আশ্বাস দিয়ে অনুপস্থিত রেজিস্ট্রার, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

   
প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, ১১ নভেম্বর ২০১৯

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের ক্লাসরুম সংকট নিরসনের আশ্বাসের সময় পার হলেও কোন সমাধান না হওয়ায় বিক্ষোভ করেছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১০.৩০ থেকে দুপুর ১.৩০ পর্যন্ত ক্লাসরুম, ল্যাব, শিক্ষক সংকট নিরসনসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) প্রশাসনের সাথে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে এমন আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে তারা। তবে তাদের এ সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে না বলে ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। যেখানে গত ৩১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু সোমবার পর্যন্ত তাদের কোন সমস্যা সমাধান করা হয়নি এমনকি আজ রেজিস্ট্রার নিজেই ছিল অনুপস্থিত।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পার হয়ে গেলেও ক্লাসরুম, ল্যাব, শিক্ষক সংকটসহ নানা সংকট যেন লেগেই আছে বেশ কয়েকটি বিভাগে। এর মধ্যে আইসিটি বিভাগের বয়স ১০ বছর পার হলেও মাত্র একটি ক্লাসরুম আর সাতজন শিক্ষক নিয়ে চলছে বিভাগটি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বার বার এ সংকট নিরসনের জন্য আবেদন করলেও আশ্বাস দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে প্রশাসন। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দেয় বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ। ঐদিনই নির্মাণাধীন একাডেমিক ভবন- ৪ (প্রকৌশল অনুষদ ভবন) পরিদর্শন করে এবং ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারের সাথে সমন্বয় করে সোমবারের (১১ নভেম্বর) মধ্যে আইসিটি বিভাগের জন্য দুটি ক্লাসরুম, ল্যাব, শিক্ষকদের রুম হস্তান্তরের আশ্বাস দেয়। রেজিস্ট্রার নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে ঐ ভবনে তাদের তুলে দেবে এমনটাই আশ্বাস দেয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সোমবার ঐ ভবনে গিয়ে কাজের তেমন কোন অগ্রগতি ই দেখতে পায় না, সেখানে ক্লাস করা তো দূরের কথা। এমনকি শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রারের সাথে দেখা করতে গেলে তিনি আজ আসেনি বলে জানান রেজিস্ট্রার দপ্তর। শিক্ষার্থীদের এমন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ধোঁকা দেয়া এবং তাদের কোন দাবিই বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে বসে প্রধান ফটক লাগিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা সেখান থেকে উঠবে না এমনটাই ঘোষণা দেয় এবং স্লোগান দিতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আন্দোলনকারীদের নিয়ে বসে মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের সাথে বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসবে প্রক্টরের এমন আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে তাদের সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে না বলেও ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা ক্লাসরুম দ্রুত হস্তান্তর, পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধাসহ ল্যাবরুম নিশ্চিতকরণ, জনৈক শিক্ষককের বক্তব্য প্রত্যাহার ও আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত ল্যাবের সুষম বন্টনসহ ৫ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীরা বলেন,‘রেজিস্ট্রার আজকের দিন পর্যন্ত সময় দিয়েও আজ নিজেই অনুপস্থিত। এমনকি উপাচার্য স্যারও আজ নেই ক্যাম্পাসে। যেখানে আজ রেজিস্ট্রার স্যার নিজে উপস্থিত থেকে আমাদের ক্লাসরুম বুঝিয়ে দেওয়ার কথা সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ দুই অভিভাবকই অনুপস্থিত। আমাদের কি আশ্বাস দিয়েই সন্তুষ্ট রাখতে চায় প্রশাসন? আমাদের বিভাগের শিক্ষক, ক্লাসরুম ও ল্যাব সংকট নিরসন এবং বিভাগ নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে এক শিক্ষকের বক্তব্য প্রত্যাহারে দাবিসহ মোট ৫ দফা দাবি উত্থাপন করে ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি। যতদিন পর্যন্ত এ সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে না ততোদিনে আমরা ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবো না। মঙ্গলবার সমাধান না হলে আমরা আবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসেছিলাম। তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। তারা আমাদের আশ্বাসে আগামীকাল পর্যন্ত তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছে। মঙ্গলবার বসে দাবিগুলোর একটা সমাধান করার চেষ্টা করব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন,‘ঠিকাদাররা ঠিকমতো কাজ শেষ না করায় এ সমস্যা হচ্ছে। ঠিকাদারদের বিষয়ে আমরা বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। তবে আজকে (সোমবার) রাতের ভেতর অন্তত দুটি রুম হলেও ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছি যেন আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিভাগটিকে দিতে পারি।’

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: