প্রচ্ছদ / মানবজমিন / বিস্তারিত

‘আজহারীর ব্যাপারে এতো আপত্তি কেন?’

   
প্রকাশিত: ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

তামান্না মোমিন খান: পল্লবীর মসজিদুল জুমা কমপ্লেক্স-এর খতীব আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেছেন, সংসদে দাঁড়িয়ে যে মানুষগুলো মিজানুর রহমান আজহারীকে গ্রেপ্তারের কথা বলছেন, সেই মানুষগুলো বরাবরই ইসলাম বিদ্বেষী-কুরআন বিদ্বেষী কথা বলে আসছেন। কেউ যখন আল্লাহকে নিয়ে চূড়ান্ত কটুক্তি করছে বা শরীয়ত-বয়াতী নাম দিয়ে বেশরীয়তি কথাবার্তা-কাজকর্ম করছে, তখন সংসদে এই মানুষগুলোর মুখে কোন কথা শুনি না। আল্লাহর বিপক্ষে কথা বললে তারা সংসদে কোন কথা বলেন না, কিন্তু কেউ যদি কুরআনের পক্ষে কথা বলে তবে তারা তাদের বিপক্ষে কথা বলেন। এতে বোঝা যায় তাদের নিরপেক্ষ কোন মন-মানসিকতা নাই। তারা ইসলামের এই জিনিসগুলোকে পছন্দ করেন না বলেই সংসদে এসব কথা বলেন। সুতরাং এই মানুষগুলো বলাতে ইনশাল্লাহ আমাদের মেজরিটি শ্রেণির কিছু যায়-আসে না।

তিনি বলেন, এখানে আমাদের কনর্সান হওয়ার মত অনেকগুলো জায়গা আছে। যারা এসব কথা বলছেন, আরও যারা সংসদ সদস্য আছেন তাদেরকে চুপ করানো দরকার। আমাদের আশা, যারা এ ধরনের কথা বলছেন তারা সুবিবেচক হবেন। রাজনীতিবিদরা অনেক পুরাতন মানুষ, তারা এ ধরনের কথা বলতে পারেন না।

সাইফুল্লাহ বলেন, আমরা যারা মাঠে কথা বলছি, আমাদের কিছু ভুলক্রুটি থাকতে পারে। কথাবার্তার ভুল, আবেগের ভুল, বয়সের ভুল। আজহারীর বয়সই বা কত। ত্রিশ বছরের কিছু বেশি। সরকারের পক্ষ থেকে বা যারা এসব বলছেন- তারা যদি আমাদের ডেকে বলতেন, আমি একজন সংসদ সদস্য, একজন সিনিয়র মানুষ, আপনি কুরআনের কথা বলছেন, আপনার এই কথায় আমাদের আপত্তি আছে। আপনি এই বিষয়গুলো আমাকে ক্লিয়ার করেন। ওয়াজ তো আজকাল ধরে হচ্ছে না বাংলাদেশে। স্বাধীনের আগে থেকে দু’শো বছর ধরে ভারত উপমহাদেশে উলামা-ইকরাম, পীর আউলিয়াগণ এই ওয়াজের মাধ্যমে মানুষকে নসিয়ত করতেন।

আজহারীর ব্যাপারে তাদের এত বেশি আপত্তি কেন? এ প্রশ্ন ছুঁড়ে পল্লবী মসজিদের খতিব নিজেই বলেন, কারণ একটাই- বিশ বছর ধরে আমাদের যে গৎ বাঁধা ওয়াজের নিয়ম ছিলো, সেই নিয়মের বাইরে একজন মানুষ, যিনি আমাদের কাছে সামাজিক মেসেজগুলো এত সুন্দরভাবে দিচ্ছেন যে, যুবকরা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। যেই মানুষগুলো নামাজ পড়তো না, সেই মানুষগুলো নামাজি হচ্ছে। যেই মানুষগুলো মেয়েদের নিয়ে টিজ করতো, তারা সেই লেভেল থেকে বেরিয়ে আসছে। যাদের কুরআনের প্রতি ভালোবাসা ছিলো না, এক সময় গান বাজাতো, বেহায়াপনা-নেশাদ্রব্যের মধ্যে মিশে ছিলো, তারা আস্তে আস্তে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বুঝতে পারছে এটা কোন জীবন নয়, আমাকে একটি সুন্দর জীবন ইসলাম দিয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আজহারীর বক্তব্যের মাধ্যমে অনেক মানুষকে আকৃষ্ট করেছেন। এই আকৃষ্ট করাতে একটা শ্রেণি চিন্তা করছে, আহারে! সারাজীবন যাদের কমিউনিজম বুঝালাম, নাস্তিকক্যবাদের শিক্ষা দিলাম, সারাজীবন বোঝালাম ইসলাম শুধুমাত্র নামাজ পড়া আর জানাজার নামাজ পর্যন্ত ধর্ম। ইসলাম সব জায়গায় লাগেও না, চলেও না। এখন আজাহারীর বক্তব্যের মাধ্যমে যুব সমাজ বুঝতে পেরেছে যেই নেতাদের পেছনে এতদিন ঘুরেছি তারা আমাদের আল্লাহ চেনায় নাই, সঠিক ইসলামের রাস্তা দেখায় নাই। তারা আমাদের ব্যবহার করে তাদের রাজনৈতিক মেনিফেস্টো বাস্তবায়ন করছে। আজাহারী বলছেন, আপনারা যে যাই করেন, আল্লাহর বান্দা হতে হবে। এই দাওয়াতে যুবকরা ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে, উনাদের মাঠ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এটা হচ্ছে উনাদের সবচেয়ে বড় মাথা ব্যাথা।

আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, আমি বলবো, তাদের এই ভুলের থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, ইসলাম অনুসরন করতে হবে। আমাদের দেশে একটা কথা প্রচলিত অমুক দল ইসলাম কায়েম করবে, তমুক দল সংসদে আল্লাহর আইন কায়েম করবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের থিউরি কিন্তু এটা নয়। আল্লাহ কুরআনুল কারীমের মধ্যে বলেছেন- যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের মধ্যে যারা চারটি কাজ করবে তারাই আল্লাহর দল। সালাত কায়েম করা, যাকাতভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়া, সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও অসৎ কাজ দূর করা। যারা এসব করবে তারাই আল্লাহর দল।

তিনি আরও বলেন, উনারা মনে করেন আমরা মনে হয় লোকজনকে বুঝিয়ে- শুনিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে চায়। এটা ঠিক না। ভ্রান্ত ধারণা। আমরা সকলকে নিয়ে কথা বলি। আমরা কুরআনের মেসেজটা দিতে চাই। আমরা কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী বা এজেন্ট হয়ে কাজ করি না। আমাদের এই ধরনের কোন অ্যাম্বিশন নেই। আমাদের অ্যাম্বিশন মানুষের মধ্যে থেকে চারটা জিনিস দূর করে দেয়া। এক- ইসলামের যে অজ্ঞতা এটা থাকবে না, দুই- ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে, তিন- নামাজভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়তে হবে, চার-সমাজের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে হবে। আমরা সবাই আল্লাহর সৃষ্টি মানুষ হিসেবে ভেদাভেদহীন সমাজ গড়তে চাই। সূত্র: মানবজমিন।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: