প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

আহমদীয়া বলে কবর থেকে তুলে রাস্তায় ফেলা হলো শিশুর মরদেহ!

   
প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, ১০ জুলাই ২০২০

আহমদীয়া সম্প্রদায় বলে শিশুর মরদেহ কবর থেকে তুলে রাস্তায় ফেলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের ঘাটুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ফেনী সদর উপজেলার সাইফুল ইসলাম বিয়ে করেন ঘাটুরা এলাকার স্বপ্না বেগমকে। ৭ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন স্বপ্না। নির্ধারিত সময়ের আগে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ায় তাকে ইনকিউবেটরে রাখা হয়।

বৃহস্পতিবার ভোরে শিশুটি মারা যায়। ধর্মীয় রীতি মেনে সেদিন সকাল ৭টার দিকে শিশুটিকে ঘাটুরা এলাকার একটি সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়। কিন্তু আহমদীয়া সম্প্রদায়ের হওয়ায় দাফনের ঘণ্টা খানেকের মধ্যে আহমদীয়া বিদ্বেষীরা এলাকায় মাইকিং করেন। পরে মরদেহ কবর থেকে তোলার জন্য লোকজন জড়ো করেন। এরপর নবজাতকের মরদেহ কবর থেকে তুলে কবরস্থানের বাইরের সড়কে ফেলে রেখে যায়। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে কেউ মুখ খোলেননি।

শিশুটির বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এই এলাকার জামাই। এলাকা সম্পর্কে আমার তেমন ধারণা নেই। আমার বাচ্চাটাকে বৃহস্পতিবার সকালে ঘাটুরা কবরস্থানে দাফন করি। কিছুক্ষণ পর এলাকায় আহমদীয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মাইকিং করে লোকজন জড়ো করা হয়। এরপর মরদেহ কবর থেকে তুলে কবরস্থানের সীমানার বাইরে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আমি চিনিও জানিও না। পরবর্তীতে এলাকার লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ আসে। পুলিশি প্রহরায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় আমাদের সম্প্রদায়ের নিজস্ব কবরস্থানে নিয়ে মরদেহ দাফন করা হয়।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি ঘাটুরার এই কবর স্থানের জায়গার দাতা একজন হিন্দু ভদ্রলোক ছিলেন। এরপর থেকে এলাকার আহমদীয় সম্প্রদায়ের লোকজন মারা গেলে এখানে গত ৫০ বছর ধরে দাফন করে আসছেন। যদি তাদের আপত্তি থাকতো তাহলে আমাদের বলতে পারতো। তা না করে দু’দিনের একটা শিশুর মরদেহ কবর থেকে তুলে ফেলে দিলো এটা কল্পনাও করা যায় না।’

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: