প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মোঃ আসাদুজ্জামান

বরগুনা প্রতিনিধি

আমতলীতে তিন ছিনতাইকারী আটক

   
প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ টেপুড়া গ্রামে বিকাশের ২ লক্ষ টাকা ছিনতাই করে করে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থাণীয় জনতা তিন জন ছিনতাইকারীকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। পুলিশ হেফাজতে জিল্লুর রহমান রুবেল, মিরন মীর ও অলিদের চিকিৎসা চলছে আমতলী হাসপাতালে।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের অফিস বাজারের বিকাশ ও মুদি মনোহরদি ও বিকাশ ব্যবসায়ী মোঃ জসিম হাওলাদার রাত নয়টার দিকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাইসাইকেল যোগে দক্ষিণ টেপুড়া গ্রামে তার বসতবাড়ী যাচ্ছিল। পথিমধ্যে দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া রহিমিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন ব্রীজের উপরে পৌছলে দুটি মোটর সাইকেলে চার ছিনতাইকারী পূর্বে থেকে সেখানে ওৎপেতে থাকে। সেখানে বেল্লাল মাদবর (৩১) নেতৃত্বে অপর তিন ছিনতাইকারী জিল্লুর রহমান রুবেল (২৫), মিরন মীর (৩০) ও অলিদ (২৯) ব্যবসায়ী জসিমের বাইসাইকেলটি গতিরোধ করে তাকে থামিয়ে আচমকা মারধর ও চোঁখের মধ্যে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দুই লক্ষ চার হাজার তিনশত টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এসময় জসিমের ডাক চিৎকারে গ্রামবাসীরা টর্চ লাইট নিয়ে চারিদিক থেকে ছুটে এসে ছিনতাইকারীদের ঘিরে ফেলে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ছিনতাইকারীরা তাদের ব্যবহৃত মোটর সাইকেল দুটি রাস্তায় ফেলে বিলের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় জনতা তিন ছিনতাইকারী জিল্লুর রহমান রুবেল, মিরন মীর ও অলিদকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করলেও মুলহোতা বেল্লাল মাদবর পালিয়ে যায়। আহত তিন ছিনতাইকারীকে পুলিশ পাহাড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

স্বজনরা আহত ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ছিনতাইকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

স্থাণীয়রা জানান, ছিনতাইকারী বেল্লাল মাদবরের নেতৃত্বে রুবেল, মিরন, ও অলিদসহ ১৫- ২০ জনের একটি সঙ্গবদ্ধ দল অফিস বাজার এলাকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। এদের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ। মাদক সেবন, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নানাবিধ অপকর্মে এরা জড়িত। তাদের কাছে মানুষ জিম্মি। রবিবার রাতে ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতা তাদের ধরে পিটিয়ে আহত করে পুলিশে দিয়েছে।
বিকাশ ব্যবসায়ী আহত জসিম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, রাতে দোকান বন্ধ করে প্রতিদিনের ন্যায় বাইসাইকেল যোগে বাড়ীতে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া রহিমিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন ব্রীজের উপরে ছিনতাইকারীরা আমাকে মারধর ও চোঁখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে আমার সাথে থাকা বিকাশের দুই লক্ষ চার হাজার ৩’শ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। আমার ডাকচিৎকারে গ্রামের লোকজন এগিয়ে এসে তিন ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তিনি আরো বলেন আমার চোঁখের মধ্যে প্রচন্ড ব্যথা করতেছে।

আহত জিল্লুর রহমান রুবেল বলেন, আমি মোটর সাইকেল চালাই। বাড়ীতে আসার কথা বলে বেল্লাল মাদবর আমাকে নিয়ে আসে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিকাশ ব্যবসায়ী জসিম হাওলাদারের টাকা ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথা আমাকে জানায়। সে আরো জানান, বেল্লাল মাদবর জসিম হাওলাদারের চোঁখের মধ্যে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে।

অপর আহত ছিনতাইকারী মিরন মীর ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে বলেন, বেল্লাল মাদবর আমাকে গাঁজা সেবনের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে মোটর সাইকেলে তুলে ব্রীজের উপরে নিয়ে আসে এবং কিছু বুঝে উঠার আগেই ব্যবসায়ী জসিম হাওলাদারকে মারধর করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থাণীয়রা আমাদের তিন জনকে ধরে পিটিয়ে আহত করে পুলিশে দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিখিল চন্দ্র শীল বলেন, আহত তিন ছিনতাইকারী শরীরের বিভিন্নস্থানে ফুলা ও লাল বর্নের চিহ্ন রয়েছে।

আমতলী থানার ওসি মোঃ আবুল বাশার বলেন, তিন ছিনতাইকারীকে স্থাণীয় জনতা গনধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: