মো: ইমরান হোসেন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

আমার শত্রু অনেক বেশি: সুমন (ভিডিও)

   
প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, ১৫ নভেম্বর ২০২০

দেশের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের মতামত দিয়ে বেশ আলোচিত ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সুমনের জন্ম হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে। নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আর অনিয়মের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে এসে পেয়েছেন দেশজুড়ে খ্যাতি। সম্প্রতি দেশের ফুটবলসহ নান বিষয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে তাকে। বিডি২৪লাইভের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে সুমন কথা বলেছেন নিজের নানা বিষয় নিয়ে।

বিডি২৪লাইভ: আপনার নামের সাথে ব্যারিস্টার থাকটা কি একটা পজিটিভ দিক?
ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন: প্রতিটা কাজই কিন্তু একটার পর একটা ভ্যালু এড করে। আপনি ধরেন কোন একটা কিছু যদি করেন এটা যদি পজিটিভ হয়, তাহলে আপনি পরবর্তী কাজের জন্য এটাও কিন্তু যোগ হবে। আমি ধরেন ব্যারিস্টার হওয়ার পর যখন ফুটবল খেলতে নামি তখন মানুষ মনে করে যে ব্যারিস্টার সাহেব ফুটবল খেলতেছে দেখি কি রকম খেলে। এটা কিন্তু আলাদা একটা আকর্ষণ যোগ করে। আপনি প্রতিটি জিনিসই দেখবেন হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্টে খাবারের সাথে আরেকটা এড যোগ করে। এটা কি কারণ? মূলত খাবারের স্পাইস বাড়ানোর জন্য। তো আমি মনে করেছি যে ফুটবলের যে গণজাগরণ বা আমাদের যে গণজাগরণটা দরকার এইটার জন্য আমি কেন আমার মতো আরও মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে চাই?

যে এইটা আমাদের নিজেদের খেলা সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা এবং যে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কথা আমরা বলি এটা কিন্তু মুখোমুখি যুদ্ধ ঘোষণা করলে হবে না। এখানে তরুণদের মাঠে নিয়ে যেতে হবে। আপনি মাঠ বন্ধ করে দিয়ে এদেরকে বাসায় রেখে একই সাথে বলতে পারবেন না মাদক থেকে দূরে থাকেন। যে মাঠগুলো দখল হয়ে গেছে সেগুলা বের করে আনতে হবে। তরুণদেরকে মাঠে পাঠাতে হবে এ কারণে আমি চিন্তা করে দেখলাম আমি শুধু বক্তব্য দিলেই হচ্ছে না মানুষের সামনে আমার দেখাইতে হবে যে আমি নিজেও ফুটবল খেলি এবং ফুটবলের জন্য কাজ করি এবং ফুটবলকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা দরকার সব করতে চাই এবং আমি আমার মৃত্যুর আগে ভালো ফুটবল রেখে যেতে চাই আমি জন্মের পরে যে ফুটবল পাইছি তার চেয়ে ভালো ফুটবল আমি রেখে যেতে চাই।

বিডি২৪লাইভ: আগামীতে কি আপনি বাফুফের পদে যেতে চান?
ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন: আমার যদি পদে যাওয়ার ইচ্ছা থাকতো তাহলে আমি তো এবারই নির্বাচন করতাম বা ফরম কিনতাম বা আমার নির্বাচিত হওয়ার আশায় একটা মানুষের সামনে তুলে ধরতাম। আমি সবসময় বলেছি, সেবা তো করতেই হবে। এটা তো আমি বাধ্য। কিন্তু পদে না গিয়ে যদি আমি সেবা করতে পারি। আর যারা পদে আছেন তারা কি করছেন না করছেন তা তো বাংলাদেশের মানুষের সামনে পরিষ্কার। ইতিহাসের দায় আমরা বিভিন্ন ভাবে মিটিয়ে যাচ্ছি। না হয় এই দায়টাও যারা ব্যর্থ ছিলেন তারাই নতুন ক্ষমতায় আসছেন। কিছু লোক তো আমরা আছি ইতিহাসের দায় মিটাবো একটার পর একটা।

আমার যেটা ইচ্ছা পদ লাগবে কেন? আমার যেসব সক্ষমতা আছে, যে সামর্থ্য আছে, এই সামর্থ্য এবং আমার যে প্রেম ফুটবলের প্রতি এবং আমার এলাকার ছেলেদের বিভিন্নভাবে ফুটবলের প্রতি নিয়ে আসার যে দায়িত্ব এ দুইটা এক জায়গায় করে আমি পদ ছাড়াই  মানুষের সামনে একটা উদাহরণ তৈরি করতে চাই। প্রকৃত অর্থে কোন জিনিসের বা কোন একটা সেক্টরের জন্য আপনি কাজ করতে চান। এটার জন্য আপনার নেতা হওয়া একেবারেই একমাত্র কারণ না। আপনি নেতা না হয়েও বাংলাদেশের যেকোনো জিনিসের পরিবর্তন ঘটিয়ে দিতে পারেন। এটা আমি আরেকটা শিক্ষা বাংলাদেশের তরুণদের সামনে তুলে ধরতে চাই।

বিডি২৪লাইভ: ব্যারিস্টার সুমন কি দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়?
সুমন: আপনি সবসময় প্রতিষ্ঠান হইতেও পারবেন না। ব্যারিস্টার সুমনও হয়তো বেশি দিন থাকবে না। কিন্তু যে কাজটি আমি করে যেতে চাই। আমার ফুঁড়িয়ে যাওয়ার আগেই কিছু মানুষকে এমনভাবে তৈরি করে যেতে চাই যারা ব্যারিস্টার সুমনের এই জায়গাটা অত্যন্ত ভালোভাবে পূরণ করে নিবে। আপনি মনে রাখবেন, যদি আপনি ভালো কাজ করতে থাকেন আপনার জীবনে হয়তো কিছু করতে পারলেন না, কিন্তু আপনার পরবর্তী প্রজন্মে আপনার ফলোয়ার তৈরি হবে, যারা আপনাকে বিশ্বাস করবে, আপনার আদর্শকে সাপোর্ট করবে। এরাই একদিন এই পতাকা সামনের দিকে নিয়ে যাবে।

বিডি২৪লাইভ: আপনার লাইভ দুর্নীতিবাজদের জন্য কতটা হুমকি?
ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন: আমি কোন একটা নতুন জায়গায় গেলে, সেখানে যারা আছে কোন একটা জিনিস লুকাতে চায়। তারা মনে করে আমি তাদের জন্য হুমকি স্বরূপ। তারা মনে করে আমি যদি লাইভের মধ্যে দিয়ে এগুলো বলে দেই, তাহলে এগুলো শুধু আমার এলাকার না, সব জায়গায় সমস্যা তৈরি করে। এ কারণে আমার শত্রু অনেক বেশি। কিন্তু শত্রু অনেক বেশি হলেও আমার কাছে মনে হয় বন্ধুদের দোয়াটা আমার শত্রুদের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। এজন্য মনে হয় এখন পর্যন্ত বেঁচে আছি।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: