BD24Live
ঢাকা, রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭, ১২ চৈত্র ১৪২৩
জয়ন্ত শিরালী জয়,

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জে রিলে পদ্ধতির মসুরের বাম্পার ফলন

২০১৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৮:৩৬:৪২
গোপালগঞ্জে রিলে পদ্ধতির মসুরের বাম্পার ফলন

গোপালগঞ্জে রিলে পদ্ধতিতে বারি মসুর ৬ ও ৭ আবাদ করে কৃষক বাম্পার ফলন পেয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে এ জাতের মসুর ৬ মন ফলেছে। এ জেলার মাঝারি নিচু জমিতে আগে কৃষকরা খেশারি আবাদ করত। খেশারিতে তেমন লাভ হত না।

কৃষি গবেষনা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ডাল গবেষণা উপ-কেন্দ্র, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও গোপালগঞ্জ বেসিনে ফসল উৎপাদনের উন্নত প্রযুক্তির পাইলট প্রকল্পের পরামর্শে ৩ বছর আগে থেকে গোপালগঞ্জের কৃষক রিলে পদ্ধতিতে বারি মসুর ৬ ও ৭ জতের মসুর আবাদ শুরু করেন। খেশারির তুলনায় এ জাতের মসুরে বেশি ফলন পেয়ে কৃষক আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। একারণে গোপালগঞ্জে রিলে পদ্ধতিতে মসুর আবাদ প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গোপালগঞ্জ বেসিনে ফসল উৎপাদনের উন্নত প্রযুক্তির পাইলট প্রকল্পের সাইড কো অর্ডিনেটর নিখিল রঞ্জন মন্ডল জানান, গত ২০১৪ সালে এ জেলার ২০ বিঘা জমিতে রিলে পদ্ধতিতে কৃষক মসুরের আবাদ করে বাম্পার ফলন পান। ২০১৫ সালে ৪০ বিঘা জমিতে এ পদ্ধতিতে মসুরের আবাদ করা হয়। ২০১৬ সালে ১ শ’ বিঘা জমিতে কৃষক রিলে পদ্ধতিতে মসুরের আবাদ করেন। আগামী বছর লাভ জনক এ পদ্ধতিতে মসুর আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নিলফা গ্রামের কৃষক ওমর আলী শেখ বলেন, কোন প্রকার চাষাবাদ ছাড়াই ক্ষেতের রোপা আমন কাটার ১০/১৫ দিন আগে প্রয়োজনী সার দিয়ে বারি মসুর ৬ ও ৭ রোপন করি। মঝে সামান্য পরিচর্যা করেছি। প্রতি বিঘায় এবছর বারি মসুরের ৬ মন ফলন পেয়েছি।

একই গ্রামের কৃষক মফিজুর রহমান বলেন, আগে আমরা এ জমিতে খেশারি আবাদ করতাম। এতে লাভ হতো না। ৩ বছরে আগে গোপালগঞ্জ বেসিনে ফসল উৎপাদনের উন্নত প্রযুক্তির পাইলট প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণ, বীজ, সার, ছত্রাক নাশক প্রদান করে আমাদের রিলে পদ্ধতিতে বারি মসুর ৬ ও ৭ আবাদে উদ্¦ুদ্ধ করে। প্রথম বছরই আমরা বাম্পার ফলন পেয়ে লাভবান হই। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ খরচ কম। তাই মসুর রোপন করলে খেশারির তুলনায় বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকা বেশি লাভ হয়। এ কারণে আমাদের এলাকায় প্রতি বছর রিলে পদ্ধতিতে মসুরের আবাদে কৃষক ঝুকছেন।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারনের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হরলাল মধু বলেন, গোপালগঞ্জ মূলত নি¤œাঞ্চল। এখানে মাঝারি নিচু জমিতে জো আসতে দেরি হয়। এ জন্য কৃষক রোপা আমন কাটার পর মসুর চাষের সুযোগ পায়না। তাই খেশাড়ি রোপন করে থাকেন। রিলে পদ্ধতিতে এ জেলায় মসুর আবাদের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষককে রিলে পদ্ধতি সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করে মসুর আবাদ সম্প্রসারিত করা হলে কৃষক লাভবান হবেন। তারা একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। দেশে মসুরের উৎপাদন বৃদ্বি পাবে। এতে মসুরের আমদানী নির্ভরতা কমে আসবে।

গোপালগঞ্জ বেসিনে ফসল উৎপাদনের উন্নত প্রযুক্তির পাইলট প্রকল্পের পি.আই ও গাজীপুর ডাল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, রিলে পদ্ধতিতে মসুর রোপনে চাষাবাদের প্রয়োজন হয় না। জমিতে পানি সেচ দিতে হয়না। পানির অপচয় রোধ করা যায়। কৃষক অধিক ফলন পেয়ে লাভবান হন। জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। মসুর প্রটিনের অভাব পুরন করে।

পাঠকের মতামত:

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর



রে