BD24Live
ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৭, ৭ মাঘ ১৪২৩
মিজানুর রহমান,

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, ব্রীজ নির্মাণের দাবি

২০১৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ০৯:৪৩:১৮
ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, ব্রীজ নির্মাণের দাবি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে চলা চিত্রা নদীতে বদর ঘাটের বাঁশের সাকোটি উপজেলার দুই ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। নদীর দুই পাড়ের মানুষের মাঝে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা, ট্রেনে যাতায়াত, কৃষি পন্য বাজারজাতকরণ, পেশাজীবিদের শহরে যাতায়াতসহ আরো অনেক প্রয়োজন মেটাতে প্রতিদিন দুই ইউনিয়নের প্রায় হাজার মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এই সাকো দিয়েই পারাপার হতে হয়। উপজেলার ১নং সুন্দরপুর ইউনিয়ন ও ৬ নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থল বদর ঘাটে চিত্রা নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের।

এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায় বদর ঘাটের পারাপারের ইতিহাস প্রায় ২’শ বছরের। বাঁেশর সাকো তৈরীর আগে বদর ঘাটে নৌকাযোগে লোকজন পারাপার হতো। নদীর পাড়ে বদর নামের এক ইসলাম ধর্ম প্রচারকের কবরস্থান আছে। এক সময় জমকালো ঔরসশরীফের আয়োজন হতো বদর ঘাটের বটতলায়। বটগাছ কেটে ফেলায় ও নানা কারণে এখন আর ঔরসশরীফের আয়োজন হয়না সেখানে।

এলাকাবাসি জানায় নাব্যতার কারণে নদী প্রস্থে কমে আসা ও পানি কম থাকায় প্রায় ৫০ বছর আগে এলাকাবাসি নিজেদের অর্থায়নে বাঁশের সাকো তৈরী করে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি বছর বাঁশের সাকো তৈরী করে পারাপার হতে হয় দুই ইউনিয়নের কমপক্ষে ৭ গ্রামের মানুষকে।

সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আশরাফুল জানান, নদীর দক্ষিণের কমপক্ষে ৪টি গ্রামের উৎপাদিত কৃষি পন্য ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্প পন্য শহরে বাজারজাতকরণে সহজ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ মাধ্যম এই বাঁশের সাকো। অন্যদিকে সাকোর উত্তর পাশের সিংদহ, আলাইপুর, কমলাপুরসহ ৪/৫ গ্রামের মানুষকে সাকোর দক্ষিণে পার-শ্রীরামপুর, চাঁচড়া, সুন্দরপুর যেতে হয়। পার-শ্রীরামপুর ও চাঁচড়া গ্রামে প্রয়োজনীয় ক্ষুদ্র শিল্প পন্য কিনতে, সুন্দরপুর গ্রামে রেল স্টেশন থাকায় রেলপথে বিভিন্ন এলাকায় যেতে ও সহজ পথে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে সাকোটি এলাকাবাসির কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ ।

জনগুরুত্বপূর্ণ হলেও এলাকাবাসির সেতু নির্মাণের দীর্ঘ দিনের এ দাবী আজো পূরণ হয়নি। এবার আশায় বুক বেঁধেছেন, কারণ স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিজ গ্রাম নদীর দক্ষিনের পার-শ্রীরামপুর গ্রাম। জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এবার উপজেলার পারশ্রীরামপুর এলাকার বদর ঘাটে চিত্রা নদীর উপর কংক্রিটের সেতু নির্মিত হবে এমন আশা করছেন এলাকাবাসি।

পার-শ্রীরামপুর গ্রামের শাহিনুর ও চাঁচড়া গ্রামের অসীম জানান, তারা এই সাকো পার হয়ে গান্না বাজার থেকে মাছ কিনে কালীগঞ্জ শহরে বিক্রি করেন। এতে তাদের সময়, শ্রম ও অর্থেও সাশ্রয় হয়। মধুপুর গ্রামের মুকুল শহরের একটি জুয়েলারী দোকানে কাজ করেন। সাকো পার হয়ে অল্প সময়ে শহরে যাতায়াত করতে পারে বলে তিনি জানান। ব্রীজ হলে নদীর দক্ষিণের গ্রাম মধুপুর, চাঁচড়া, চাঁদবা, শ্রী-রামপুর গ্রামের মানুষ তাদের উৎপাদিত ফসল আমতলা বাজার, গান্না বাজারসহ কালীগঞ্জ বাজারে আনতে কম সময় ও পরিবহন খরচ আরো কমে যাবে। এতে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

মধুপুর গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক আজিজুল জানান সাকোর দক্ষিণের ৪ গ্রামের প্রায় ৭’শ মানুষ নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। সাকোর উত্তরে কালীগঞ্জ শহরে আসার জন্য এটিই তাদের সহজ পথ। এছাড়া গান্না কলেজ, সিংদহ প্রাইমারী স্কুল, রামনগর হাইস্কুলে পড়াশুনা করতে শিক্ষার্থীদের সাকো পার হয়ে দক্ষিণের সুন্দরপুর ইউনিয়নে আসতে হয়। এলাকাবাসি জানান, সাঁকোর দক্ষিণের সিংদহ, আলাইপুর, খামারাইল, কাদিরকোল, রামনগর সুন্দরপুর গ্রামের মানুষ নদীর উত্তর পাড়ের মানুষের সাথে সহজে ও কম সময় ব্যয়ে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারে। এছাড়া দক্ষিণের মানুষেরা উত্তরের পার-শ্রীরামপুর ও চাঁচড়া গ্রামের মাটির তৈরী জিনিস ও ফার্নিসার ক্রয় করতে সাকোয় পারাপার হতে হয়।

এ ব্যাপারে ১নং সুন্দরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলিনুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিবছর তারা বেশ অর্থ ব্যয়ে বাঁশের সাকো তৈরী করে দেন, যা বছর শেষে নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন দুই ইউনিয়নের সংযোগ স্থাপনকারী এ সাকোর স্থলে ব্রীজ নির্মাণ হওয়া দরকার। ব্রীজ নির্মাণ হলে দুই ইউনিয়নের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রভূত উন্নতি সাধন হবে বলে তিনি মনে করেন। ব্রীজ নির্মাণের ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের সাথে কথা বলেছেন। এমপি বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত ব্রীজ নির্মাণের জন্য চেষ্টা করছেন বলে তাকে আশ্বস্থ করেছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, ৬ মাস আগে বদর ঘাটে ব্রিজ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্ধ চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের সুপারিশসহ একটি প্রস্তাবনা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

পাঠকের মতামত:

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর



রে