শাহাদাত হোসেন রাকিব

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

কাস্টমার কেয়ার থেকে ম্যানেজার বলছি, এরপরই টাকা উধাও!

   
প্রকাশিত: ৪:৩৩ অপরাহ্ণ, ২৫ অক্টোবর ২০১৯

কাস্টমার কেয়ার থেকে ম্যানেজার বলছি-এমন পরিচয়ে ফোন করে তথ্য নিয়ে গেল। এরপর বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও! বিভিন্ন সময় এ ধরণের অভিযোগ করেন অনেক ভুক্তভোগী। অথচ একটু সচেতন হলেই এ ধরণের প্রতারকদের হাত থেকে বাঁচা যায়।

জানা যায়, প্রথমে নানা পন্থা অবলম্বন আর মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টধারীর তথ্য হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। এরপর অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা উঠিয়ে নেয় তারা। তবে গ্রাহক যদি নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টের তথ্য কাউকে শেয়ার না করেন তাহলে এ ধরণের প্রতারণা থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, সম্প্রতি বিকাশ অ্যাপসের মাধ্যমে জালিয়াতি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে আমরা গ্রেফতার করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি, তারা বেশ কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এ প্রতারণার কাজটি করে থাকে।

তিনি বলেন, বিকাশ করার জন্য প্রতারকদের প্রথম গ্রুপ দোকানে গিয়ে কৌশলে এন্টি খাতার ছবি তোলে বা ভিডিও করে। এরপর খাতার এসব তথ্য দ্বিতীয় গ্রুপকে দেয়। তারা খাতায় লেখা থাকা নাম্বারে ফোন করে। এরপর বলে, আমি বিকাশের দোকানদার, আপনার নাম্বারে ভুলে দুইবার টাকা চলে গেছে। এটা বিশ্বাস করানোর জন্য কল দেয়ার আগেই বিকাশ থেকে টাকা পাঠানোর মেসেজ সংশোধন করে এমাউন্ট ঠিক রেখে একটা ভুয়া মেসেজ দেয়।

কিছু যাচাই না করেই সহজ-সরল অনেক মানুষ টাকা পাঠিয়ে দেয় জানিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আর যদি তিনি ব্যালেন্স যাচাই করে দুইবার টাকা আসেনি বলেন, প্রতারকরা তখন হুমকি দেয় তাকে। তারা বলেন, টাকা না দিলে তিনি তার বিরুদ্ধে বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে অভিযোগ করবেন, যার ফলে বিকাশে লেনদেন বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

এই হুমকি দিয়েও যদি কাজ না হয় তখন প্রতারক একটি অ্যাপস থেকে ফোন করে। এরপর বলেন, আমি বিকাশের কাস্টমার কেয়ার থেকে বলছি। আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপর গ্রাহককে জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনি কি এই অ্যাকাউন্ট আবার চালু করতে চান? গ্রাহক হ্যা বললে বিকাশ অ্যাপস থেকে ভুয়া একটা ভেরিফিকেশন কোড পাঠায় প্রতারকরা।

এরপর প্রতারকরা জানতে চায়, আপনি কি আগের পিন নাম্বার রাখতে চান? যদি গ্রাহক হ্যাঁ বলেন তবেই ফাঁদে পা দেন তিনি। তারপর সুন্দর করে জিজ্ঞাসা করা হয়, পিন নাম্বারটি কত সংখ্যার ছিল কিংবা কি ছিল? যদি গ্রাহক সরল মনে পিন নাম্বারটির পুরো বা কিছু সংখ্যা বলেন তাহলেই তথ্য পেয়ে যায় প্রতারকরা। এরপর অ্যাকাউন্টে যত টাকা থাকে তা নিয়ে নেয় তারা, বলেন ইলিয়াছ হোসেন।

এসময় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কোনো অবস্থাতেই বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নাম্বার কাউকে বলা যাবে না। একমাত্র সচেতনতাই হলো এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়।

এ বিষয়ে বিকাশের ওয়েবসাইটে বলা হয়, সিন্দুকের চাবি যেমন আপনি কাউকে দেন না, তেমনি বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নাম্বার কিংবা অ্যাপ ভেরিফিকেশন কোড কখনোই কাউকে দিবেন না। অন্যথায় আপনার টাকা ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। মনে রাখবেন, বিকাশ কখনোই আপনার অ্যাকাউন্টের পিন নাম্বার কিংবা ভেরিফিকেশন কোড জানতে চাইবে না

এতে আরও বলা হয়, আপনি লোভ, ভয় অথবা ভুল বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে মোবাইলে অপরিচিত কাউকে নিজের টাকা বিকাশ করবেন না। তথ্য যাচাই করতে নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স চেক করুন এবং যেকোন অনিশ্চয়তা এড়াতে কল করুন বিকাশ হেল্পলাইন (১৬২৪৭) নাম্বারে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: