প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি রাশিয়ার, পুতিনের মেয়েকে টিকা প্রদান

   
প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, ১২ আগস্ট ২০২০

সুরক্ষার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে পুতিন তার মেয়ের শরীরেও এই টিকা ইনজেক্ট করা হয়েছে। ছবি: ইন্টারনেট

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাস টিকার অনুমোদন দিয়েছে। এমনকি তার মেয়েকে ইতোমধ্যে এই টিকা দেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন পুতিন। খবর রাশিয়া টুডের।

বিশ্বের ১৬০ রকম ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে এখনও অবধি ৬টি মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে। তৃতীয় স্তরের ভ্যাকসিন ট্রায়ালে রয়েছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকা, আমেরিকার মোডার্না, চিনের সিনোভ্যাক। এদের মধ্যে মোডার্না ও অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনে আশার আলো দেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। তবে রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিন নিয়ে এখনও নানা মহলে তর্ক-বিতর্ক চলছে। কারণ ভ্যাকসিনের প্রথম স্তরের ট্রায়ালের পরেই রাশিয়া দাবি করেছে টিকা সার্বিকভাবে প্রয়োগের জন্য তৈরি। যেখানে অক্সফোর্ড, মোডার্না এখনও তৃতীয় স্তরের ট্রায়ালেই রয়েছে। এখন দেখে নেওয়া যাক, কী ধরনের ভ্যাকসিন বানিয়েছে রাশিয়া, ট্রায়াল হয়েছে কীভাবে।

রাশিয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করছে গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি। সংস্থার ডিরেক্টর অলেক্সান্ডার গিন্টসবার্গ বলেছেন, সরাসরি করোনার স্পাইক প্রোটিন ব্যবহার না করে অন্য ভাইরাসের সঙ্গে আরএনএ প্রোটিন মিলিয়ে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে। সর্দি-কাশির জন্য দায়ী যে অ্যাডেনোভাইরাস, তাকেই ভেক্টর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই অ্যাডেনোভাইরাস মামুলি সর্দি-জ্বর ছড়ায়, প্রাণঘাতী সংক্রমণ ছড়াতে পারে না। অ্যাডেনোভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে তার মধ্যে করোনার স্পাইক (S) প্রোটিন মিশিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। ভাইরোলজিস্টরা জানিয়েছেন, করোনার যে আরএনএ প্রোটিন স্ক্রিনিং করা হয়েছে তাকে আগে নিষ্ক্রিয় করে নেওয়া হয়েছে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে, যাতে এই ভাইরাল স্ট্রেন শরীরে ঢুকলে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় না বাড়তে পারে।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিও অ্যাডেনোভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। সেই একই পদ্ধতিতে টিকা তৈরি করেছে রাশিয়ার গ্যামেলিয়া ইনস্টিটিউটও। ভাইরোলজিস্টদের দাবি, সেফটি ট্রায়ালে এই টিকার সাফল্য দেখেই মানুষের শরীরে ইনজেক্ট করার পরিকল্পনা করা হয়। দেখা গেছে, টিকা শরীরে ঢুকে কোনওরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটায়নি। তার মানেই, টিকা কাজ করা শুরু করে দিয়েছে। টিকার প্রভাবে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেছে গ্যামেলিয়া।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: