প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মাসুদ রেজা শিশির

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

ওসির কাঁধে যৌ’ন কর্মীর লা’শ এ যেন মানবতার জয়গান

   
প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

দৌলতদিয়ায় পুলিশের কাঁধে যৌ’ন কর্মীর লাশ এ যেন মানবতার জয়গান। সামাজিক কুসংস্কার ও প্রথার কারণে যুগের পর যুগ মারা গেলে দাফন বা সৎকার না করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া ও মাটির নিচে পুঁতে রাখা হত দৌলতদিয়া যৌ’নপল্লীর যৌ’নকর্মীদের মরদেহ। সেই অনাদরে ভাসিয়ে দেওয়া মরদেহ এখন পুলিশের কাঁধে। যাদের সাথে সমাজের মানুষ কথা বলে না ঘৃণায়, সেই মানুষগুলো মরার পর কাঁধে নিয়ে রীতিমত চমকে দিয়েছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিকুর রহমান। সমাজের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই; ‘মানব ধর্মই পরম ধর্ম’। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় দৌলতদিয়া যৌ’নপল্লীর বাসিন্দা যৌ’নকর্মী পারভীনের জানাজা শেষে সবার সাথে তার বহনকৃত মরদেহের খাটিয়া ওসি নিজেই কাঁধে নিয়ে রওনা হন কবরস্থানে। এ সময় যৌ’নকর্মী পারভীনের মরদেহের খাটিয়া ওসির কাঁধে নেওয়ার দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে যান যৌ’নপল্লীর সহস্রাধিক যৌ’নকর্মী। সবার মুখে মুখে তখন মানবতার জয়গান। প্রশংসায় ভাসতে থাকেন ওসি আশিকুর রহমান।

জানা জায়, উপস্থিত সকল মুসল্লি হতবাক হয়ে যান ওসির মানবিকতায়। যৌ’নকর্মী পারভীনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একাধিক যৌ’নকর্মী বিডি২৪লাইভকে বলেন, কখনো ভাবতেও পারিনি মৃ’ত্যুর পর আমরা মানুষ হিসেবে চিরবিদায় নিতে পারব। আমাদের জন্য ওসি স্যার যা করলেন তা ভোলার নয়। আল্লাহ উনার মঙ্গল করুক। দৌলতদিয়া ইউপি সদস্য জলিল ফকির বিডি২৪লাইভকে বলেন, গোয়ালন্দের ওসি মহোদয় আজ যৌ’নকর্মীর মরদেহের খাট কাঁধে নিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা নজিরবিহীন। সত্যি তিনি প্রশংসার দাবিদার।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিকুর রহমান বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমি কি এমন করেছি তা জানি না। তবে মানুষ হিসেবে শুধু আমার না, এ কাজটি সবারই করা উচিত। আজ যা করা হলো আমি না থাকলেও যেন এ কাজটি অব্যাহত থাকে। আমি চাই একজন মানুষের শেষ বিদায়টা যেন সম্মানের হয়।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে যৌ’নকর্মীরা মারা গেলে তাদের নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হত অথবা মাটির নিচে পুঁতে রাখা হতো। যেমন ইসলাম ধর্মের রীতিতে জানাজা পড়ে দাফন হত না তেমনি সৎকারও হত না। বিষষটি গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিকুর রহমানের নজরে আসলে তিনি ২ ফেব্রুয়ারি হামিদা বেগমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন করান। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জানাজা হয় যৌ’নকর্মী রিনা বেগমের ও সর্বশেষ আজ শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) যৌ’নকর্মী পারভীনের জানাজা পড়ানোর সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার সমাজ পরিবর্তনের মহতী এই উদ্যোগ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ফলাও করে প্রচার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব জায়গায় প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: