প্রচ্ছদ / খোলা কলাম / বিস্তারিত

আহারে মধ্যবিত্ত !

   
প্রকাশিত: ১:১৯ অপরাহ্ণ, ৩১ মার্চ ২০২০

জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের একটি কথা মনে পরে গেল। তিনি বলতেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলোই ধরণীর আসল রূপ দেখতে পায়। সত্যিই কি তাই ? আসুন একটা গল্প শুনি।

সাইফুল ইসলাম। সংসারে রয়েছে বাবা-মা, স্ত্রী এবং ছোট এক ভাই। বাবা অনেক আগেই অবসর নিয়েছেন। মা বেশিরভাগ সময়ই থাকেন অসুস্থ। ছোট ভাই স্কুলে পড়ছে। পুরো সংসারের ঘাণিটা সাইফুল সাহেবকেই টানতে হয়। বাবার ছিলেন সরকারি চাকুরীজীবি সেই সুবাধে অল্প কিছু পেনশন পান যা দিয়ে মায়ের চিকিৎসার টাকা হয়ে যায়। সাইফুল কে দিতে হয় ঘর ভাড়া, দৈনন্দিন খাবারের খরচ, ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ। আর স্ত্রীর জন্য সামান্য কিছু খরচতো আছেই।

সাইফুলের কখনই চাকুরী পছন্দ ছিলনা। তাই সেদিকে কখনও চেষ্টাও করেনি। ব্যবসা করতে চেয়েছে। বাবার পেনশনে পাওয়া কিছু টাকা দিয়ে এলাকাতেই দিয়েছে দোকান। চলছিল খুব ভালই। কিন্তু বর্তমানে ভাল যাচ্ছিলনা দিন। করোনার কারনে বন্ধ রয়েছে দোকান। চিন্তায় তার মাথায় হাত। না পারছে কইতে না পারছে সইতে। এমন অবস্থায় কি করবে কি করা উচিত ভেবে উঠতে পারছেনা।

বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণী এমনই একটা অবস্থায় আছে। হাজারো সাইফুলের মত পরিবার মানবিক জীবন যাপন করছে। মধ্যবিত্ত চাইলেও ৫ থেকে ৬ মাস উপার্জন না করে চলতে পারবেনা। আবার নিম্নবিত্ত বা গরীবদের মত অন্যের কাছে হাত পাততেও জানেনা। পারেনা লাইনে দাড়িয়ে কিছু আনতে। আবার কম দামে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজীয় জিনিষ লাইনে দাড়িয়ে ট্রাকের পিছনে গিয়ে দাড়িয়ে আনবে তাও পারেনা। এই শ্রেণীটার লজ্জাবোধ সবসময়ই বেশি। নৈতিক মূলবোধ, আদর্শ কিংবা সামাজিক কারনে সবসময়ই নিজেদের গুটিয়ে রাখে মধ্যবিত্তরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মধ্যবিত্তের কর্তার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, মাস শেষে এমনিতেই হাতে টাকা পয়সা থাকে না। এর মধ্যে লকডাউনের কারণে আরো বাজে পরিস্থিতিতে পড়ে গেছি। আর দুই তিনদিন পর ঘরের সব খাবার শেষ হয়ে যাবে। এর মধ্যে যদি বাইরের কোনো সহায়তা নাই পাই, কী হবে জানি না। কিন্তু আমরা কারো কাছে চাওয়ার মতো পরিবারও নই। এ অবস্থায় কী হবে, সত্যি কথা বলতে, আমরা কিছুই জানি না।

করোনা সংকটে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেখানে গরীব অসহায়, বড়লোক সহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্যও প্রণোদনা ঘোষনা করেছেন। এসব উদ্যোগ প্রশংসনীয় বটে। কিন্তু মধ্যবিত্তদের জন্য কোন কিছুই ছিলনা। অথচ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে এই মধ্যবিত্ত। সব শ্রেণীই তাদের স্বার্থের কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাচ্ছে কোনরকম সংকোচবোধ ছাড়াই। যেমন, শিল্পী থেকে শুরু করে সাংবাদিক সমাজ সবাই সাহায্য চাচ্ছে বা চাইবে।

সমাজে এই মধ্যবিত্তগুলোই নির্ভিতে, নিঃশব্দে, নিরালাই রয়ে যাবে। কখনও কেউ জানবেনা কেমন আছে তারা। আহারে মধ্যবিত্ত !

লেখক: আমিরুল ইসলাম আসাদ
সম্পাদক, বিডি২৪লাইভ ডট কম।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: