প্রচ্ছদ / ক্যাম্পাস / বিস্তারিত

১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ

২৮ মে ২০১৯, ৯:৪১:০৪

২০০৬ সালের ২৮ মে। দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় অন্যতম এক উচ্চ শিক্ষার আবাস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। কিন্তু প্রতিষ্ঠার তেরোটি বছর পেরিয়ে গেলেও আজও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারেনি দেশের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের এ সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠটি।
 
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যার আতুড়ঘরে পরিণত হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতিনিয়তই শিক্ষকদের গ্রুপিং, প্রতিহিংসামূলক মনোভাব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের অবনতি, ছাত্র রাজনীতির নোংরা গ্রুপিং, পদ নিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়ি প্রভৃতি লেগেই আছে এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। ক্লাসে পড়ানোর চেয়ে রাজনীতিতেই ভবিষ্যত দেখে বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকাংশ শিক্ষক। এমনকি ছাত্র রাজনীতিতে রয়েছে শিক্ষকদের প্রভাব। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় ভর্তি ফরমের অঙ্গিকারনামায় ক্যাম্পাসে রাজনীতি ও ধূমপানের বিরুদ্ধে অঙ্গিকার করানো হয়। কিন্তু ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি সরব। যেখানে রয়েছে সব ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের আধিপত্য।

মাত্র ৭টি বিভাগে ৩০০ জন শিক্ষার্থী ও ১৫ জন শিক্ষক নিয়ে শুরু হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। বর্তমানে এ বিদ্যাপীঠে ৬টি অনুষদের অধীনে ১৯টি বিভাগে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছে বিভিন্ন বিভাগের নয়টি ব্যাচ। যারা অনেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে দেশ তথা মানবজাতির কল্যাণে বেড়িয়েছে। যাদের পদচারণা দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাসহ দেশের বাহিরেও বিদ্যমান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ১৪তম বছরে এসেও নানা সমস্যা আর অপূর্ণতায় আবদ্ধ। গেল বছরের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের ১৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্প পাশ হলেও তা কবে নাগাদ শুরু ও শেষ হবে সেটাও সঙ্কিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সেশন জট, শিক্ষক সংকট, ক্লাসরুম সংকট, অব্যবস্থাপনা, সুপরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়নের অভাব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসিক ব্যবস্থার নাজেহাল অবস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা, জিমনেসিয়ামের অভাব, ভঙ্গুর চিকিৎসা সেবা, গ্রন্থাগার অব্যবস্থাপনা, হলগুলো ও ক্যাফেটারিয়ার খাবারে নিম্নমান, গবেষণায় যত সামান্য বরাদ্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সড়কের অভাব, পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থার অভাব, তথ্যপ্রযুক্তিতে অনাগ্রসারতা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাব, রাজনীতি ও ধুমপান মুক্ত ক্যাম্পাসে সরব রাজনীতির প্রভাব, বিভিন্ন সময় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো খালি অথবা ভারপ্রাপ্তদের ভারে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠা, অনিয়ন্ত্রিত মাদকের আগ্রাসনসহ নানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বারবারই ব্যাহত হচ্ছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ছয় জন। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়টির ৬ষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান গত বছরের ৩১ জানুয়ারি। বিশ্ববিদ্যালয়টির চলমান শিক্ষক রাজনীতির প্রভাবে বিগত কোন উপাচার্যই সসম্মানে বিদায় নিতে পারে নি। মেয়াদ শেষ করতে পারেনি অনেকেই।

রাজনীতি ও ধূমপান মুক্ত ক্যাম্পাসে সরব শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর সময় রেজিষ্ট্রেশন ফরমের অঙ্গীকারনামায় রাজনীতি ও ধূমপান মুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার প্রতিশ্রুতি নিলেও ক্যাম্পাসটিতে রাজনীতি ও ধূমপান চলছে লাগামহীনভাবে। ক্যাম্পাসে শিক্ষক রাজনীতি যেমন সরব তেমনি ছাত্র রাজনীতিও ধারণ করেছে প্রকট আকারে। অঙ্গীকারনামায় এসব নিষিদ্ধ থাকলেও ক্যাম্পাসে এর প্রভাব দেখে নিতান্তই বিস্মিত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা। দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যতীত হয়না নিয়োগ, মেলে না পোস্ট। এখানে সাধারণ শিক্ষক বা শিক্ষার্থী বলতে শুধুই মরিচীকা। যেখানে রাজত্ব সব ক্ষমতাসীন দলের পক্ষের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের। এদিকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ধূমপান না করার অঙ্গীকার করলেও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থীরা হর হামেশাই করছে ধূমপান। শুধু ধূমপানই নয় ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে ও আবাসিক হলগুলোতে বসে মাদকের আসর। এসব কিছু নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে।

নিয়োগে দলীয়করণ ও পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ: বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগে চলে দলীয়করণ এবং পছন্দের প্রার্থিদের নিয়োগের তোড়জোড়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক উপাচার্যই তার সময়কালে এমনটা করেছে বলে একাধিক সূত্র জানায়। বর্তমানেও চলছে তারই ধারাবাহিকতা। পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে নেওয়া হয় লোক দেখানো লিখিত পরীক্ষা। এমনকি অনেক যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়েও মেধা তালিকায় শেষের দিকে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া ও এক পদে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তার থেকে নিচের পদে নিয়োগ দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগে বঞ্চিত ক্যাম্পাসের মেধাবীরা: শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগে বঞ্চিত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির মেধাবী শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি ব্যাচ স্নাতকোত্তর শেষ করলেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক হয়েছেন ১৬ জন। শুধু ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকপ্রাপ্তই হয়েছেন ১৯ শিক্ষার্থী (৫ জন শিক্ষক)। তাছাড়াও অভিযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা অন্যদের থেকে যোগ্য হওয়া সত্বেও নিয়োগে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। 

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসিক ব্যবস্থার নাজেহাল অবস্থা: বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসিক ব্যবস্থা খুবই নাজেহাল অবস্থা। ২১০ জনেরও অধিক শিক্ষকদের জন্য শিক্ষক ডরমেটরি রয়েছে একটি। যেখানে মাত্র ২০-২৫ জন শিক্ষকের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। আর কর্মকর্তা মাত্র ৬-১০ জন। আবার এ ডরমেটরির অবস্থাও একেবারে নাজেহাল। তবে নতুন একটি ডরমেটরির কাজ চলছে। কিন্তু এর কাজও চলছে কচ্ছপ গতিতে। এদিকে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক হল রয়েছে মাত্র চারটি। যেখানে সর্বসাকুল্যে ৯০০-১০০০ জন শিক্ষার্থীর আবাসিক সমস্যা সমাধান হতে পারে। তবে একটি নতুন ছাত্রী হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পরিধি বৃদ্ধির কাজ চলছে। সব হলে নেই পড়ার কক্ষ। কোন হলেই নেই গ্রন্থাগার, অতিথি কক্ষ, ওয়াইফাই ব্যবস্থা ও ক্যান্টিন। হলের ডাইনিংগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই কোন ভর্তুকি।

শিক্ষক সংকট ও সেশনজটে অধিকাংশ বিভাগ: বিশ্ববিদ্যালয়টির বেশ কয়েকটি বিভাগে সেশনজট লেগেই আছে। তার মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, ফার্মেসী, নৃবিজ্ঞান, প্রত্নতত্ত্ব, সিএসই, আইসিটি বিভাগগুলোতে সেশনজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। শিক্ষক সংকট, ক্লাসরুমের স্বল্পতা, শিক্ষকদের উদাসীনতা প্রভৃতি কারনে বিভাগগুলো সেশনজটের কবলে পড়ছে বলে শিক্ষার্থীদেও দাবি।

নেই দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটক: যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তার প্রধান ফটকের মাধ্যমে। কিন্তু এ বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৩ পেরিয়ে ১৪ তে পা দিলেও এখনও তৈরি হয়নি একটি দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটক। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে যে ফটকটি রয়েছে সেটা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই জ্ঞাত নন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরিবহন ও শিক্ষার্থীবৃন্দ কোটবাড়ির সংকুচিত সড়কটিই ব্যবহার করে আসছে।

১৩ বছরে দেখা মেলেনি সমাবর্তনের: বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের আটটি ব্যাচ স্নাতক শেষ করলেও এখনও আয়োজন করা হয়নি কোন সমাবর্তনের। সমাবর্তন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করলেও সমাবর্তন এখনও অধরাই রয়ে গেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে যে এবছরের শেষ নাগাদ না হলেও আগামী বছরের প্রথমেই সমাবর্তনের আয়োজন করা হবে।

নেই ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র ও হয়নি অডিটোরিয়াম: একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র বলা হয় সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসও গড়ে ওঠেনি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের ও মুক্ত চিন্তার চর্চা করাতে বাঁধার সম্মূখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া নেই কোন কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম। তাই প্রতিনিয়তই যেকোন অনুষ্ঠান আয়োজনে হিমমিম খেতে হচ্ছে এ পরিবারের সদস্যদের।

গ্রন্থাগারে অনাগ্রহতা: বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনের পাঁচ তলায় দুটি কক্ষে মাত্র ৯০টি আসনের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। মোট শিক্ষার্থীর জন্য এ কয়টি আসন যেন হাস্যকর। তারপরেও গ্রন্থাগার দেখা যায় ফাঁকা। গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব ও শিক্ষার্থীদের জন্য সহজবোধ্য না হওয়ায় দিনদিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে শিক্ষার্থীরা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত আট পর্যন্ত খোলা রাখা ও স্বতন্ত্র ভবন নির্মাণের দাবি বহু দিনের হলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বই ও লোকবলের সংকটের কারণে বিভাগগুলোর সেমিনার গ্রন্থাগার খুবই নাজুক।

নেই আবাসিক ডাক্তার: প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলার একটি কক্ষে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম। এ যেন এক কক্ষ বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল। পাঁচ জন ডাক্তারের মধ্যে দুই জনই রয়েছেন শিক্ষা ছুটিতে, এক জন মেডিকেল এসিসট্যান্ট, এক জন নার্স ও এক জন অফিস সহকারী রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোন আবাসিক ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়নি। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলে নির্ভর করতে হয় ডিসপেন্সারির হাতুড়ে ডাক্তারের উপর। একটিমাত্র অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও জরুরি সময়ে পেতে পোহাতে হয় নানা সমস্যা।

গবেষনায় অনাগ্রহতা: বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণার প্রতি তাদের নেই তেমন কোন আগ্রহ। গবেষণার ক্ষেত্রে সব থেকে বড় বাঁধা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের যত সামান্য বরাদ্দ। যে কয়েকটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গবেষণার প্রতি আগ্রহ দেখায় তাতে কেউ কেউ সামনে আগাতে পারলেও অধিকাংশরাই থমকে যান।

সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই: বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিদ্যুতের নিজস্ব কোন সংযোগ আজও দেওয়া হয়নি। একটি লাইনেই চলে বিদ্যুতের সরবরাহ। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় নেই কোন জেনারেটরের ব্যবস্থা।

বিচারহীনতার ধারা আজও চলমান: বিশ্ববিদ্যালয়ে দিন যতই যাচ্ছে বিচারহীনতার নজির দিন দিন বাড়ছেই। এমন কি ছাত্র হত্যার দায়ে আজও কাউকে শাস্তি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০১৬ সালের ১ আগস্ট প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ২৬ দিন পরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও এখন পর্যন্ত দোষীদের কোন প্রকার শাস্তির আওতায় আনেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মনে করেন, অপরাধের জন্য শাস্তি না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকের হাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষক, কর্মকর্তার হাতে শিক্ষার্থী লাঞ্ছনা এবং শিক্ষার্থী দ্বারা শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক লাঞ্ছনা ও মারধরের শিকার হলেও চোখে পরার মত তেমন কোন বিচার করে নাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সার্বিক বিষয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে আমাদের মানসিকতা প্রয়োজন। আর সংকট শুধু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েই নয় পুরো বাংলাদেশেই একই অবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা-পয়সার সংকট নেই। এ পরিবারের সবাইকে সুন্দরভাবে চলতে শিখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সব কিছু শিক্ষার্থীদের জন্য। ভিসি, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাই শিক্ষার্থীদের জন্যই। মেগা প্রকল্পের অর্থ আসলেই প্রধান ফটক করার চিন্তাভাবনা আছে এবং তা এ বছরেই হবে। সবার অংশগ্রহণেই এগিয়ে যাবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।’

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: