আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর আলোচনায় হেফাজত-জামায়াত সম্পর্ক

   
প্রকাশিত: ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

হেফাজতের আমীর আহমদ শফীর মৃত্যু- তার খাটিয়া বহন- শো ডাউন করে জানাজায় অংশ নেয়া নতুন করে আলোচনায় এসেছে হেফাজত-জামায়াত সম্পর্ক। আহমদ শফির অনুসারিদের দাবি, মত পার্থক্যের কারণে জামায়াতিদের সাথে আদর্শিক দ্বন্দ্ব ছিল হেফাজতে ইসলামের কিন্তু আহমদ শফির মৃত্যুতে এ সুযোগ করে দিয়েছেন জুনায়েদ বাবুনগরী। আর বাবুনগরী বলছেন, শুধু জামায়াত নয় আহমদ শফির জানাজায় সব দলই অংশ নিয়েছে। কওমী মাদ্রাসা কেন্দ্রিক সংগঠন হেফাজত ইসলাম আর জামায়াতের মতের অমিল অনেক দিনের।

হেফাজত আলোচনায় আসে ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে গড়ে উঠা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধীতার মধ্যে দিয়ে। আর মানবতাবিরোধী বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলে জমায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে।

একারণে হেফাজতের শাপলা চত্বরে অবস্থানে সমর্থন দেয় জামায়াত। পরে আহমদ শফি সরকারের কাছ থেকে কিছু দাবি আদায়ে সক্ষম হলে হেফাজতের একটি অংশের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ ঘটে। ঢাকা দক্ষিণখান দারুল ইরফান মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রাকিবুল ইসলাম ফারুকী বলেন,’মানুনুল হক সামনে গিয়েছিলেন। ওনার সাথে সাথেই সবাই প্রবেশ করেছে ওখানে। তিনি ঢাকা থেকে জামায়াতে ইসলামীর লোক নিয়েছেন। তিনি প্রবেশের সুপারিশ করেছেন।’

কিন্তু এবার আহমদ শফির মৃত্যুতে হেফাজতের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত। এর আগে এ প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মঈন উদ্দিন রুহী বলেন, ‘হেফাজতের মধ্যে ঘাপটি মারা ওই চিহ্নিত গোষ্ঠীর এজেন্টরা, ওই চিহ্নিহ গোষ্ঠীর দালালরা আল্লামা সফীকে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিয়েছেন। এবং তার ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে বহিস্কার করেছেন।’

আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাছির হায়দার বাবুল জানান, ‘আমরা দেখেছি বা শুনেছি এই ঘটনায় জামায়াত শিবিরের অনেক নেতা বা কর্মী স্বক্রিয় ছিল। জানাযার আগে পরে।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও ভাংচুরের জন্য জুনায়েদ বাবু নগরীকে দায়ী করেছেন শিক্ষকরা। হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক মওলানা আহমদ দিদার কাসেমী বলেন,  ‘ডাকাত জুনায়েদ বাবুনগরী। জুনায়েত বেশি মিছা কথা কয়।’

সব অভিযোগই অস্বীকার করেন বাবু নগরী। হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ এর মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘আমি অবরুদ্ধ ছিলাম। আল্লামা শফী জামায়তি হয়ে যাবে? হেফাজতে ইসলাম জামায়তি হয়ে যাবে?’

হেফাজতে ইসলাম কোন রাজনৈতিক দল না হলেও বিএনপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটভুক্ত ইসলামী দলগুলোর নেতারাই এই সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত। সূত্র: ডিবিসি নিউজ

 

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: