প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

কুমিল্লায় দিনমজুরের মৃত্যু, মিলল না পরিবারের খোঁজ

   
প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, ৭ এপ্রিল ২০২০

স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে এসেছিলেন দিনমজুর সহিদুল ইসলাম। বয়স তার ৬২ বছর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাড়ি। কুমিল্লায় এসে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুরে দিনমজুরের কাজ করেন। চার দিন একটানা একটি খাল খননের কাজ করার মধ্যেই করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় বিজয়পুরেই আটকা পড়েন। আশ্রয় নেন বিজয়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায়। জেলা প্রশাসন থেকে আটকেপড়া শ্রমিকদের খাবারের ব্যবস্থাও করে। এরই মধ্যে গত ২৯ মার্চ জ্বরে আক্রান্ত হন দিনমজুর সহিদুল ইসলাম। চিকিৎসাসেবা পেলেও সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে মারা যান।

জানা যায়, হতভাগ্য এই দিনমজুওরের লাশ রাখা হয় বিজয়পুর স্কুলের বারান্দাতেই। পুলিশের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খোঁজ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি পরিবারের খোঁজও। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানান, আমরা মৌখিকভাবে যে ঠিকানা পেয়েছি, সেখানে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরিবারের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে তার দাফন হবে।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টায়ও মৃত সহিদুল ইসলামের মরদেহ বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক স্কুলের বারান্দায় পুলিশ প্রহরায় ছিল। পরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম পিপিএম, পরিদর্শক তদন্ত কমল কৃষ্ণ ধর ও সেকেন্ড অফিসার খাদেমুল বাহার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে লাশটি উদ্ধার করে বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের নিকট হস্তান্তর করেন।

হতভাগ্য দিনমজুর সহিদুল ইসলামের চিকিৎসা করেছিলেন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মরিয়ম আক্তার।

তিনি জানান, ২৯ মার্চ বিজয়পুর স্কুলে আটকেপড়া ৪০ জন দিনমজুর ও শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। সেদিন সহিদুল ইসলামের জ্বর ছিল না। ৩০ মার্চ আমার ঊর্ধ্বতন ডা. জাকির হোসেনের অনুরোধে সহিদুল ইসলামের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তার ১০১ ডিগ্রি জ্বর পাই। তার কাছে প্যারাসিটামল ছিল। তা সেবন করেন। পর দিন ৩১ মার্চ আর তার জ্বর মাপলে ১০৪ ডিগ্রি জ্বর পাওয়া যায় তখন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপোজিটার দেওয়া হয়। তখন স্বাস্থ্য অফিসের পিয়ন তাকে সহায়তা করেন। সে সময় দিনমজুর সহিদুলের অবস্থা একটু ভালো ছিল।

আজ সোমবার দুপুরে জানলাম মারা গেছে। উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মরিয়ম আক্তার জানান, সহিদুল জীবিত থাকাকালে জানান, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে এসেছেন। বিজয়পুরে রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতেন দিনমজুরের জন্য। একটি খাল খননের কর্মসূচিতে তিনি টানা চার দিন কাজ করেন।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রংপুর, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬৫ জন কৃষি শ্রমিক ২৭ মার্চ থেকে কুমিল্লার বিজয়পুরে আটকা পড়ে। ২৮ মার্চ থেকে ওই শ্রমিকরা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিজয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অবস্থান করে আসছে। প্রতিদিন ৩ বেলা খাবার ও চিকিৎসা সেবা জেলা প্রশাসনের পক্ষে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিয়া মোহাম্মাদ কেয়ামউদ্দিন ব্যবস্থা করে আসছেন।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: