বিডি২৪লাইভকে আলাল

আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, বিলম্ব করব না

   
প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, ৬ অক্টোবর ২০১৯

ফাইল ফটো

দীর্ঘ একযুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি। হামলা-মামলাসহ রাজনৈতিকভাবে প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছে দলটি। বর্তমানে নানান সংকটে রয়েছে তিনবার সরকার গঠন করা ঐতিহ্যবাহী এই দলটি। দীর্ঘ ১৯ মাস যাবত কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কোন পথে হবে দলীয় প্রধানের মুক্তি? সমঝোতায়, নাকি প্যারোলে? নাকি আন্দোলনের মাধ্যমে? অন্যদিকে চলছে সরকারের বর্তমান শুদ্ধি অভিযান, এই অভিযানের মাধ্যমে দূর্নীতি কমবে কি? আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কি ভাবছে এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বিডি২৪লাইভকে একান্তে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিডি২৪লাইভের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মো. ইলিয়াস।

বিডি২৪লাইভ: সরকারের বর্তমান শুদ্ধি অভিযান আপনি কিভাবে দেখছেন?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: শুদ্ধি অভিযানের নামে মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে সরানোর জন্য ছোট ছোট টোকাই ধরা হচ্ছে। যারা গ্রেফতার হয়েছে তারা বিভিন্ন সংস্থার কাছে প্রশ্রয় দাতাদের নাম বলেছে। সেখানে বর্তমান এমপি, মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের নাম বলেছে। তাদের ব্যাপারে তো কোন অভিযান দেখছি না। রাশেদ খান মেনন বলেছেন, গত ১০ বছরে দেশে শুধু লুট আর হরিলুট চলেছে। এ সময়তো বিএনপি ক্ষমতায় ছিল না। আর বিএনপিকে অত্যাচার নির্যাতনের মাধ্যমে মাটির নিচে দাবিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেছেন, দেশে একটি আইনহীন সমাজ ব্যবস্থা কায়েম হয়েছে। শুধু বিএনপি নয়, দেশের সকল মানুষই বলছে। পত্রিকায় এসেছে ক্যাসিনো অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে দুটি পিকাপ ভর্তি টাকা চট্টগ্রামের দিকে গিয়েছে। এটা কি জানে না সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী? প্রধানমন্ত্রীকে বা কোন মন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য বা বিরুপ কথা বললে ১ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার হয়, সেখানে এত বড় বড় রাষ্ট্রীয় চুরি কিভাবে হয়? বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ এর তদন্তের রিপোর্ট ৩৮ বার পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। সাগর-রুনি হত্যার তদন্তের রিপোর্টের জন্য ৬৮ বার সময় নেয়া হয়েছে। সেই দিকগুলো থেকে খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন কারাগারে কোন অপরাধ ছাড়াই। মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, খুন, প্রতিবেশী কোন কোন দেশের কাছে নিজেদের ক্ষমতাকে পোক্ত করার জন্য দেশের স্বার্থকে বিসর্জন দেয়া হচ্ছে। এই সমস্ত দিক থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্য ছোট ছোট টোকাই ধরে বড় বড় কথা বলে। এই হচ্ছে তথাকথিত শুদ্ধি অভিযান এর বৈশিষ্ট্য।

বিডি২৪লাইভ: সরকার যে অভিযান চালাচ্ছে এতে করে কি আপনি মনে করেন দুর্নীতি কমবে?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: এই অভিযানের মাধ্যমে দুর্নীতি মোটেই কমবে না। দুর্নীতির মূল নদীর স্রোত যেখানে ছিল সেখানে হাতই দেয়া হয়নি। যেখানে এই নদীর শাখাগুলো ঢুকেছে, যেখানে ছোট ছোট খাল বিলের সৃষ্টি হয়েছে, সেই যায়গা থেকে দু’এক বালতি পানি তুলে দেখানো হচ্ছে আমরা দূষিত পানি দূর করছি। মূল স্রোতের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের কারা, কোন মন্ত্রীরা, কোন এমপিরা, কোন নেতারা, কোন ঘনিষ্ঠ লোকজনরা এগুলো বের না করলে বিশ্বাসযোগ্যতা পাবে না।

বিডি২৪লাইভ: বিএনপি কি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনে যাবে? আর গেলে কবে নাগাদ যাবে?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: দিন তারিখ দিয়ে আন্দোলন হয় না। নিকট অতীতের একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ৮৬ সালে শেখ হাসিনা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন নয় বছর লাগাতো না। চট্টগ্রামে তিনি বললেন, যারা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যাবে তারা হবে জাতীয় বেইমান। বিকেলে একথা বলে পরদিন সকালে তিনি ঢাকায় এসে বললেন আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। এই যে বৈধতা দেয়া হলো সেই ধরনের একটা সুবিধাবাদী দেশে তৈরি হয়েছে। প্রশাসন এবং বিভিন্ন যায়গায়। একটু বিলম্ব হচ্ছে মূলত এই কারণে। কিছু মেশিনারিজ থাকে, তা যদি প্রচণ্ড রকম অগ্রবর্তী হয়। সরকারের চেয়ে বেশি দমননীতি তারা লালন পানল করেন। সেখানে রাজপথে আন্দোলনের যেই ব্যাকরণ সেটা পালন করা সম্ভব হয় না।

যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, মানুষের ক্ষোভ দুঃখ যন্ত্রণা প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। সবসময় মধ্যবিত্তরাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে, আজকে তো মধ্যবিত্তরা নেই। তারা একটা শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। আরেকটা শ্রেণী নিতান্তই দারিদ্র সীমার নিচে চলে গেছে। এই বাস্তবতার কারণেই রাজপথে ও রকম আন্দোলন হচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি, খুব বেশি বিলম্ব করব না। কারণ বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা দিনদিন খুবই অবনতি হচ্ছে। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বিডি২৪লাইভ: খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির কোন সমঝোতা বা প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি আলোচনা হয়েছে কি?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কোন সমঝোতা হয়নি। এর আগে একবার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আমরা বলিনি। আমাদের কয়েকজন সিনিয়র নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট একাট আনুষ্ঠানিক দাবি নামা নিয়ে গিয়েছিল। প্যারোলের বিষয়টা খালেদা জিয়াও অপছন্দ করেন, আর যারা গিয়েছিল তারাও বলেন নি। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসা নিয়ে আওয়ামী লীগের অপরাজনীতির খপ্পরে বিএনপি পড়বে না।

বিডি২৪লাইভ: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিগত দিনের বিরোধী দলের সম্পাদেরও খোঁজ খবর নেয়া হবে। এ বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: ওবায়দুল কাদেরের এই সিদ্ধান্ত খুবই ভালো। তবে একটা কথা আছে, আগে নিজের ঘরের আবর্জনা দূর করার পরে অন্যের আবর্জনার দিকে নজর দিলে ভালো হয়। কারণ যিনি আবর্জনা দূর করার নির্দেশ দিচ্ছেন তাকে তো ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখতে হবে, যে আবর্জনা পরিষ্কার হচ্ছে কি না। নিজের ঘরের মধ্যে অসংখ্য ময়লা তা ডিঙ্গিয়ে বাইরে আসবেন কি করে, ময়লা পরিষ্কার করতে।

বিডি২৪লাইভ: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কি ভাবছে? আপনারা কি নির্বাচনে যাবেন?
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: আমরা আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে কিছু ভাবছি না। আমাদের ভাবনা শুধু একটাই এই সরকার আর এই সরকারের বগলদাবা করে রাখা নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের অতি উৎসাহী অংশ যারা রাষ্ট্রকে সরকারের অবরণের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলেছে, এদেরকে বহাল রেখে কোন নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। সেই ধরণের পরিবেশ আগে তৈরি করতে হবে, তারপরে আমরা এটা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করব। বিএনপির মতো একটা বড় দলের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে খুব বেশি আগ থেকে কাজ শুরু করা লাগে না।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: