অবশেষে সৌদির মসজিদে পড়ে থাকা বাংলাদেশি হাসপাতালে ভর্তি

   
প্রকাশিত: ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ, ১৭ মে ২০২০

লাখ লাখ টাকা খরচ করে প্রবাসে এসে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকে। কেউ ফুটপাতে কেউ মসজিদের বারান্দায় কেউবা অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। চাঁদপুরের আবুল হোসাইনকে দেশটির রাজধানী রিয়াদের বন্ধ একটি মসজিদের বারান্দা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। করোনা মহামারির এই সময়ে সৌদি আরবের মসজিদগুলোতে শুধুমাত্র আজান হলেও জামায়াতে কোন মসজিদে নামাজ হয় না প্রায় দুমাস যাবৎ। তাই, মানুষের চলাফেরা নেই মসজিদে। ওরকমই একটি বন্ধ মসজিদে অসহায় এবং অসুস্হ আবুল হোসাইনকে কেউ রেখে যায়। খবর পেয়ে সোশ্যাল এক্টিভিস্ট আব্দুল হালিম নিহন তাকে উদ্ধার করে রিয়াদের সেমুছি হাসপাতালে ভর্তি করাতে সক্ষম হন।

আব্দুল হালিম নিহন জানান, লিটন নামের এক প্রবাসী তাকে সংবাদ দিয়েছেন ঐ মসজিদে একজন বাংলাদেশি দীর্ঘদিন পড়ে আছেন। সেখানে উপস্হিত হয়ে তিনি জানতে পারেন, অসুস্হ ব্যক্তির নাম আবুল হোসাইন, তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়েনর বকচর গ্রামে। তার পিতার নাম আলী মিয়া। সে ২ মাস যাবৎ শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন, প্রথম প্রথম স্থানীয় একটি মেডিকেলের চিকিৎসা নিলেও উন্নতি হয়নি কিছুদিন পর প্যারালাইসিস আক্রান্ত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে প্যারালাইসিস হয়ে অচল হয়ে যান, তার উপরে মহামারি করোনাভাইরাসের হানা। যার ফলে সঠিক ভাবে আর চিকিৎসা নিতে পারেননি তিনি। সর্বশেষ তার বড় ভাইসহ কয়েকটি মেডিকেলে গেলেও তাকে ভর্তির সুযোগ দেয়নি।

এমতাবস্থায় তাকে কে বা কারা মসজিদে রেখে গেলেন সেই তথ্য উঠে না আসলেও আবুল হোসাইনের শরীরের অবস্থা তেমন কোন দিক দিয়ে ভালো ছিল না। শুয়ে থাকতে থাকতে তার কোমরের নিছে ঘা হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। যে ঘা থেকে অনবরত পানি ঝরছিল। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে আহবান জানান তাকে সহায়তার হাত বাড়ানোর জন্য কিন্তু ব্যাপক হারে লাইক শেয়ার এবং ভিউ হলেও কারো কাছ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই, আবুল হোসাইনকে নিয়ে যাওয়া হয় রিয়াদের বিখ্যাত সেমুছি হাসপাতালে। সেখানে অনেক প্রক্রিয়া শেষে তাকে ভর্তি করাতে সক্ষম হন তিনি এবং তার সহকারি লোকজন। বর্তমানে আবুল হোসাইন সেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি তিনমাস ধরে রিয়াদের ফুটপাতে পড়ে থাকা নওগাঁর তসলিমকেও সেখান থেকে তুলে নিয়ে আশ্রয় দিয়েছেন একটি রুমে। তার বাড়ী জেলার সদর উপজেলার তিলোকপুর ইউনিয়ন চৌধুরী পাড়ায়। তার বাবার নাম তোফাজ্জল হোসেন। দেশে পাঠানো পর্যন্ত তার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। এভাবে অনেক প্রবাসী বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু মুখে পতিত হলেও নজরে আসছে না প্রবাসীদের সুখ দুঃখ দেখার দায়িত্বে থাকা কতৃপক্ষের।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: