‘এই এলাকার ডিসি, ম্যাজিস্ট্রেট সব আমি’ : মনজু

   
প্রকাশিত: ৪:৫৮ অপরাহ্ণ, ২ নভেম্বর ২০১৯

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মনজুকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। তার গ্রেফতারের খবরে নিজেদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছেন রাজধানী সুওপার মার্কেটের ব্যাবসায়ীরা। কারণ এই রাজধানী সুপার মার্কেটই ছিল মনজুর টকার খনি। গত ১১ বছর ধরে তার অত্যাচারে অতিষ্ট ছিল এই মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। মার্কেট থেকে তিনি নানাভাবে চাঁদা আদায় করতেন। কোনো ব্যবসায়ী যদি দোকানে আইটেম পরিবর্তন করতেন, তাহলে মনজুকে দিতে হতো দুই লাখ টাকা চাঁদা। আর জেনারেটর বাণিজ্য করতে লোডশেডিং না হলেও মার্কেটের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতেন তিনি। খেয়াল-খুশিমতো ওই মার্কেটে দোকান নির্মাণের পর মালিকানা দাবি করে বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। দম্ভ করে মনজু বলতেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর কিছুই করতে পারবে না।

১১ বছর আগে দুটি দোকান লিজ নিয়ে রাজধানী মার্কেটে প্রবেশ করেন মনজু। এরপর পুরো মার্কেটে তাঁর আধিপত্য বিস্তার করতে ক্যাডার ধরনের কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জোগাড় করেন। ওই সময় মার্কেটে ব্যবসায়ীদের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন লুত্ফর রহমান নামের একজন ব্যবসায়ী। সেক্রেটারি ছিলেন ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন ঢালী। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেন মনজু। ২০০৯ সালে একদিন রাতে মনজু তাঁর ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ব্যবসায়ী সমিতির অফিস থেকে নির্বাচিত সভাপতি ও সেক্রেটারিকে জোর করে বের করে তালা ঝুলিয়ে দেন। মনজু তখন ওই এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তিনি জানিয়ে দেন, তাঁর কথা ছাড়া আর রাজধানী মার্কেট চলবে না। পরদিন থেকে তিনি নিজেকে মার্কেটের স্বঘোষিত সভাপতি দাবি করেন। সেই থেকে বর্তমান পর্যন্ত মনজুই রাজধানী মার্কেটের সভাপতি। আর এই সময়ের মধ্যে ওই মার্কেটে চালিয়েছেন যথেচ্ছ চাঁদাবাজি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় কাউন্সিলর ও সরকারি দলের রাজনীতি করায় নিজেকে ওই এলাকার রাজা ভাবতেন মনজু। তাঁর বিরুদ্ধে র‌্যাব-পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করলেও পাত্তা দিতেন না মনজু। তিনি বলে বেড়াতেন, ‘আমি এই এলাকার ডিসি, ম্যাজিস্ট্রেট সব। আমার বিষয়ে কিছু জানতে হলে আমার কাছে আসতে হয়। আমি কারো কাছে যাই না।’রাজধানীর হাটখোলা রোডের ১৫/২ নম্বর বাড়িটিও দখল করে নিজের বলে দাবি করেন মনজু। একটি ফ্ল্যাট কিনে পরে ওই বাড়ির মালিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদ করে নিজের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মালিক বনে যান। তাঁর ও তাঁর বাহিনীর ভয়ে তটস্থ ছিল এলাকাবাসী। একইভাবে রাজধানী মার্কেটেও দুটি দোকান লিজ নিয়ে একপর্যায়ে পুরো মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেন মনজু। রাজধানী মার্কেটের ব্যবসায়ী, স্থানীয় লোকজন এবং র‌্যাব-পুলিশের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফিউল্লাহ বুলবুল জানান, ‘তাঁকে গ্রেপ্তারের পর অনেকে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। আগে তাঁরা অভিযোগ করতে ভয় পেতেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটি তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে। যদি মামলা আমরা পাই, তাহলে তাঁর অপরাধ জগৎ ও সহযোগীদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

এসএআর/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: