প্রচ্ছদ / ক্যাম্পাস / বিস্তারিত

শাহরিয়ার আমিন

বাকৃবি প্রতিনিধি

আশ্বাসের পরও লং মার্চে আন্দোলনকারীরা

   
প্রকাশিত: ৬:২২ অপরাহ্ণ, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) হেলথ কেয়ার সেন্টারে ডাক্তার, বেগম রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিনের পদত্যাগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মানোন্নয়ন, আম্বুলেন্স সংখ্যা বৃদ্ধিসহ নয় দফা দাবিতে লং মার্চ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবীসমূহ মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বুধবার ১১ টার দিকে ওই লং মার্চ কর্মসূচি পালন করে তারা।

বিভিন্ন অনুষদীয় ছাত্র সমিতির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ওই লং মার্চ শুরু হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অনুষদ প্রদক্ষিণ করে। তারা মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ ও পশুপালন অনুষদে চলমান ক্লাস পরীক্ষা এবং ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালে ইন্টার্নশিপের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরে আন্দোলনকারীরা লং মার্চ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এই সময় শিক্ষার্থীরা দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও মালয়েশিয়ার নাগরিক হারানি জানাকি রামান শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করলে সেটি না পাওয়া যায় নি। ওই সময় অ্যাম্বুলেন্সটি অন্য রোগীকে নিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিল। হারানির বন্ধুরা তাকে অটোরিক্সায় করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে রাত ১ টা ১৫ মিনিটে হারানি মারা যান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হেলথ কেয়ার সেন্টারের অব্যবস্থাপনা ও সময়মত অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

গত রবিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মানোন্নয়ন, অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যাবৃদ্ধি, সার্বক্ষণিক ডাক্টারের উপস্থিতির দাবীতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে রাস্তা অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ওই দাবীসহ মোট নয় দফা দাবীতে রাস্তা অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ^বিদালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান আন্দোলনকারীদের সামনে উপস্থিত হয়ে দ্রুত সময়ে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবী সমূহ মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে ডিনের পদত্যাগ বাস্তবায়নের দাবী জানান। জানা যায়, শিক্ষকদের সাথে বেয়াদবি ও ডিন অফিসে বিশৃঙ্খলা করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স এন্ড ডিসিপ্লিন কমিটির সভায় ১৫ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন শাস্তি দেয়া হয়। ওই শিক্ষার্থীরাই ডিনের পদত্যাগের বিষয়ে সোচ্চার ছিল। তবে বুধবার লং মার্চে ডিনের পদত্যাগের বিষয়ে আন্দোলনকারীদের কোন শ্লোগান দিতে দেখা যায়নি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: জসিমউদ্দিন খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে আমি আন্তরিক। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সব কিছু করতে হবে। সে লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এএস/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: