সোহাগ হোসেন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

করোনা ভাইরাস: প্রেমিক-প্রেমিকারা হতাশাগ্রস্থ

   
প্রকাশিত: ৫:২৫ অপরাহ্ণ, ১৭ এপ্রিল ২০২০

এক মাস হয়ে গেলো প্রিয়তমার সাথে দেখা হয় না। জানি না আর দেখা হবে কি না। মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে সারা দেশ লক ডাউন। বাইরে বের হলেও বিপদ আবার অনিরাপদও বটে। তাই আমাদের দুজনের অনেক দিন দেখা হয়নি। চোখ জ্বলে যায় তবুও দেখা হয়না আমাদের আর। মোবাইলে কথা হয় তবে দেখা করার কোন উপায় নেই যতদিন পরিবেশ স্বাভাবিক না হবে। জীবনে আর দেখা হবে কি না তেমন সংশয় আর বুক ভরা ক্লান্তিকর আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলেছেন পারভেজ সুমন নামের এক যুবক। বলছিলেন তার প্রেমিকার কথা। তাদের দেখা হয়না এক মাস পার হয়ে গেলো। ভালোবাসাও থমকে যাচ্ছে আর হেরে যাচ্ছে পৃথিবী অচল করে দেওয়া এই মহামারি ভাইরাসটির কাছে। রোজ গড়ে পৃথিবী সব দেশ মিলে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে ভাইরাসটির কবলে পড়ে। ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া প্রতিবেদনে করোনায় ঝূকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে ১৩ নাম্বরে। এমনি এক অনিশ্চিত জীবনের শেষ প্রহরে পৌঁছে যাওয়ার মত আভাস মিলছে মোটা দুনিয়ায়।

অন্যদিকে, প্রেম-ভালবাসা সবাই করে। বাংলাদেশের কথায় বলি। দেশে কোটি কোটি যুবক- যুবতি রয়েছেন যারা সকলে কোন ভাবে না কোন ভাবে ভালবাসা নামক অদৃশ্য বন্ধনে আবদ্ধ। হয়তো প্রিয়জনের সাথে কলেজ ক্যাম্পাসে বা পার্কে অথবা অন্য কোন বিশেষ জায়গায় দেখা হতো প্রায়-ই। তবে দেশ লক ডাউন থাকায় প্রিয়জনের সেই প্রিয় মুখটি দেখা হয়না আর বহুদিন। শুধু কথা হয় তরঙ্গের ঢেউয়ে ঢেউয়ে অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইমু, হটস্অ্যাপের মাধ্যমে। যখন খুব দেখতে ইচ্ছে হয় প্রিয় মানুষটির মুখ তখন হয়তো ভিডিও কলে দুই চার সেকেন্ড দেখে মনকে সান্তনা দিচ্ছেন সকল প্রেমিক প্রেমিকারা। ফেসবুকেও অনেকে আবেগাচ্ছন্ন স্ট্যাটাস দিয়ে চলেছেন প্রতি নিয়ত। তেমনি এক যুবকের ফেসবুক টাইম লাইনে পাওয়া গেছে আবেগঘন কিছু কথার মিশ্রনে একটি স্ট্যাটাস।

সেই স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘জানিনা মানুষ কেন ভালবাসে, জানিনা কেন জীবনে প্রেম আসে আর এটাও জানিনা ভালবাসা কেন হয়। তবুও ভালবাসা হয়ে যায় জীবনের কোন এক অলিতে-গলিতে। শহরের জীবন ছেড়ে গ্রামে চলে এসেছি অথচ ওদিকে আমার ভালবাসার মানুষটি চলে গেছে দেশের অন্য প্রান্তে তার নিজ গ্রামে। দিনে দিনে দেশে করোনা আক্রান্তের হার চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে চলেছে। জানিনা আল্লাহ কপালে কি রেখেছেন। আমাদের শেষ দেখা হয়েছিলো গত ১৮ দিন আগে। জানিনা পৃথিবী কখনো আমাদের সকলের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে দিবে কিনা। দূরে থেকে খুব মনে পড়ে প্রিয় মানুষটির কথা। মনে পড়ে প্রিয় মানুষের প্রতিটা স্পর্শের কথা। জানিনা আমরা আর কখনো শহরে ফিরে যেয়ে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক নিয়মে দেখা হবে কিনা। তবুও অনেক ভালবাসি তোমায় প্রিয়তমা। ভালবাসা পবিত্র তাই বেঁচে থাকুক পৃথিবীর সকল ভালবাসার বন্ধনটুকু। আল্লাহ সবাইকে মাফ করে পৃথিবী আগের সেই স্বাভাবিক নিয়মে চলার তৌফিক দাও’।

কথা হয়েছে অনেক প্রেমিক কিংবা প্রেমিকাদের সাথে। তেমনি ভাবে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় সুমি নামের একটা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীর সাথে। তিনি জানান, সেও ভালোবাসে! তবে ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিচ্ছেদ হয়েছে দেখা আর অদেখার। তার প্রিয় মানুষটি তাকে এক পলক দেখার জন্য তার কাছে আসতে চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছেন। কারন সকল প্রকার যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ। রাস্তায় পুলিশ, সেনাবাহিনী। দূর থেকে শুধু ভালবেসে যাওয়া ছাড়া কিছু করার এই সময়ে এমনটি জানালেন এই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রী। করোনার কবলে পড়ে পৃথিবী অচল। তবুও ভালবাসায় আবদ্ধ কোটি কোটি প্রেমিক প্রেমিকা স্বপ্ন দেখছেন সব কিছু দ্রুত স্বাভাবিক নিয়মের মত চলতে শুরু করবে। আবার দেখা হবে যার যার কাঙ্খিত মানুষের সাথে। সকল কষ্ট হতাশা আর একাকীত্ব দূর হয়ে যাবে। পৃথিবী হয়ে উঠবে ভালবাসাময় অন্য এক আশ্রায়স্থল।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: