প্রচ্ছদ / অপরাধ / বিস্তারিত

কারও সহযোগিতা পাননি ওই ছাত্রী!

   
প্রকাশিত: ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, ৮ জানুয়ারি ২০২০

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ওই সড়কের পাশের দুটি সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সকালে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বান্ধবীর বাসা শেওড়ায় যাচ্ছিলেন ভুক্তভোগী। তবে ভুলবশত শেওড়ার আগেই নেমে পড়েন বিমানবন্দর সড়কে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কাছে। এর পরই এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি অকস্মাৎ তার মুখ চেপে ধরে হাসপাতালের অদূরে গলফ ক্লাব সীমানার শেষ প্রান্তে ঝোপের মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর ধর্ষণের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী সেই শিক্ষার্থী। প্রায় দুই ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরলে সেই রাতেই সাড়ে ৯টার দিকে নিজেই সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় বান্ধবীর বাসায় যান ওই ছাত্রী। পুলিশের কাছে ভয়ংকর সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, সোয়া ৭টার দিকে বাস থেকে কুর্মিটোলায় নামার পর অন্ধকার পরিবেশে কেউ একজন পাশ থেকে তার মুখ চেপে ধরে। ওই লোকটির পরনে ছিল নোংরা জিন্স প্যান্ট ও শার্ট।

ভুক্তভোগী জানান, তাকে জোর করেই পাশের ঝোপে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে তার গলা টিপে ধরে ওই লোকটি। এতে প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখেন, জঙ্গলে পড়ে রয়েছেন। তার পাশে তখনও ওই ব্যক্তিকে দেখতে পান তিনি। ধর্ষক ওই ব্যক্তি তার কাছে নাম, পরিচয় ও কোথায় পড়াশোনা করছে- এসব জানতে চায়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর ব্যাগ খুলে লোকটি টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র দেখতে থাকে। এই সুযোগে পালিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন ওই ছাত্রী।

ঘটনাটি জানার পরপরই মেয়েটিকে দেখতে ছুটে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম। তিনি জানান, তাকে মানসিকভাবে শক্তি ও সাহস জোগানোর চেষ্টা করি। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তার পাশে রয়েছে। তবে ধর্ষক দ্রুত গ্রেপ্তার হোক- এটা দেখতে চাই বলে জানান সাদেকা হালিম। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব নিতে হবে। নির্ভয়ে চলার নিশ্চয়তা সবাই চায়। সাদেকা হালিম বলেন, ছোট্ট একটি মেয়েকে কীভাবে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনার শিকার হতে হলো? তার কাছ থেকে বর্ণনা শুনে মনে হয়েছে ওই ধর্ষক এ ধরনের কাজ আগেও করেছে। ঠাণ্ডা মাথায় ধর্ষণ করা হয়েছে। চেতনা ফিরে পাওয়ার পর মেয়েটি অনেকের সহযোগিতা চাইলেও কেউ এগিয়ে যায়নি। ছোট্ট এই মেয়েটি এ ধরনের ভয়ংকর পরিস্থিতি একাই মোকাবিলা করে আবার সিএনজি অটোরিকশায় বান্ধবীর বাসায় গিয়েছে- এটা তার অসম্ভব মানসিক দৃঢ়তার পরিচায়ক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা আরও জানান, ওই ছাত্রী অত্যন্ত মেধাবী। পরীক্ষায় রেজাল্টের দিক থেকে নিজ বিভাগে শীর্ষ চারে রয়েছে সে। সামনে তার পরীক্ষা। গ্রুপ স্টাডির জন্য বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিল সে। সে ভালো আবৃত্তিকারও।

এফএএস/এসএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: