প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

অনশনের পর স্ত্রীর স্বীকৃতি পেলেন অন্তঃসত্ত্বা নারী

   
প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, ৩০ অক্টোবর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী তার অনাগত সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়ির দরজায় অনশন করেন। উপজেলার ধরঞ্জীর মিজাপুর গ্রামে বুধবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই অন্তঃসত্ত্বা নারী অনশন করেন। এ সময় বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে স্বামী ও তার পরিবার পালিয়ে যায়। রাতে স্থানীয়রা মেয়েটিকে পাশের বাড়িতে নিরাপদ স্থানে রেখে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় স্বামী ও তার পরিবার মেয়েটিকে পুত্রবধূ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাড়িতে তোলেন।

অন্তঃসত্ত্বা নারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে জাবেদ হোসেনের (৩৫) সঙ্গে মুন্সিগঞ্জের রেজাউল করিমের মেয়ে রোকেয়া রেজা ফারজানা (৩০) ঢাকায় বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিতে চাকরি করার সময় ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২১ জুন ঢাকায় কাজী অফিসে তারা বিয়ে করেন।

কয়েক মাস পর জাবেদের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। সেপ্টেম্বর মাসের ২৬ তারিখে স্বামী জাবেদ হোসেন সিরাজগঞ্জে একটি চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলে চলে আসে। তারপর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেন জাবেদ। তার কোনো খোঁজ না পেয়ে নিকাহনামা নিয়ে বুধবার সকালে জাবেদের বাড়িতে আসেন স্ত্রী। কিন্তু তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন চলে যায়। তখন মেয়েটি বাড়ির দরজার সামনে গভীর রাত পর্যন্ত অনশন করেন।

প্রতিবেশীরা রাতে স্থানীয় কায়েম উদ্দিনের বাড়িতে মেয়েটি নিরাপদ স্থানে রাখে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন মেয়েটিকে পুত্রবধূ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাড়িতে তোলেন।

এ ব্যাপারে রোকেয়া রেজা ফারজানা বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার আমাকে স্ত্রী’র স্বীকৃতি দিয়ে জাবেদ ও তার পরিবার বাড়িতে তুলেছে। আবারও নতুন করে মৌলভি দিয়ে বিয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।

পাঁচবিবি ধরঞ্জি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাহাফুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আমি ও গ্রামবাসী মিলে রাতে মেয়েটিকে প্রতিবেশীর বাড়িতে নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা করি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে জাবেদের পরিবার মেয়েটিকে পুত্রবধূ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাড়িতে তোলেন।

পাঁচবিবি থানার ওসি মুনসুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তারা যদি স্থানীয়ভাবে সমাধান করতে পারে করুক। তারপরও যদি আইনগত সহযোগিতা চাইলে আমরা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: