মোঃ খায়রুল ইসলাম, 
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা:

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির নয়া-কমিটি নিয়ে দু’গ্রুপের জোর লবিং চলছে। এতে কোন্দল আরো ঘনিভুত হয়েছে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকাও করছেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। জানা গেছে, জেলা সংগঠনের কাছে পাল্টাপাল্টি কমিটির তালিকা দিয়েছে বিবাদমান ঘাটাইল উপজেলা ও পৌর বিএনপি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি মো. সিরাজুল হক ছানা ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত ১০১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন-কমিটির অনুমোদন চেয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি তালিকা জমা দেয় জেলায়।

অপর গ্র“পের উপজেলা সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. লুৎফর রহমান খান আজাদ পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মুঞ্জুরুল ইসলাম মুঞ্জু স্বাক্ষরিত ১০১ সদস্য বিশিষ্ট আলাদা কমিটির অনুমোদন চেয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির কাছে তালিকা জমা দিয়েছেন। তবে লুৎফর রহমান খান ১/১১’র সময় সংস্কারপন্থি ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তাকে নিয়ে দলের মধ্যে ব্যাপক বিরোধীতা রয়েছে।

গ্র“পিং প্রসঙ্গে সিরাজুল হক ছানা আমাদের সংবাদকর্মীকে জানান, উপজেলা ও পৌর বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ রেখে নিজেই সভাপতি সেজে তার মনগড়া লোক নিয়ে গঠনতন্ত্রের বহির্ভুত কমিটি অনুমোদনের জন্য পায়তারা চালাচ্ছে লুৎফর। এতে ঘাটাইল বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ নেতা কর্মীরা মো. লুৎফর রহমান খান আজাদের সভাপতিত্ব মেনে নিতে পারছেন না। তারা চাচ্ছেন- উভয় গ্রুপের কোন্দল মিটিয়ে বর্তমান সভাপতি সিরাজুল হক ছানাকে সভাপতি ঠিক রেখে উপজেলা বিএনপিকে শক্তিশালি করে পুনঃগঠন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিকাংশ নেতাকর্মীর দাবি জানান, লুৎফর রহমান খান আজাদ সংস্কারপন্থি হিসেবে দলের মধ্যে একজন অবাঞ্চিত নেতা। আজাদের অনৈতিক ও দলের নিয়ম বহির্ভূত কার্যকলাপে ইতিপূর্বে ঘাটাইল পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র আব্দুর রশিদ মিয়াসহ অনেক ত্যাগী নেতা অন্য দলে যোগ দিয়েছেন।

সূত্র বলছে, গ্রুপিং থাকায় প্রতিমন্ত্রীর গ্র“প ঘাটাইল সদরে সম্মেলন করতে না পেরে উপজেলার ২০ কি.মি. দূরে গারো বাজার এলাকার ছলিং বাজার সংলগ্ন এসডিএস এলাকায় সম্মেলন করে ১০১ সদস্য কমিটি প্রস্তুত করেছে।

অপরদিকে মো. মাইনুল ইসলামের গ্র“প ঘাটাইল সদরে গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন একটি মাঠে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সিরাজুল হক ছানার সভাপতিত্বে সম্মেলন করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি প্রস্তুত করে জেলা বিএনপি বরাবরে জমা দিয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ, কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আমান বিল্ডার্স লিমিটেড’র চেয়ারম্যান মো. মাইনুল ইসলাম এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের জানান, ঘাটাইল বিএনপিতে গ্রুপিং’র প্রধান হোতা মো. লুৎফর রহমান খান আজাদ। ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে আমার দাবি থাকবে, যাতে ঘাটাইল বিএনপি একটি শক্তিশালি সংগঠন হয়। এজন্য যেখানে যা প্রয়োজন, সে পদক্ষেপ কামনা করছি। একই কথা বলেছেন- সাবেক এমপি মো. সায়েদুর রহমান খান মহনসহ অনেকেই।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মো. শামছুল আলম তোফা এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘাটাইলের দ’গ্র“প কর্তৃক বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটি জেলায় জমা পড়েছে। তা কোনটিই এখনও অনুমোদন হয়নি। ঘাটাইল বিএনপির গ্র“পিং নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চেষ্টা চালাচ্ছি।