অনশনে বসবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য!

   
প্রকাশিত: ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ, ৮ জানুয়ারি ২০২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচার করতে না পারলে নিজেই অনশনে বসবেন বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে রাজু ভাস্কর্যে চার শিক্ষার্থীর অনশন ভাঙাতে এসে তিনি একথা বলেন। জড়িতকে গ্রেপ্তার ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাসহ চার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেছিলেন চার শিক্ষার্থী। ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার অর্জনে সর্বোচ্চ চেষ্টার আশ্বাস দিয়ে মঙ্গলবার রাতে তাদের অনশন ভাঙিয়েছেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘এই নরপিশাচদের বিচার অর্জন করতে না পারলে আমি নিজেই অনশনে বসব।’ গত রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার পথে কুর্মিটোলা এলাকায় ধর্ষণের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মধ্যরাতেই অনশনে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্র সিফাতুল ইসলাম। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের ছাত্র ও ডাকসুর সদস্য সাইফুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ও হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের সদস্য আবদুর রহমান এবং তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের অনশন ভাঙাতে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজু ভাস্কর্যে আসেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। এ সময় উপাচার্য ও তার সঙ্গে থাকা শিক্ষকেরা তাদের অনশন ভাঙার অনুরোধ করলে প্রথমে তারা রাজি হননি।

পরে উপাচার্য ও অন্য শিক্ষকেরা তাদের আশ্বস্ত করেন, এই ঘটনার বিচার আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর আছে। উপাচার্য তখন বলেন, ‘যে বা যারা আমাদের ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করেছে, সে বা তারা কোনো মানুষ নয়, নরপিশাচ। এই নরপিশাচদের বিচার অর্জন করতে না পারলে আমি নিজেই অনশনে বসব।’ এরপর উপাচার্য জুস খাইয়ে চার শিক্ষার্থীর অনশন ভাঙান। পরে গুরুতর অসুস্থ মোস্তাফিজুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্য তিন অনশনকারী শিক্ষার্থীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। অনশন ভাঙানোর পর উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ তৎপর আছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। ধর্ষককে বিচারের আওতায় আসতেই হবে।’ ধর্ষককে গ্রেপ্তার ছাড়াও তাদের অন্য দাবিগুলো ছিল-ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে, ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নিতে হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: