প্রচ্ছদ / অপরাধ / বিস্তারিত

অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন কর্মকর্তারা, পরিবারে তোলপাড়

   
প্রকাশিত: ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ, ২৮ নভেম্বর ২০১৯

অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা। সম্প্রতি জামালপুরের ডিসির অনৈতিক ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর থেকে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাদের স্ত্রীর করা অভিযোগ জমা হচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু অভিযোগগুলোর বড় অংশই সেখানেই চাপা পড়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ কিছু কিছু দফতরের চাপের কারণে হাতেগোনা কিছু অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। এসব অভিযোগ তদন্তও করছেন নিজ ক্যাডারেরই সিনিয়র কর্মকর্তারা। তদন্তের নামে নানা কৌশলে অভিযুক্ত জুনিয়র কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে। আবার কিছু কিছু ঘটনা গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ওএসডি করার মাধ্যমে আইওয়াশ করা হচ্ছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত অব্যাহত থাকলেও তদবিরের মাধ্যমে পদোন্নতি লাভ ও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করার ঘটনাও ঘটছে। ফলে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছেন প্রশাসন ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তা। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের প্রমাণসহ অভিযোগ উঠলেও খুব কম ক্ষেত্রেই শাস্তি পাচ্ছেন তারা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ১০ বছরে প্রশাসনের দুই হাজার ৭৪৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগ তদন্ত করে মাত্র ৩৬৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে ৩৬৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। এর আগেসহ এ নিয়ে মোট ৪৪০টি বিভাগীয় মামলার মধ্যে গত ১০ বছরে ৬৭ জন কর্মকর্তাকে গুরুদণ্ড, ১২৬ কর্মকর্তাকে লঘুদণ্ড, ২০৩ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৪৪টি বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

২০১৪ সালে রূপগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা আবু জাফর রাশেদ। স্ত্রী ও দুই মেয়ে থাকা সত্ত্বেও তিনি সেখানে কর্মরত থাকাকালে এক বিবাহিত নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। স্ত্রী এর প্রতিবাদ করলে তার ওপর মানুষিক ও শারীরিক নির্যাতন করতে থাকেন তিনি। ওই বছরের ১৩ মার্চ স্ত্রী ও দুই মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেন তিনি। এরপর ৩০ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর একই অভিযোগ করেন অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ওই নারীর স্বামীও। এরপর ৮ এপ্রিল আবু জাফর রাশেদকে ওএসডি ও ১৫ এপ্রিল সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অভিযুক্তের স্ত্রী এবং অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানো নারীর স্বামীর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করার পরও অভিযুক্ত আবু জাফর রাশেদকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এরপর গত বছরের ২৭ এপ্রিল কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব (উপসচিব) পদে পদোন্নতি পান তিনি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অভিযোগের প্রতিকার না পেয়ে ওই নারী প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার আবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করলে আবারো তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এখনো বিচারের আশায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন ওই নারী।

এসএআর/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: