প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

এস হোসেন আকাশ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে ৭৭ পাউন্ডের কেক কেটে রাষ্ট্রপতির ৭৭তম জন্মদিন উদযাপন

   
প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, ১ জানুয়ারি ২০২০

কিশোরগঞ্জে নানা আনুষ্ঠানিকতায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এঁর ৭৭তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির নামে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বুধবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে মেডিকেল কলেজের লেকচার গ্যালারিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ৭৭ পাউন্ডের বিশাল এক কেক কেটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এঁর ৭৭তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আ.ন.ম নৌশাদ খান।

এতে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার), জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জিপি অ্যাডভোকেট বিজয় শঙ্কর রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিপি অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. আসাদ উল্লাহ, জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি ডা. এসএম ফরিদ, জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট সানোয়ার হোসেন রুবেল, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহজাহান, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি সালমা হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন সুলতানা, করিমগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল হক এবং কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এঁর ৭৭তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের টানা দুইবারের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৯৪৪ সালের ১লা জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলা সদরের কামালপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম হাজি মো. তায়েব উদ্দিন ছিলেন একজন কৃষক এবং মাতা মরহুমা তমিজা খাতুন ছিলেন গৃহিণী।

স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ১৯৬১ সালে তিনি নিকলী জিসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং পরবর্তীতে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রী অর্জনের পর আইন পেশায় কিশোরগঞ্জ বারে যোগদান করেন।

ছাত্রাবস্থায় ১৯৫৯ সালে তৎকালীন ছাত্রলীগে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে মো. আবদুল হামিদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৬১ সালে গুরুদয়াল কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। ফলে তৎকালীন পাকিস্থান সরকার তাঁকে কারারুদ্ধ করে।

১৯৬৩ সালে তিনি গুরুদয়াল কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৫ সালে একই কলেজের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে কিশোরগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ সালে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৬৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি কারাবন্দী ছিলেন। এরপর থেকে ২০০১ সালে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি একটানা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মো. আবদুল হামিদ মাত্র ২৬ বছর বয়সে ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্থান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং ভারতের মেঘালয় রিক্রুটিং ক্যাম্পে এবং তৎকালীন সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (মুজিব বাহিনী) সাবসেক্টরের কমান্ডার পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন।

মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৪ (সাবেক কিশোরগঞ্জ-৫) আসন থেকে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ১২ই জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম, ২০০১ সালের অষ্টম এবং ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় তিনি ডেপুটি স্পিকার এবং পরবর্তীতে ২০০১ সালের ১২ই জুলাই থেকে ২৮শে অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি ২০০১ সালের ১লা নভেম্বর থেকে ২০০৬ সালের ২৭শে অক্টোবর পর্যন্ত বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি নবম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো স্পিকার নির্বাচিত হন।

২০১৩ সালের ১৪ই মার্চ তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব লাভ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।

প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৮ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন মো. আবদুল হামিদ। ২০১৮ সালের ২৪শে এপ্রিল প্রথমবারের মতো টানা দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: