আরিফুল ইসলাম,

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন অধ্যাদেশ রহিত করে জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন আইন-২০১৬ নামে একটি আইন পাস হয়েছে। রবিবার বিকেলে বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কন্ঠ ভোটে পাস হয়।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা।

এ বিষয়ে আলোচনা উত্থাপনকালে স্পিকারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ফখরুল ইমাম। তিনি বারবারই দাবি করেন, উত্থাপিত বিলে ভুল আছে। তিনি প্রতিমন্ত্রীকে তা বোঝাতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী তা মানতে রাজী হননি। পরে তিনি বলেন, আমি সংসদে উপস্থিতি থাকতে একটি ভুল আইন পাস করবেন, সেটা হতে পারে না। তাই আমি সংসদ থেকে বাইরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছি। এরপর তিনি আসন ছেড়ে চলে যান।

এরআগে ফখরুল ইমাম বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অ্যাক্ট-১৯৭৪ রয়েছে। এরপর আবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিল-২০১৬ পাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একটি আইনের মধ্যে আরেকটি আইন। এটা সম্পূর্ণ ভুল। এভাবে একটি ভুল আইন পাস করিয়ে নেবেন, প্রতিমন্ত্রী কোন বিবৃতি দিবেন না? তা হতে পারে না। ভুল সংশোধন না করে আইন পাস হলে আমি থাকতে পারবো না।

এসময় স্পিকার তাকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন অর্ডিন্যান্স-১৯৭৬ পৃথক একটি আইন। সেটা থাকলে সমস্যা কি? জবাবে ফখরুল ইমাম বলেন, সমস্যা আছে মাননীয় স্পিকার। একটি আইন থাকতে আরেকটি আইন হতে পারে না। এরপর স্পিকার আবার বলেন, দুইটা আলাদা আইন। আপনার কোন “ক্ল্যারিফিকেশন” থাকলে বলেন। পরে তিনি ওই ব্যাখ্যা দিয়ে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

এদিকে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পেট্রোলিয়াম আমদানি মজুদ ও পরিবহনে বিধিমালা অনুযায়ী রেগুলেট করা হবে। উৎপাদন, শোধন ও রিসাইক্লিং করতে হবে বিধিমালা অনুসারে। আর সতর্কবাণী বাধ্যতামূলক থাকবে। বিধিমালা লঙ্ঘন করলে দন্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে কেউ যদি বিধান লঙ্ঘন করলে ছয় মাস জেল বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। পুনরায় অপরাধ করলে এক বছর জেল বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে কর্পোরেশনের অনুমোদিত মূলধন ৫ কোটি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয়, পরিচালনা ও প্রশাসন, পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান ও পরিচালক নিযুক্ত এবং তাদের কার্যাবলী, পরিচালনা পর্ষদের সভা, কর্পোরেশনের কার্যাবলী, নতুন কোম্পানি গঠন, সংরক্ষিত তহবিল, হিসাব পরিচালন, বিনিয়োগ, শেয়ার বিক্রয়, বাজেট, জনবল কাঠামো, বার্ষিক প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আইনটি কার্যকর হবে।