রংপুর প্রতিনিধি:

রংপুরের মিঠাপুকুরে দু'পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে মাসুদ রানা নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মৃতদেহ নিয়ে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, উপজেলা গড়ের মাথা এলাকায় মিঠাপুকুর-ফুলবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মোঘল আমলে নির্মিত মসজিদের কাছে দুলাল মিয়া ও শফিকুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। খবর পেয়ে আব্দুল্লাহ্ আল মাসুদ (৪০) নামের এক যুবক ঘটনাস্থলে গিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ঘ থামানোর চেষ্টা করেন। এসময় একপক্ষের লোকেরা মাসুদের বুকে ও শরীরের বিভিন্নস্থানে এলোপাাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহত মাসুদ উপজেলার রশিদপুর গ্রামের ডা. আশরাফ আলীর ছেলে। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তার মৃতদেহ মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রেখে দেয়া হয়।

এরপর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের দু'পাশে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

এদিকে, মাসুদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে নারীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন-রশিদপুর গ্রামের দুলাল মিয়া, মো. রানা, লতা বেগম, শেফালী বেগম ও মাজেদুল ইসলাম।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, 'প্রেমঘটিত একটি বিয়ের সাক্ষী দেওয়া নিয়ে দুলাল ও শফিকুলের পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ঘ শুরু হয়। নিহত আব্দুল্লাহ্ আল মাসুদ সেখানে মারামারি বন্ধ করার জন্য গিয়েছিলেন। এ কারণে দুলাল পক্ষের ছুরিকাঘাতে তিনি মারা যান।'

ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আর বলেন, 'এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।