প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

আরমান হোসেন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঋণ খেলাপিদের জন্য সুখবর দিচ্ছে ইসি

   
প্রকাশিত: ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) সংশোধন করতে চায় নির্বাচন কমিশন ( ইসি)। সংশোধনীতে ঋণ ও বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন বা পানির বকেয়া বিলখেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিতে চায় সাংবিধানক প্রতিষ্ঠানটি। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ধারা ১৩(ট) ও (ড) এসব সুযোগ দেয়া হচ্ছে। ধারা ১৩(ট)-এ ঋণখেলাপিরা মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে তা পরিশোধ করলে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হওয়ার বিধান যুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কৃষিকাজে নেয়া ক্ষুদ্র ঋণের আওতাভুক্ত হবে না। আর ১৩(ড) ধারায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন বা পানির বকেয়া বিলখেলাপিরাও মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে তা পরিশোধ করলে বৈধ হিসেবে গণ্য হবেন। নাম গোপন রাখার শর্তে ইসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যমান আরপিওর ১২(১) ধারায় যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।

সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে ঋণ ও বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন বা পানির বিলখেলাপিদের বিশেষ ছাড়সহ ৫টি সংশোধনীর প্রস্তাব দিয়েছে ইসি। এক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগের দিন পর্যন্ত এসব বিল জমা দেয়ার সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও)সংশোধনীর প্রস্তাবে এসব বিধান অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রতি সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর পরিবর্তে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন, ২০২০ শিরোনাম দেয়ারও প্রস্তাব করেছে ইসি।

সংশোধনী প্রস্তাবে আরও রয়েছে- প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন ও প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ। পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতির রেকর্ড রাখতে নতুন উপধারা যুক্ত করা। নির্ধারিত সময়ে ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে রাজনৈতিক দলগুলোর জরিমানা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ।

ইসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে আরপিওর অনেকগুলো ধারা-উপধারায় সংশোধনের প্রস্তাব এসেছিল। ওইসব প্রস্তাব সমন্বয় করা সম্ভব নয় বলে মনে করছে কমিশন। তাই এবার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ ছাড়াই অনেকটা গোপনে ছোটখাটো কিছু সংশোধনীসহ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) সাহায্যে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন নির্বাচনী পদ্ধতি ও প্রক্রিয়াকে আদেশের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রাখার লক্ষ্যে কখনও কোনো অনুচ্ছেদের আমূল পরিবর্তন, কখনও নতুন করে সংযোজন বা বিয়োজনের প্রক্রিয়ায় আগের আদেশটির মৌলিকত্ব অনেকখানি বিনষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অনুচ্ছেদের সঙ্গে কিছুটা অসামঞ্জস্যতাও সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়গুলোকে যথাযথভাবে সম্বোধন করার জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। এছাড়া বাংলা ভাষায় এটিকে রূপান্তর করাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: