প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

কে এই সাবেক ভুমিমন্ত্রী শামসুর রহমান

   
প্রকাশিত: ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ, ২ এপ্রিল ২০২০

পাবনা ৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি অইন্নাইলাহি রাজিউন)। তিনি দীঘ্রদিন ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান।

আসুন জেনে নেই পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক ভূমিমন্ত্রী, ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা জননেতা আলহাজ্ব শামসুর রহমান শরীফ সম্পর্কে কিছু তথ্য।

শামসুর রহমান শরীফ ১৯৪০ সালের ১০ মার্চ পাবনা জেলার সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চর শানিরদিয়াঢ় গ্রামের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম লুৎফর রহমান এবং মাতার নাম জোবেদা খাতুন। তার পৈর্তৃক নিবাস পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের লক্ষ্মীকুন্ডা গ্রামে। তার শৈশব-কৈশোর কাটে লক্ষ্মীকুন্ডায় ও পাবনা সদরে। শামসুর রহমান শরীফ লক্ষীকুন্ডা ফ্রী প্রাইমারি স্কুল ও পাকুড়িয়া মিডল ইংলিশ স্কুলে পড়াশুনা শেষ করে পাবনা জেলা স্কুলে ভর্তি হন। পাবনা জেলা স্কুল থেকে ১৯৫৭ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর পাবনা এ্যাডওয়ার্ড কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৬২ সনে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।

তার রাজনৈতিক জীবনে প্রথমসাফল্য আসে ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। তারপরই তিনি সক্রিয় ভাবে রাজনিতীতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি উক্ত ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ক্রমান্নয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারন সম্পাদক, সভাপতি ও পরে ২০০৬ সালে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির মনোনীত হন এবং বর্তমানেও সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তৎকালীন সরকারের আমলে টানা ৫ বছর কারারুদ্ধ ছিলেন এবং এরশাদ সরকারের আমলেও তাকে কারাগার বরণ করতে হয়। তিনি সর্বপ্রথম ১৯৭৯ সালে পাবনা-৪ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরাজিত হন। পরে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবার পরাজিত হন।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তে পাবনা-৪ আসনে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিববে মনোনয়ন দেয় আওয়ামীলীগ। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে দল তাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১, ২০০৯, ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ভারত বিভাগের পর নব্য স্বাধীন হওয়া পাকিস্তানে মাতৃভাষার দাবীতে আন্দোলন শুরু হয়। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার দাবী জানায় ও আন্দোলন চালাতে থাকে। শামসুর রহমান শরীফ ভাষা আন্দোলনে যোগদান করেন। তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। ভাষার দাবীতে মিছিল করায় তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে ও জেলে বন্দী রাখে। ১৯৫৯ সালে আইয়ূব খানের মার্শাল ল’ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয়। ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গ্রেফতার হন। ১৯৬৭ সালে আবারও তিনি কারাবরণ করেন ছয় দফা আন্দোলনের প্রচার করতে গিয়ে। ১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিলো। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাবনার মাধপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। তার নেতৃত্বে তার বাহিনীর ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা গুলিতে মারা যায় এবং পাকিস্তানি সেনাদের অনেকেই ঐ যুদ্ধে হতাহত হয়। তিনি ৭ নং সেক্টরের অধীনে কাজীপাড়ায় সেনাবাহিনীর ব্রিগেড লিডারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। ভারতের জলঙ্গীতে তার ছিল।

ব্যক্তি জীবনে শামসুর রহমান শরীফ ৫ মেয়ে ও ৫ ছেলের পিতা।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: