প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

হারুন অর রশিদ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

করতোয়া নদীর কাঠের সেতু ভেঙ্গে দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

   
প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, ১৩ জুলাই ২০২০

পঞ্চগড়ে টানা ভারি বর্ষনে করতোয়া সহ অন্যান্য নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার করতোয়া নদীর মিরগড় ঘাটের চারশত মিটার কাঠের সেতু পানিতে তলিয়ে গেছে। ধাক্কামাড়া ইউনিয়ন ও সাতমেরা ইউনিয়নের দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। পৌরসভার নিমনগড়, পৌরখালপাড়া, রামের ডাংগা শতাধিক বাড়িতে করতোয়া নদীর পানিতে ডুবে গেছে। করতোয়া নদীর পানিতে ডুবে যাওয়া পরিবারগুলো আশে পাশের উচু স্থানে এবং মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছে। আপাতত দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার খুব কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের পানি আসতে শুরু করলে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে মিরগড় ঘাটে প্রবল স্রোতের কারনে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ঘাট পারাপার হওয়া নদীপথে যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। তাদেরকে প্রায় আট থেকে দশ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী মো: মহসিন জানায় আসলে কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষনে করতোয়ার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই কারন করতোয়ার সাথে ভারতের শাঁও নদীর সংযোগ আছে । শাঁও নদীতে পানি বৃদ্ধি হলে সেই পানি যদি করতোয়া আসে সেক্ষেত্রে বন্যা হতে পারে। আর জেলার ৩২ টি নদীর পানি করতোয়ায় এসে পড়ে । এ কারনেই করতোয়ার পানি বৃদ্ধি হয়ে বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হয়েছে।
এদিকে নিম্নাঞ্চলের পৌরখালপাড়ার বাসিন্দা জাহিদ হোসেন জানায় রোববার রাতে করতোয়া নদীর পানি দিয়ে আমার বাড়ি ডুবে গেছে । সোমবার সকাল হতে দু:শ্চিন্তায় আছি কি করবো কোথায় যাবো।

সরেজমিনে সদর উপজেলার ধাক্কামাড়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর মিরগড় ঘাট কাঠের সেতু ভেঙ্গে গিয়ে চরম দূর্ভোগে আছে সেখানকার মানুষ। সেতু পার হতে এসে কাচ্চু নামে একজন জানায় সেতু পার হতে এসে বিপাকে পড়েছি। প্রতিদিনই সেতু পার হয়ে ময়নাগুড়ি হয়ে ভজনপুর যাই । কিন্তু এখন আমাকে প্রায় দশ কিলোমিটার অতিক্রম করে যেতে হবে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার মিরগড় এলাকার হাসান আলী জানান, এই কাঠের সেতুটিই আমাদের যোগাযোগের একমাত্র সম্বল। আমরা সহজে এই অস্থায়ী সেতু দিয়ে ধাক্কামারা ও সাতমেরা ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করি। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র তৌহিদুল ইসলাম জানান, অতিবর্ষণ হলেই আমার এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। প্রায় দুই শতাধিক পরিবার এখন উচু স্থানে অবস্থান করছে। তাদের শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: