আবারো ব্লু হোয়েলের হানা, সিলিং থেকে ঝুলে যুবকের আত্মহত্যা

   
প্রকাশিত: ১১:০৮ অপরাহ্ণ, ১৯ জুলাই ২০১৯

ফাইল ফটো

নীল তিমি বা সিনিয় কিত বা ব্লু হোয়েল একটি অনলাইন প্রতিযোগিতামূলক খেলার নাম, এটি `নীল তিমি প্রতিযোগিতা (ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ)’ নামেও পরিচিত। নীল তিমি বা ব্লু হোয়েল একবিংশ শতকের অনলাইন গেমগুলির মধ্যে একটি হিসাবে দাবিকৃত। মূল নাম সিনিয় কিত থেকে ধারণা করা হয় একটি রুশ অনলাইন প্রতিযোগিতামূলক খেলা। সোশ্যাল গেমিং পাতার প্রশাসকের নির্দেশ মোতাবেক ৫০ (পঞ্চাশ) দিন ধরে বিভিন্ন কাজ করতে হয় এবং সর্বশেষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে অংশগ্রহণকারীকে আত্মহত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়। বিশ্বে এখনও পর্যন্ত ব্লু হোয়েল খেলতে গিয়ে ১৩৩ জনেরও বেশি কিশোর-কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বছর দুয়েক আগে ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডির সেন্ট্রাল রোডের ৪৪ নম্বর বাসার ৫বি ফ্ল্যাটের বাসা থেকে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত হলিক্রস স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল ‘ব্লু হোয়েল’। স্বর্ণার আত্মহত্যার ঘটনার কারণ হিসেবে ব্লু হোয়েলকেই দায়ী করা হয়েছিল সে সময়। এরপর এ গেমের কারণে আরও বেশ কয়েকজন আহতের সংবাদ পাওয়া যায় দেশজুড়ে।

তবে গত বছর তেমন আলোচনায় ছিলনা ব্লু হোয়েল। মাঝে সাড়া জাগিয়েছিল আরেক মরণঘাতি গেম ‘মোমো’। কিন্তু সম্প্রতি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে আবারও ফিরে এসেছে ব্লু হোয়েল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এ দাবিকে ভিত্তিহীন বলছে।

এবার ব্লু হোয়েলের আলোচনায় আশার কারণ সম্প্রতি এক যুবক (২০) আত্মহত্যা করেছেন ভারতের পুনেতে। তার পরিবারের দাবি তিনি ব্লু হোয়েলের কোন টাস্ক করতে গিয়েই এই আত্মহননের পথ বেছে নেন।

লোনিখণ্ড এলাকার দীবাকর মালি নামে ওই যুবক কমার্সের ছাত্র ছিলেন। বুধবার (১৭ জুলাই) গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়ার আগে একটি সুইসাইড নোট লিখেছিলেন দীবাকর। পুলিশের হাতে এসেছে সেই নোট। তাতে লেখা রয়েছে, ‘যে কালো চিতাকে খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়েছিল সে এবার স্বাধীন, কোনও বাঁধন সে আর মানবে না। দ্য এন্ড।’

তদন্তকারীদের অনুমান, গেমিংয়ে ব্ল্যাক প্যান্থার বা কালো চিতা নামেই খেলতেন দীবাকর। গেমের টাস্ক অনুযায়ী খেলতে গিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। হাতে লেখা ওই স্যুইসাইট নোটটি মরাঠি ও ইংরেজিতে লেখা হয়েছে। একটি কালো চিতার ছবিও আঁকা রয়েছে। সঙ্গে লেখা রয়েছে সূর্য ফের একদিন জ্বলজ্বল করবে।

পরিবারের লোকেদের দাবি, দীবাকর ব্লু হোয়েলের মতো নানা ধরনের প্রাণঘাতী অনলাইন গেমে আসক্ত ছিল। পুলিশের মতো পরিবারও মনে করছে কোনও টাস্ক করতে গিয়েই এই আত্মহনন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

এইচএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: