এবার বিভাগীয় পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা

   
প্রকাশিত: ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ, ২১ অক্টোবর ২০২০

ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় পর্যায়ের কেন্দ্রে কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এ ছাড়া গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার নম্বর কমানো হয়েছে অর্ধেক। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।

সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ডিনস কমিটির সভা হয়েছে। সেখানে সবার সম্মতিক্রমে আমরা ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লিখিত পরীক্ষাসহ মোট ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা হবে। এখন ডিনস কমিটির সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিলে যাবে। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সভা সূত্রে জানা যায়, ঢাবিতে ভর্তির জন্য প্রতিবার শিক্ষার্থীদের ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। তবে এবার ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণমান থাকবে ১০০। প্রতিবছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের ওপর ৮০ নম্বর থাকে; এবার সেটি কমিয়ে ২০ নম্বর করা হয়েছে। আর বহুনির্বাচনী পরীক্ষার (এমসিকিউ) নম্বর ৭৫ থেকে কমিয়ে ৩০ করা হয়েছে। এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষার নম্বর থাকবে ৫০। সব মিলিয়ে ১০০ নম্বরের ওপর ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম তৈরি করা হবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বিকেলে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব জায়গায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে খুলনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ওই বিভাগীয় শহরের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। বরিশাল, রংপুর বা চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরাও সেখানকার কোনো কেন্দ্রেই পরীক্ষায় অংশ নেবেন। অর্থাৎ বিভাগীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকায় আসতে হবে না। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

শিক্ষার্থীদের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর ভর্তির তারিখ জানানো হবে বলেও জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ’-এর ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংগঠনের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অনলাইনে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূরের উদ্ভাবিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেটি আগে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পরীক্ষা করা হবে। তার পরই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা গুচ্ছ করে এবং বহুনির্বাচনী প্রশ্নের (এমসিকিউ) ভিত্তিতে এই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানায় ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ’। ওই সভায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা যুক্ত ছিলেন।

সেদিন অবশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে হবে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিষদ (একাডেমিক কাউন্সিল), ডিনস কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শিগগির আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সশরীরে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তের কথা জানাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত ১ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সারা দেশের প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় গত ২২ মার্চ এ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

পরে গত ৭ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই বছর এইচএসসি পরীক্ষা হচ্ছে না। তার পরিবর্তে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের গড়ের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: