প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

আরমান হোসেন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

করোনা প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে নির্দেশনা দিল মাউশি

   
প্রকাশিত: ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ১১ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাস কী এবং এই রোগ প্রতিরোধে কী কী করতে হবে, তার সবিস্তার তুলে ধরে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আদেশ পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত এ আদেশ মাউশির অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব অফিসে পাঠানো হয়। ‘করোনাভাইরাস রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় করণীয়’ শীর্ষক নির্দেশনায় বলা হয়, সরকার এরইমধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ ও আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার্থে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সবার সতর্কতা ও সচেতনতা প্রয়োজন। গত রোববার বিদেশ ফেরত তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানায় সরকারের রোগ পরীক্ষা, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এ পরিপ্রেক্ষিতে আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করোনাভাইরাসের তথ্য সম্বলিত নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুসরণের জন্য অনুরোধ করে মাউশি। ২০১৯ এন-করোনা ভাইরাস সম্পর্কে বলা হয়, অনেক প্রজাতির করোনা ভাইরাসের মধ্যে যে ৭ টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে তার একটি ২০১৯ এন-করোনা ভাইরাস।

যেভাবে ছড়ায়: এ ভাইরাস কোনো প্রাণি থেকে মানুষের দেহে ঢুকেছে; এখন মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হচ্ছে; করোনাভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে (হাঁচি, কাশি, কফ, থুথু) অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায়।

লক্ষণ: ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় ২-১৪ দিন লাগে; বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষণ জ্বর; এছাড়া শুকনো কাশি বা গলা ব্যথা হতে পারে; শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে; অন্যান্য অসুস্থতা (ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ বা শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগ বা কিডনি সমস্যা বা ক্যান্সার) থাকলে অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হতে পারে।

প্রতিকার: যেহেতু এ ভাইরাসটি নতুন, তাই এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনও নেই; চিকিৎসা লক্ষণভিত্তিক।

প্রতিরোধে করণীয় (ব্যক্তিগত সচেতনতা): ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে (অন্তত ২০ সেকেন্ড); অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা যাবে না; ইতোমধ্যে আক্রান্ত এমন ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে; কাশির শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে (হাঁচি বা কাশির সময় বাহু বা টিস্যু বা কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হবে); অসুস্থ পশু বা পাখির সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে; মাছ-মাংস ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে; অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন, বাইরে যাওয়া অত্যাবশ্যক হলে নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে হবে; জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত বিদেশ ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন এবং প্রয়োজন ব্যতীত এ সময়ে বাংলাদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করতে হবে; প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করতে হবে; প্রয়োজন ছাড়া যে কোনো জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে; অত্যাবশ্যকীয় ভ্রমণে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

সন্দেহভাজন রোগের ক্ষেত্রে করণীয়: প্রবাসী আত্মীয়কে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা; অসুস্থ রোগীকে ঘরে থাকতে বলুন; মারাত্মক অসুস্থ রোগীকে নিকটস্থ সদর হাসপাতালে যেতে বলুন; রোগীকে নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে বলুন; রোগীর নাম, বয়স, যোগাযোগের জন্য পূর্ণ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করুন।

মাউশির নির্দেশনায় এ ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে আইইডিসিআরের করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০-৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন ০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪ ও ০১৯২৭৭১১৭৮৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: