প্রচ্ছদ / বিনোদন / বিস্তারিত

কবে নিজ দেশে ফিরতে পারবো কিছুই জানিনা: ফাহমিদা নবী

   
প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, ৩ এপ্রিল ২০২০

আজ একটা অস্থির কিন্তু অনুধাবনের গল্প বলি …। মন তো এলোমেলো হয়ে আছে। ঢাকায় ফিরতে পারছি না, আটকে গেছি লন্ডনে। কবে ফিরতে পারব নিজের দেশে জানি না! অন্তরার বাসায় আছি। আনমোল, তাজরিয়ানকে নিয়ে কাটছে দিন। তবু ঢাকা টানছে, নিজের ঠিকানাটার জন্য মন অস্থির হয়ে আছে। ভাবছিলাম অন্তরা তো আদরের ছোট বোন, যখন বিদেশে সবাইকে ছেড়ে চলে এসেছিল, ওর কত কষ্ট হতো?

পাগল হয়ে যেত ঢাকায় ফেরার জন্য। অনেকবার চলেও গিয়েছিল ঢাকায়, ওখানেই থাকবে বলে। কিন্তু পরিস্থিতি, সময়, অভ্যস্ততা, লন্ডনকে বানিয়ে দিয়েছে ওর ঠিকানা। অন্তরার কষ্ট অনুভব করি। আমার পলি খালাও অনেক বছর মেনে নিতে পারেননি এই দেশকে নিজের দেশ হিসেবে, এখন পারেন। এখন ঢাকায় গিয়ে ঘুরে তারপর চলে আসেন। বুঝি যারা বিদেশে থাকে তাদের কেন এত টান দেশের জন্য। এই অবস্থায়, আমারও ঠিক এমনই লাগছে। মনে হচ্ছে কবে যেতে পারব ঢাকায়? কবে এই মহাবিপদ থেকে পুরো বিশ্ব মুক্তি পাবে? এই মুহূর্তে কী চাই, আর কী চাই না, ঠিক জানি না। গৃহবন্দি থাকছি, স্বজ্ঞানে। তাই নিজেকে মানসিকভাবে ব্যস্ত রাখতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানানভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখছি। কখনও রান্না করছি, আজ তো চালের আটার রুটি বানাতে গিয়ে, ত্যাড়াবাঁকা রুটি বানালেও মোটামুটি ভালোই হলো খেতে।

ভাবলাম, ঢাকায় ফিরে একটা রেস্টুরেন্ট খুলব… নাম দেব ‘জোড়াতালি’। কারণ, এত জোড়াতালিতে জীবনযাপন, মন্দ কী, নামটা যদি হয় জোড়াতালি? হাসাহাসিও করলাম। কখনও টিভি দেখছি। ইউটিউবে যা ভালো লাগছে দেখছি। ঘর পরিস্কার করছি। আর এফবির বন্ধুরা তো আছেই সবসময় পাশে। বিশেষ করে শিল্পী হিসেবে লন্ডনপ্রবাসীরা যারা খবর নিচ্ছেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। সবার সঙ্গে যোগাযোগে থাকছি। সবাই ভালো আছেন তো? জানবার চেষ্টা করছি। ভিডিও কলে একসঙ্গে সবাই মিলে কথা বলছি। প্রযুক্তির সুবিধায় জানতে, বলতে, দেখতে পারছি।

অন্তরার বাসার জানালা থেকে খোলা আকাশ দেখা যায়, চমৎকার লেক দেখা যায়, জানালার কাচে বৃষ্টি বেয়ে পড়া জল দেখি। এত শীতে অনেক রোদ আসে ঘরে, রোদ পোহাই, এই বৃষ্টি, এই রোদ- এই একটু বাদে গোধূলি বেলা। তারপর সন্ধ্যা হতে না হতেই একেবারে গভীর নীরবতা ছেয়ে বসে রাতের অন্ধকার। রাস্তায় তাকিয়ে থাকি, কোনো মানুষ নেই, শব্দহীন চুপ শহর। রাতদিন সমান চুপ! গাড়ি দু’-একটা চলে… রাত আরও বাড়ে, দুশ্চিন্তা আরও ঘিরে ধরে! ভাবি, কত অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম আমরা তাই না? প্রয়োজনের অতিরিক্ত সব কিছুতেই একটা দৌড়ের মধ্যে বসবাস ছিল! ব্যস্ততার জীবনে একটু সময় ছিল না কারও কাছে।

ধাম করে সব বন্ধ হয়ে গেল। থমকে গেল পুরো পৃথিবীর কোলাহল! আটকে গেল চলাচল, বন্ধ নয় নিজেই, বন্দি হলাম নিজের কাছে! নিজের কর্মের হিসাব নেওয়ার-দেওয়ার পালা হলো শুরু। কত দ্রুত বদলে গেল জীবনের সব আয়োজন?

যুদ্ধ নয়, তবু এক যুদ্ধের রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে আছি, আকাশের দিকে চোখ মেলে নীরব অশ্রুপাতে। কেউ নয় কারও, একি হলো? এমন এক ক্রান্তিলগ্নে, কে কখন এই ভাইরাসের রাহুতে পড়ে যাচ্ছে, কেউ জানি না! তাই সাবধানে থাকতে হচ্ছে। সচেতন হয়ে নিজেকে একঘরে করে রাখতে হচ্ছে। চাইলেও কেউ বলবে না বেড়াতে আসো বাসায়। কেউ বলবে না তুমি ভীষণ অসামাজিক হয়ে গ্যাছো। বিরাট পরিবর্তন পৃথিবীর! করোনার মোকাবিলায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই প্রতিদিন। মানুষ এই মানবিক যুদ্ধে জিততে পারবে তো? কেউ জানি না কার কখন কী হবে।

শুধু না জানা এক অপেক্ষায় বসে আছি। চেষ্টা চলছে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে সেই আশায়। বিশাল ‘কেন’ই অনেক প্রশ্ন উত্তর তৈরি করছে। বিধাতার কাছে বলি, কবে হবে পুরো বিশ্বের মুক্তি এই অভিশাপ থেকে? কবে ফিরবে সবার নিঃশ্বাসে স্বপ্নের ছুটে চলা? সবসময় বলি মানুষ বাঁচে আশায়। কিন্তু এত সত্য যে বিষয়টা, আজ সব বেশি অনুধাবন করছি। আজ বুঝেছি মানুষ আশায় বাঁচে কীভাবে? আশাই তো একমাত্র ভরসা, যে ভরসায় সৃষ্টিকর্তার দিকে দু’হাত তুলে ক্ষমা চাইছি, তার দয়া ছাড়া তো কোনো মুক্তি নেই। হয়তো সেদিনের আশায় আছি, যেদিন সবার মধ্যে বদলে যাওয়ার ভালো সত্য হাওয়া ফিরবে। প্রকৃতিও নিঃশ্বাস নেয়, তা ভুলে গিয়েছিলাম। তাই প্রকৃতির ভারসাম্যকে ফেরানোর নির্মাণ কাজ চলছে।

সৃষ্টিকর্তা মানুষকে হয়তো আবার নতুন করে গড়ে দিচ্ছেন, তাতে নিজেদের অভ্যস্ততায় এক নতুন সময়ের সঙ্গ অভ্যস্ত হবে মানুষ। অনেক দুঃখের পর, সুখ আসবে, আশায় আছি। অনেক আঁধারে একটু আলোর দিশা খুঁজে আলোর দিকে এগিয়ে যাবে মানুষ… শুধরে নেওয়ার সঠিক সময় এখনই। অনেক তো আশা… আশাই বাঁচিয়ে রাখুক বাকি সময়ের অজানা আশাকে। ভালো হোক সবার।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: