করোনা: যেভাবে কাটছে বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণপিপাসুদের দিন

   
প্রকাশিত: ৭:৩৮ অপরাহ্ণ, ৬ আগস্ট ২০২০

আশরাফুল আলম, বশেমুরবিপ্রবি থেকে: ক্ষুদ্র এক অনুজীব সংক্রমণ, থমকে দিয়েছে পুরো বিশ্ব। ঘরবন্দী জীবনযাপন করছে প্রতিটি মানুষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি চালু রয়েছে দেশব্যাপী চলাচলে নানান বিধি-নিষেধ। অচিরেই এ বিধি-নিষেধ শেষ সম্ভাবনা নেই বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণ পিপাসুরা সাধারণত দীর্ঘ ছুটিসহ প্রায় সারাবছরই ব্যস্ত থাকেন বিভিন্ন ট্যুর সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়েই। দেশব্যাপী লকডাউনে ভ্রমণবিহীন কেমন কাঁটছে তাদের দিনলিপি? এ নিয়ে জানতে চাইলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিস্টরা বিডি২৪লাইভের কাছে তাদের মনোভাব তুলে ধরেন।

চার দেয়ালে বন্দী সময় উল্লেখ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিস্ট সোসাইটির সভাপতি হিমেল ফারাবি বলেন, জীবনটা পুরোপুরি একঘেয়েমি লাগছে। অনেকটা বনের পাখিকে খাঁচায় আটকে রাখার মত। ঘুম, সিনেমা দেখা, উপন্যাস পড়া আর অনলাইনেই কাটছে বেশিরভাগ সময়।

আক্ষেপ প্রকাশ করে এ শিক্ষার্থী আরো বলেন, জীবন স্বাভাবিক থাকলে হয়ত এখন কোনো ঝর্ণা বা পাহাড় চূড়ায় ঘুরতে পারতাম। প্রথম দিকে ভীষণ খারাপ লাগলেও এখন মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছি।

পরিবারকে অনেক বেশি সময় দেওয়ার পাশাপাশি সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লাস ধরার চাপ নেই উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিস্ট সোসাইটির সভাপতি মাহমুদুল হাসান নিশাত বলেন, এতদিন ঘরবন্দী থেকে মায়ের সংগ্রামী জীবন উপলব্ধি করতে পেরেছি। ঘরবন্দী অভিজ্ঞতা খুবই কষ্টকর যা অস্বীকারের উপায় নেই। তবে বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা, শখের টুকটাক রান্নাবান্না আর অনলাইনেই কেটে যাচ্ছে বেশিরভাগ সময়।

ভ্রমণ মানসিক চাপ মুক্তির মহৌষধ উল্লেখ করে বিজি এমই ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন টেকনোলজি ট্যুরিজম এর এডমিন ওয়াসিম আকরাম বলেন, চারমাস বেকারত্বের মাঝে বইপড়া, গেমিং, ফেসবুকিং এর সাথে পার হয়ে যাচ্ছে নতুন সময়।

তিনি আরো বলেন, ভ্রমণ পিপাসুরা স্থান, কাল, পাত্র ভেদে সহজেই নিজেদের মিশিয়ে নিতে পারে। তাই এই বাস্তবতাকে সঙ্গী করে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

এছাড়া বশেমুরবিপ্রবি ট্যুরিস্ট সোসাইটির আহবায়ক আঞ্জুমান আরা বলেন, জীবন সংগ্রামে কখনো রাজত্ব থাকে মানুষের কখনো বা প্রকৃতির। মানুষের প্রকৃতির প্রতি বিরুপ আচরণের কারনেই এমন দূর্দশা। মার্চ হতেই সময় কাটছে বন্দী দশায়। তবে একেবারে খারাপ কাটছেনা। এতটা বেশি সময় পরিবারকে কখনো দেওয়া হয়ে উঠেনা তাই পরিবারের সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করতে পারছি। তাছাড়া অনলাইন ক্লাস, বই পড়া, লাইভ আড্ডা, ছোট বোনদের পড়ানো আর শখের রান্নাবান্না নিয়ে অভিজ্ঞতাটা খারাপ না।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: