অবৈধপথে গ্রিস যাওয়ার সময় বরফে মৃত্যু হলো সিলেটি যুবকের

   
প্রকাশিত: ১০:১২ পূর্বাহ্ণ, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্যবসা ছেড়ে অবৈধপথে গ্রিস পাড়ি দিতে গিয়ে সিলেটের যুবক এনামুল এহসান জায়গিরদার ফয়সল (২৫) গ্রিসের তুষার পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন। ফয়সলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচাতো ভাই। ফয়সলের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড় ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে। তার বাবা মুশহুদ আহমদ জায়গীদার। তিন ভাই, এক বোনের মধ্যে ফয়সল ছিলেন দ্বিতীয়।

ফয়সলের স্বজনরা জানান, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পাহাড়েই মারা যান ফয়সল। দালালদের কারণে ফয়সলের মরদেহ আনা সম্ভব হয়নি। তবে জায়গাটি শনাক্ত করে রাখতে গাছের সঙ্গে হাতমোজা ঝুলিয়ে রাখা হয়। ফয়সলের চাচাতো ভাই নাজমুল হোসেন জানান, বালাগঞ্জের বোয়ালজুড় বাজারে ফয়সলের স্টেশনারির দোকান ছিল। সেই ব্যবসা ছেড়ে প্রায় ৫ বছর আগে ওমান পাড়ি দেন ফয়সল। সেখানে তিনি একটি সুপার শপে কাজ করতেন। এরই মাঝে গত ৫ মাস আগে দালালদের মাধমে ওমান থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওয়ানা দেন ফয়সল। মাঝে ৫ মাস তুরস্কে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দিয়ে শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গন্তব্য গ্রিসের সীমানায় ঢুকে মারা যান ফয়সল। এদিকে এরই মাঝে ফয়সলের মরদেহের খোঁজে যুক্তরাজ্য থেকে তার চাচা গ্রিসে গেছেন। মরদেহের খোঁজে তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেখানকার দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছেন। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও দেশে অবস্থানরত ফয়সলের সহপাঠীরা জানান, তার ওমান যাওয়ার নেপথ্যে উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপের কোনো এক দেশে পাড়ি জমানো। তাই উন্নত জীবনের আশায় দালাল মারফত মাস ছয়েক আগে ওমান থেকে ইরান হয়ে তুর্কি পৌঁছান তিনি। সেখানে ৫ মাসের মতো অবস্থান করে সুযোগ খোঁজেন গ্রিসে প্রবেশের। কিন্তু তার সেই স্বপ্নযাত্রা গ্রিসের তুষার পাহাড়ে চাপা পড়েছে। একমাত্র ফয়সল ছাড়া বহরের বাকি ৯ জনই গ্রিসে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: