ঢাকা: জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ এনে সন্ত্রাস দমন আইনে করা দুই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিএনপিপন্থি আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার জামিন স্থগিতের মেয়াদ ২০ মার্চ পর্যন্ত বেড়ে গেলো। আপাতত আগামী ২০ মার্চের আগেই তিনি কারামুক্ত হতে পারছেন না।

এ সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের কপি বের হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল দায়ের করতে বলেছেন আদালত। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন।

আজ আদালতে শাকিলার ফারজানার পক্ষে শুনানী করেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি শাকিলার জামিন প্রশ্নে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি করে হাইকোর্টের একটি বিভিশন বেঞ্চ শাকিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করা পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এই স্থগিতাদেশ দিয়ে ২৯ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। আজ সে বিষয়ে শুনানী করে আদালত এ আদেশ দেন।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি হাই কোর্টের একই বেঞ্চ সন্ত্রাস দমন আইনে করা ওই দুই মামলায় শাকিলা ফারজানাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চায়। দুই সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

এর আগে গত বছরের ২৮ নভেম্বর বিচারিক আদালতে শাকিলার জামিন না মঞ্জুর হয়। ১২ জানুয়ারি হাই কোর্টে জামিন আবেদন করা হলে পরদিন প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত ওই রুল দেয়।

হামজা ব্রিগেড নামের একটি জঙ্গি সংগঠনকে অস্ত্র কেনার জন্য এক কোটি ৮ লাখ টাকা যোগানোর অভিযোগে গত বছরের ১৮ অগাস্ট রাতে ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে হাসানুজ্জামান লিটন ও মাহফুজ চৌধুরী বাপনসহ চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে আইনজীবী ব্যরিস্টার শাকিলা ফারজানাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এর মধ্যে আইনজীবী লিটন সুপ্রিম কোর্টে ও আইনজীবী মাহফুজ চৌধুরী বাপন ঢাকা জজ কোর্টে কর্মরত।

পরে বাঁশখালী ও হাটহাজারী থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সন্ত্রাস দমন আইনে হাটহাজারী থানায় দায়ের করা মামলায় আইনজীবী লিটন ও বাপন গত ১৪ ডিসেম্বর জামিন পান।

চট্টগ্রামের অবকাশকালীন জজের দায়িত্বে থাকা চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নূরুল ইসলাম ওইদিন তাদের জামিন মঞ্জুর করে। সন্ত্রাস দমন আইনে করা বাঁশখালী থানার এক মামলায় এর আগে জামিন পান ওই দুই আইনজীবী।পরে গত ১৫ ডিসেম্বর তারা মুক্তি পান।