প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

মো. ইলিয়াস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে যা বললেন রিজভী

   
প্রকাশিত: ১২:৪০ অপরাহ্ণ, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

‘বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার অলি-গলি খুঁজছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, বিএনপি অলি গলি খুঁজবে কেন? বিএনপি তো অবৈধ সরকারের পতনের জন্য প্রশস্ত রাজপথেই আন্দোলন করছে। ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে রাজোচিত জীবন নির্বাহ যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্যই ওবায়দুল কাদের সাহেবরা কানা গলি দিয়ে কখনো বিনা ভোটে কখনো নিশিরাতের ভোটে ক্ষমতায় আছে।

তিনি বলেন, অলি গলি ওবায়দুল কাদের সাহেবদেরকে অবলম্বন করতে হয়, কারন তারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে জনগণকে দুঃসহ জীবন-যাপনে বাধ্য করে অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। তাদের চক্রান্তের জন্য অলি গলি পথ অবলম্বন করতে হয় এজন্য যে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এখন দুর্নীতির জয়জয়কার, রাজরোষে বিরোধী মত ও ব্যক্তিরা কারাগারে, নারকীয় উল্লাসে চলছে গুম-খুন-ক্রসফায়ার, ক্ষমতাসীনদের আশকারায় পৈশাচিক আনন্দে নারী-শিশু নির্যাতনের হিড়িক চলছে, বিচার বিভাগকে করা হয়েছে সরকারের হাতের খেলনা, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে শুধুমাত্র সরকার ও সরকারপ্রধানের নিজস্ব বরকন্দজে পরিণত করা হয়েছে।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসকল কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ এখন জনগণের আতঙ্কের নাম। শান্তিবিনাশী সমাজবিরোধীদের দাপট বৃদ্ধি পেয়েছে, কারন এরা সরকারী দলের লোক। এই দুঃশাসনে জনগণের মধ্যে ক্রোধবহ্নি দাউদাউ করে জ্বলছে। এটা ইতিহাসে প্রমাণিত-অবৈধ শাসনের অবসান ঘটাতে জনগণের প্রতিজ্ঞা কখনোই নিষ্ফল হয়নি। অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা ওবায়দুল কাদের সাহেবরা মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্ন দেখে লাফ দিয়ে উঠে আবোল-তাবোল বকতে থাকে। কারন আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যই হচ্ছে গণতন্ত্র ও জনগণের সাথে প্রতারণা করা। ওবায়দুল কাদের সাহেবের হুংকারসর্বস্ব বক্তব্য যেন অন্ধকার রাতে ভুতের ভয়ে আর্তচিৎকার করা।

তিনি বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেছেন-পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের সাথে বিএনপির দহরম-মহররম বহু পুরনো। হঠাৎ করে তথ্যমন্ত্রীর এধরণের উদ্ভট বক্তব্য জনগণের মনে ঘোরতর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। মনে হয় তার মন্ত্রীত্ব এখন টালমাটাল অবস্থায় আছে। আওয়ামী মন্ত্রীদের বিচারবুদ্ধি নিয়ে জনগণের মাঝে নানা কথা প্রচলিত আছে। তারা যখন খুব বিচলিত ও বেকায়দায় পড়ে তখনই তারা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আবিস্কার করে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী মন্ত্রীদের কপালে দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।’

তথ্যমন্ত্রীর উদ্দ্যেশে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আপনি ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর রচিত বইটি পড়ে দেখুন, কিভাবে তিনি জেনারেল মঈনউদ্দিকে ম্যানেজ করেছিলেন শেখ হাসিনার পক্ষে। ভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা কিভাবে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসাতে সহযোগিতা করতে পারে ? আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, আপনার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। তিনি বলেছিলেন-আমি ভারতকে যা দিয়েছি তা সারাজীবন মনে রাখবে। কিন্তু তিনি দেশের কি কি জিনিস দিয়েছেন তা কিন্তু বলেননি। সুতরাং বিদেশীদের সাথে দহরম-মহররম করে গদি টিকিয়ে রাখার নাম্বার ওয়ান ব্যক্তি হচ্ছেন শেখ হাসিনা।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: