আদালত চত্বরে সেই ‘ধর্ষক’ মজনুর কাণ্ড!

   
প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় আসামি মজনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। সাক্ষ্য শেষে ঢাকার ৭নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে পুলিশ সদস্যরা আসামি মজনুকে মহানগর হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় কান্না করতে করতে আদালত চত্বরে লুটিয়ে পড়েন মজনু। চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার এ আসামিকে পুলিশ সদস্যরা টেনে হাজতখানায় নিয়ে যান। কান্না করতে করতে আসামি মজনু বলেন, ‘আমি মায়ের কাছে যাব। আমি কারাগারে যাব না।’

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব‌্যুনা‌লের বিচারক মোসাম্মৎ কামরুন্নাহারের আদালতে জবানবন্দি দেন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা। এরপর তাকে জেরা করেন মজনুর আইনজীবী রবিউল ইসলাম। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে রওনা দেন ওই ছাত্রী। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি রাজধানীর কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নামেন।

এরপর একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে সড়কের পেছনে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের পাশাপাশি তাকে নির্যাতনও করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। ধর্ষণের একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

রাত ১০টার দিকে নিজেকে একটি নির্জন জায়গায় নিজেকে আবিষ্কার করেন ওই ছাত্রী। পরে সিএনজি নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আসেন। রাত ১২টার দিকে ওই ছাত্রীকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করান তার সহপাঠীরা।

৬ জানুয়ারি রাতে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় মামলাটি তালিকাভুক্ত করে থানা কর্তৃপক্ষ।

পরে ৮ জানুয়ারি অভিযুক্ত ধর্ষক মজনুকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। মজনুকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। এরপর ১৬ জানুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ধর্ষণের দায় স্বীকার করেন মজনু।

গত ২৬ আগস্ট এই মামলার একমাত্র আসা‌মি মজনুর বিচার শুরু হয়েছে। ওইদির তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: