প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মোঃ শরীফ আহমেদ

চাঁদপুর প্রতিনিধি

আজ সব হারিয়ে নিঃস্ব স্মৃতি!

   
প্রকাশিত: ১২:২২ অপরাহ্ণ, ২ জুলাই ২০২০

একদিন সবই ছিল স্মৃতির। বাবা মায়ের আদরের ছোট মেয়ে ছিল স্মৃতি আক্তার। আদরে আনন্দে কাটছিল স্মৃতির শৈশবকাল। কিন্তু বিধিবাম। হঠাৎ করে স্মৃতির মা রীনা আক্তার মানুসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে। বেশ কিছুদিন পর স্মৃতির বাবা আঃ মালেক এক পর্যায়ে তার মাকে বিদায় করে আবার বিয়ে করে। বিয়ের কিছুদিন পর ২০১৮ সালে আঃ মালেক মৃত্যুবরণ করেন। তখন থেকে স্মৃতি ও তার বড় বোন প্রীতির উপর নেমে আসে কাল বৈশাখী ঝড়। এসময় স্মৃতির ২য় মা স্বামীর সংসার ছেড়ে চলে যায়। তখন চাচা-চাচীরাই তাদের একমাত্র আশ্রয় দাতা হয়ে উঠে।

স্মৃতি আক্তার সাংবাদিকদের জানায়, একমাত্র আশ্রয়দাতা চাচা-চাচীরাই আমাদের দিয়ে নিজেদের ঘরের কাজ করাতে থাকে। চাচা-চাচীদের অত্যাচারে একে একে স্কুল থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হই আমরা দুই বোন। প্রীতি ও স্মৃতি পালিয়ে গিয়ে খালার কাছে আশ্রয় নেয় বলে জানায়।

স্মৃতির খালু নারিকেলতলা গ্রামের মো. আবু তাহের পাটওয়ারী ও মামা জাকির হোসেন জানান, স্মৃতির বাবা আঃ মালেক বিদেশে (কাতারে) থাকতেন। তার তিন ভাই কাশেম, কামাল, কালাম বাড়িতে থাকতেন। সেই সুযোগে আঃ মালেকের স্ত্রী’কে (স্মৃতির মা) বিভিন্ন অযুহাতে মানুষিক ও শারিরীক ভাবে নির্যাতন করতেন। এক সময় আঃ মালেক দেশে এসে ঢাকায় কারওয়ান বাজারে ব্যবসা শুরু করেন। স্ত্রী ছেলে মেয়ে বাড়ীতে বসবাস করতো। ভাইদের প্রলোভনে আঃ মালেক’ও স্ত্রী’র সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে। আঃ মালেকের এক ছেলে প্রতিবন্ধী পানিতে পড়ে মারা যায়। সেই মৃত্যু নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। একের পর এক মানুষিক যন্ত্রনায় আঃ মালেকের স্ত্রী রীনা আক্তার মানুষিক বিকারগ্রস্থ্য হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আঃ মালেক স্ত্রী’কে বিদায় করে আবার বিয়ে করে। বিয়ের কিছুদিন পর ২০১৮ সালের আঠার অক্টোবর আঃ মালেক মৃত্যুবরণ করেন। এক সময় ২য় স্ত্রীও স্বামীর সংসার চেড়ে ছলে যায়। চাচা-চাচীরাই তাদের একমাত্র আশ্রয় দাতা। কিন্তু চাচা-চাচীদের অত্যাচারে একে একে স্কুল থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় তারা। উপায় না দেখে তারা উভয়ই খালার বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এক সময় খালা সামাজিক ভাবে প্রীতির বিয়ে দেয়। চাচাদেরকে অবহিত করলেও তারা তাদের কোন সহযোগীতা করতে আসেনি। এমনকি কখনো খোঁজও রাখেনি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বামীর বাড়ীতে প্রীতির রহস্যজনক মৃত্যু হয়। স্মৃতির বাবা আঃ মালেকের ঢাকায় ২টি প্লাট, ৫ কাঠা জায়গা, বাড়ীর বিশাল সম্পদ সব কিছুই চাচাদের দখলে। তারাই ভোগ দখল করে আসছে। এই এতিম মেয়েদের কিছুই দেয়নি।

স্মৃতির চাচা আবুল কাশের পাটওয়ারী জানান, তাদের বাবার মৃত্যুর পর আমাদের কাছেই থাকতো। প্রীতি ও স্মৃতি আমাদের না জানিয়ে স্কুল থেকে তার খালার বাড়ীতে চলে যায়, আমরা আনতে গেলেও তারা না আসায় আমরা আর খোঁজ খবর নেই নি।

স্মৃতি আক্তার আরো জানান, চাচা-চাচীরা আমাকে কাজের জন্য মারধর করতো, ঠিক মতো খেতে দিতো না, পড়ালেখা করতে দিতো না, শুধু কাজ করাতো। তাই আমি স্কুল থেকে পালিয়ে খালার বাড়ীতে চলে আসি। আমার একমাত্র বোন ছিল, সেও চলে গেল, আমি এখন বড়ই একা, খালাই আমার সব, আমি কখনো চাচা-চাচীদের কাছে যাবো না। আমি লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। আমার বাবার অনেক সম্পদ আছে কিন্তু বর্তমানে তা চাচাদের দখলে। আমাকে কিছু দিচ্ছে না । আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য ও বাবার সম্পদ ফিরে পেতে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করি।

আজ সব হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছে ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী স্মৃতি আক্তার। উপজেলার ৩ নং সুবিদপুর ইউনিয়নের বাগপুর গ্রামের চৌধুরী বাড়ীর মৃত আঃ মালেকের কন্যা স্মৃতি আক্তার। গল্লাক নোয়ব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী স্মৃতি। এক ভাই দুই বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। ভাই প্রতিবন্ধী থাকায় পানিতে পড়ে মারা যায়, বড় বোন গত কিছুদিন পূর্বে স্বামীর বাড়ীতে রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এখন স্মৃতির চোখের সামনে শুধুই অতীত স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই নেই। আপন বলতে খালাই আছে। তবুও বুকে সাহস নিয়ে লেখাপড়া করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চায় সে। তার নিজের কথা বলতে গিয়েই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: