প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

সাহিদুজ্জামান সাহিদ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

করোনাকালেও থেমে নেই ড্রেজার দিয়ে বালু লুট!

   
প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ডাকরখালি গ্রামে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তারা ডাকরখালি চকে ড্রেজার বসিয়ে এলাকার বিভিন্নস্থানে বালু বিক্রি করে আসছেন। তাদের ড্রেজিং এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ে থাকা ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বাঁধা দিতে সাহস পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

সরজমিনে বাল্লা ইউনিয়নের ডাকরখালী গিয়ে দেখা যায়, ডাকরখালি চকেঅবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। যার চারপাশেই রয়েছি তিন ফসলী জমি। রাস্তার উপর দিয়ে ড্রেজার এর পাইপ নিয়েও রাস্তা সংলগ্ন নিচু জমি ভরাট করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানান, হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ফিরোজ, আমিনুল ইসলাম আরজ এবং রাকিব হাসান ড্রেজার দিয়ে বালু-মাটি উত্তলন করছে। যে জমিতে তারা ড্রেজার বসিয়েছেন ঐ একই জমিতে দুই বছর আগেও ড্রেজার বসানো হয়েছিল। তাতে এলাকাবাসীর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরে প্রশাসন ড্রেজারটি পুড়িয়ে দেয়। এবছরও ছাত্রলীগের উল্লেখিত নেতাকর্মী একই যায়গায় ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন।

আশেপাশের জমির মালিকরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বাঁধা দিতে পারছেন না। ঐ জায়গায় বন্যার পানি থাকার কারণে আশেপাশের জমির মাটিও কেটে নিচ্ছেন কিনা তা এলাকাবাসী বুঝতে পারছেন না। তবে তারা তাদের জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় আছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

যে জমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে তার পূর্ব পাশেই উত্তর গোড়াইল গ্রামের মামুন মিয়ার রয়েছে ৩০ শতাংশ জমি। তিনি বলেন, ‘এর আগেও ড্রেজার চালানোর কারণে আমাদের ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। সেই একই জায়গায় এবারও ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে যে কোন সময় আমাদের জমি ধ্বসে যেতে পারে। সরকারদলীয় নেতাকর্মী হওয়ায় ভয়ে আমরা তাদের বাঁধা দিতে সাহস পাচ্ছি না।’

উত্তর গোড়াইল গ্রামের রাজা মিয়া বলেন, ‘‘যে জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে ঐ জমির পূর্ব ও পশ্চিম পাশে আমাদের ৪ পাখি (১২০ শতাংশ) জমি রয়েছে। এর আগেও একবার ঐ জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করায় আমাদের ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছিল। এবারও ঐ জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বেশি গভীর করে বালু উত্তোলন করার ফলে আমাদের জমি ধ্বসে পড়তে পারে। আপনারা যদি পারেন তাহলে আমাদের জমি রক্ষা করুন।”

উত্তর গোড়াইল গ্রামের সাইদুল বলেন, ড্রেজার দ্বারা বালু উত্তোলন করলে নিচে বালুর লেয়ার সরে যায়। আর ঐ জমি থেকে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। যার কারণে সরকারি পাকা রাস্তাসহ আমাদের বাড়িঘরও ধ্বসে পড়তে পারে।

সরজমিনে উত্তর গোড়াইল গ্রামের শাহিনুর এর নিচু জায়গা ভরাট করতে দেখা যায়। শাহিনুর জানান, তার জমি ৬০ হাজার টাকার চুক্তিতে ভরাট করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ফিরোজ বলেন, আমি এই ড্রেজার ব্যবসার সাথে জরিত নই। আরজ এবং রাকিব ড্রেজার ব্যবাসা করে। তারা নিজস্ব যায়গা থেকেই মাটি কাটছে।

ড্রেজার ব্যবাসার সাথে হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে ড্রেজার ব্যবসার আরেক অংশিদার আমিনুল ইসলাম আরজ বলেন, ১০-১২ দিন যাবৎ আমরা ড্রেজারটি বসিয়েছি। খুব দ্রুত আমাদের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলার সহকার কমিশনার (ভূমি) বিল্লাল হোসেন বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে কেউ আমাকে অভিযোগ করেনি। যারা ড্রেজার ব্যবসা করেছে তাদের রিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: