মো. ইলিয়াস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

করোনা ভাইরাস: ঢাবি ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে মাইকিং

   
প্রকাশিত: ৯:৫৫ অপরাহ্ণ, ১৮ মার্চ ২০২০

বিশ্বকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গোটা বিশ্বই এখন কার্যত অচল। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশ আ’ক্রান্ত হয়েছে। ঠিক তখনি বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এমনকি আজ বুধবার (১৮ মার্চ) করোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ একজনের মৃ’ত্যু হয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব স্কুল কলেজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও। বুধবার (১৮ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে হাতেগোনা দু-এক জন লোক ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন। তাদেরকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। যারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন তারা দ্রুত ক্যাম্পাস ত্যাগ না করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় যারা বসে আছে আড্ডা দিচ্ছেন তাদেরকে চলে যেতে বলা হচ্ছে।

কলাভবনের সামনে দেখা যায় মাইকিং করে বলা হচ্ছে আপনারা যারা কলাভবনের সামনে আছেন তারা অতি দ্রুত স্থান ত্যাগ করুন নিরাপদে থাকুন, আর যারা বটতলার নিচে এখনো ঘোরাফেরা করছেন, এখনো বসে আছেন আপনাদের একান্ত দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আপনারা ঘোরাফেরা করবেন না অতি শীঘ্রই স্থান ত্যাগ করুন।

মাইকিং কেন করছে জানতে চাইলে আব্দুল করিম বলেন, করোনা ভাইরাসের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ দেয়া হয়েছে। আর এই ভাইরাস আতংকের জন্য ক্যাম্পাস ত্যাগ করার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। এদিকে সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একই চিত্র দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার যারা বসে আছে বা আশপাশে যারা অবস্থান করছে মাইকিং করে তাদেরকে স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়েছে এবং যারা করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

এরপর নীলক্ষেত গিয়ে পূর্বের মতো জনসমাগম চোখে পড়েনি। পূর্বে যেরকম উপচে পড়া ভিড় থাকে এমন জনসমাগম দেখা যায় নি। এক বই বিক্রেতার বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস আ’তঙ্কে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না, মার্কেটেও আসছে না বিক্রি কিভাবে হবে।

নিউ মার্কেটে একই চিত্র দেখা গেছে পূর্বের মতো তেমন জনসমাগম নেই। লিটন নামে এক দোকানদার বলেন, বিক্রির অবস্থা খুবই খারাপ, করোনা আ’তঙ্কে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। মনে হয় মার্কেটও বন্ধ হয়ে যাবে। মার্কেট বন্ধ হলে আমাদের মত সাধারণ মানুষের কি অবস্থা হবে?

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে এক বৃদ্ধের মৃ’ত্যু হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিভাগ (আইইডিসিআর)। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিভাগটির পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এছাড়া নতুন চারজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর ফলে, বাংলাদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ জনে। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। তখন তিনজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানায় আইইডিসিআর।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: