়ে গেছে ১৭৫+ ! যেকোন ধরনের উইকেটেই সেই রান খুব ভালো ভাবেই ডিফেন্ড করতে পারবেন আমাদের মুস্তাফিজ-মাশরাফিরা। তখন টি টোয়েন্টিতেও সাকিব-তামিমরা হয়ে উঠবেন ওয়ানডের মতই টাইগার।

পাঠকের মতামত:

স্পোর্টস এর সর্বশেষ খবর

স্পোর্টস - এর সব খবর



রে