মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম,

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান সদর উপজেলা সহ দুর্গম পল্লীতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়ে। বিশুদ্ধ পানির সংকটে বাধ্য হয়ে গ্রামবাসী পান করছেন ঝিরি-ঝর্ণার পানি। ভুগছেন পানিবাহিত নানা অসুখে।

সদর উপজেলার আমতলি পাড়া, টাইগার পাড়া গিয়াসমনি পাড়া, তঞ্চৈগাপাড়া এলাকাসহ বেশকয়টি দুর্গম এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিশুদ্ধ পানির উৎসগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নদী ও ঝর্ণার ঘোলা পানি খাওয়া ও ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে গ্রামবাসী।

গ্রামবাসীরা জানান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর উদ্যোগে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা রিংওয়েল, টিউবওয়েলগুলো নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জিএফ পাইপ লাইনের মাধ্যমে দুর্গম এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নেওয়া কয়েক কোটি টাকার প্রকল্পও কাজে আসেনি।

বেশ কয়েকজন পাহাড়িদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুস্ক মৌসুমে পাত কুয়ার পাথরের মধ্যে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিই একমাত্র ভরসা বান্দরবানের বিশাল পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর। পাহাড়ের চূড়ার বাসিন্দাদের পানির উৎস ঝর্ণাধারা। কিন্তু প্রকৃতি ধ্বংস করে নির্বিচারে বনাঞ্চল উজাড় এবং ঝিরি-ঝর্ণা থেকে পাথর উত্তোলনের কারণে বান্দরবানে পানির উৎসস্থলগুলো প্রতিনিয়ত শুকিয়ে যাচ্ছে।

চিম্বুক পাহাড়ের বাসিন্দা চংপাত ¤্রাে, টাইগার পাড়ার বাসিন্দার হেবল ত্রিপুরাসহ অনেকে জানান, বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে পানি আনতে পায়ে হেটে বহু দূরের পথ পাড়ি দিয়ে পানি আনতে হয় তাদের।

এব্যাপারে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, চাহিদার বিপরীতে শতকরা ৪৯.২০ শতাংশ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য রিংওয়েল, টিউবওয়েল এবং জিএফএস নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে গৃহীত প্রকল্পগুলোর সুবিধাও ভোগ করছে লোকজন।’

তিনি আরো বলেন, ভূ-প্রকৃতিগতভাবে বান্দরবান জেলায় পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এ ছাড়াও বনাঞ্চল উজাড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানির উৎস স্থলগুলো শুকিয়ে গেছে। এগুলো সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।