স্পোর্টস ডেস্ক: আগামী ৮ মার্চ থেকে ভারতে বসবে টি২০ বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসর। টি২০ বিশ্বকাপ খেলে ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটকে গুডবাই জানাতে পারেন বাংলাদেশ দলের রঙিন পোষাকের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। মিরপুরের বাতাসে গত কয়েকদিন ধরে এমন সংবাদ হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে।

বিশেষ করে মাশরাফি ভক্তদের জন্য এটা বড়ই এক দুঃসংবাদ। কারণ এশিয়া কাপ ও টি২০ বিশ্বকাপের পর টি২০ ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন মাশরাফি। শুধুমাত্র রঙিন পোষাক পরে ওয়ানডে ম্যাচ খেলবেন বলেই জানিয়েছে নড়াইল এক্সপ্রেসের ঘনিষ্ঠ সূত্র।

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে ইনজুরির কবলে পড়েন মাশরাফি। অথচ ছয় বছর আগের সেই মাশরাফি এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে ও টি২০ অধিনায়ক। যদিও তার ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে ছয়-ছয়বার ছুরি-কাঁচির নিচে যেতে হয়েছে। একটা সময় তার ক্রিকেট খেলা নিয়েও জেগেছিল শঙ্কা। তবে সব বাঁধা পেছনে ফেলে বীরের মতো এগিয়ে যাচ্ছেন নড়াইল এক্সপ্রেস।

তাই তো গত দেড় বছর ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট তার হাত ধরেই বদলে গেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তিনি এই ক’বছর দুই হাত ভরে দিয়েছেন শুধু।
২০০১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর ১৬ বছর ধরে খেলে চলেছেন এবং দাপটের সঙ্গেই খেলছেন। ওয়ানডে ক্রিকেটই তার প্রমাণ। দুই হাঁটুতে ব্যান্ডেজ নিয়ে নিয়মিত ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে চলেছেন। শরীরটা এখন অনেক ক্লান্ত।

তাই জাতীয় দলের রঙিন পোষাকে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ক্রিকেট ছেড়ে দিচ্ছেন। তাই বলে সব ফরম্যাটের ক্রিকেট থেকে নয়। টেস্ট তো খেলছেনই না মাশরাফি অনেকদিন ধরেই। তাই এবার ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে টি২০ ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা আসতে পারে মাশরাফির পক্ষ থেকে!

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা আবিস্কার মাশরাফি। তবে এই বিষয়টি নিয়ে-অনেকেই দ্বিমতও করতে পারেন। এটা সত্যি, ছয় ছয়বার অস্ত্রোপচার করে যেভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন সেটা বিরল। গোটা ক্রিকেট বিশ্বে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে কাউকে খুঁজে পাওযা যাবে না।

এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমি ক্রিকেট ভালোবাসি। তাই নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে এখনও ক্রিকেট খেলছি। আমার মতো অবস্থা নিয়ে কোনো ক্রিকেটার ক্রিকেট খেলেছেন তা আমার জানা নেই।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সফলতা ও ব্যর্থতার রাজ সাক্ষী মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২০০১ সালে ওয়ানডে ও টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল নড়াইল এক্সপ্রেসের। বোলার ও অধিনায়ক হিসাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার অবদান বলে শেষ করা যাবে না। তাই এশিয়া কাপ ও টি২০ বিশ্বকাপের পরে অবসরের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে পারেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।