প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

ফরমান শেখ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

কাপড় ও কাঠে ব্যবহৃত রঙ মিশিয়ে বেকারী খাবার তৈরী!

   
প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, ২৪ জানুয়ারি ২০২০

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অসংখ্য বেকারী কারখানাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বেকারী পণ্য ব্যবসায়ীরা নানা ধরণের কেমিক্যাল, কাপড় ও কাঠে ব্যবহৃত রঙ মিশিয়ে দিনের পর দিন তৈরি করে আসছিল বেকারি পণ্য খাবার।

জানা গেছে, ভোক্তাদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার সরেজমিনে বেকারীগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে উপজেলার বাগবাড়ী, গোবিন্দাসী, কষ্টাপাড়া, রুহুলী (নৌকা মোড়), কয়েড়া ও ভালকুটিয়া গ্রামের ৮টি বেকারিতে অভিযান পরিচালনা করে এর সত্যতার প্রমাণও পায় অনুসন্ধানে। শুধু রঙ আর কেমিক্যাল ব্যবহারী নয়। কয়েক দিনের পোড়া ভেজাল তেল, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি করা হয় বিভিন্ন খাবার সামগ্রী। স্থানীয়রা বলছে, ভেজাল তেল ও কড়াইয়ে জমে থাকা সেই পোড়া তেল এবং চিনিযুক্ত পচা তেলেও এই বেকারী খাবারে ব্যবহার করতো তারা।

এদিকে বেকারী কয়েকজন ব্যবসায়ীরা তাদের অপ-কাজের দায় স্বীকার করে বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নামমাত্রক ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে হাতে গোনা কয়েকজন ব্যবসায়ীরা পণ্য উৎপাদন করলেও বাকি বেকারীগুলোর কোনো লাইসেন্স বা (বিএসটিআই) এর অনুমোদনও নেই। সরেজমিনে আরো জানা গেছে, বেকারি পণ্যগুলোর মেয়াদ নির্ধারিত নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই মনগড়া সিল বানিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও অনুমোদনহীন মনোগ্রাম ব্যবহার করছে। এছাড়াও উৎপাদনের ২/৩ দিন দোকানে রাখা পচে যাওয়া পণ্যগুলোও তারা চুলায় শুকিয়ে পূনরায় বিক্রি করছে।

এ ছাড়াও অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মুক্তা রানী সাহার বিরুদ্ধেও। অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশ ও রঙ মিশিয়ে খাদ্য উৎপাদনের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মহী উদ্দিন বলেন, বেকারী পণ্যে রঙ মিশিয়ে ও অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে খাবার তেরি পেটে ক্যান্সার হওয়া আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এসব খাবার বেশী ক্ষতিকর। তাই সকলের ভেজাল খাবার পরিবহার করা উচিত।

উপজেলার এই ভেজাল বিরোধী অভিযানের বিষয়ে কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসলাম হোসাইন বলেন, গত বুধবার সারাদিন ব্যাপি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৮টি বেকারি পণ্য উৎপাদন কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এতে করে বেকারী মালিকদের মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ নাসরীন পারভীন বলেন, ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। এই উপজেলাকে ভেজাল মুক্ত করার জন্যই আমাদের এ অভিযান। অল্প কিছু জরিমানা করে এদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আবারো এমন ভেজাল বেকারী উৎপাদন করলে ওই বেকারীগুলোতে সিল গালা করে বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: