প্রচ্ছদ / অপরাধ / বিস্তারিত

খতনার সময় নড়াচড়া করায় শিশুকে চড়-থাপ্পড়

   
প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, ২ জুন ২০১৯

খতনার সময় ব্যাথায় নড়াচড়া ও কান্নাকাটি করায় আয়মান আশরাফ (৫) নামের এক শিশুকে চড়-থাপ্পড় ও নখের আঁচড়ে জখম করেছে এক চিকিৎসক। ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কে রয়েছে।

শনিবার (১ জুন) বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) এ ঘটনা ঘটে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও শিশুটির নানি (মায়ের খালা) শাহানা পারভিন বকুল এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে দফায় দফায় চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত চিকিৎসকের মোবাইলে ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া হাসপাতালে না থাকায় তার বক্তব্য নেওয়াও সম্ভব হয়নি।

ওই হাসপাতালের চিকিৎসক আরএমও ডা. শফিক কাজল এ বিষটি নিয়ে ব্রিবত উল্লেখ করে বলেন আমি ও তত্ত্বাবধায়ক তাকে ডেকে সাবধান করে দিয়েছি এবং ওই শিশুর পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি।

রোববার দুপুরে এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে।

শিশুটির বাবা আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, ঠিকমতো অবশ না হওয়ায় নড়াচড়া ও কান্নাকাটি করে আয়মান। আর তাই ডা. ফারুক তার গালে ছয় থেকে সাতটি চড় মারে। তাছাড়া আয়মানের উরুতে নখ দিয়ে আঁচড় দিয়ে ক্ষত তৈরি করেন অভিযুক্ত ডাক্তার।

আশরাফুল ইসলামের মতে ওই চিকিৎসক মানসিকভাবে অসুস্থ।

তিনি জানান, আয়মানকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর শিশুটি রাতে ঠিকভাবে ঘুমাতে পারেনা। নতুন কাউকে দেখলে ভয়ে আঁতকে ওঠে।

শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ব্র্যাক ব্যাংকের ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলাম মুরাদের শ্বশুরবাড়ি বগুড়া শহরের মালতিনগর এলাকায়। তার স্ত্রীর নাম মাসুমা রহমান মিশু। তাদের সন্তান আয়মান ঢাকার মাইলস্টন স্কুল ও কলেজের নার্সারির ছাত্র। ঈদের ছুটিতে বগুড়ায় গিয়ে আয়মানকে খতনা করার উদ্যোগ নেন তারা।

মিশু কয়েকদিন আগে তার আত্মীয় (খালা) সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহানা পারভিন বকুলের মাধ্যমে আয়মানকে ওই হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম ফারুককে দেখান। ওই চিকিৎসক শনিবার (১ জুন) সকালে খতনা করার সময় দেন। ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়মানকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।

সেখানে অপরাজিতা নামে ঢাকার ইব্রাহিম মেডিক্যাল কলেজের এক ছাত্রী, নার্স বকুল ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। লোকাল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর ডা. ফারুক অপারেশন শুরু করেন। কিন্তু ঠিকমতো অবশ না হওয়ায় আয়মান নড়াচড়া ও কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় ডা. ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটির গালে ছয় থেকে সাতটি চড়-থাপ্পড় ও উরুতে নখের আঁচড় দেন।

এ সময় সেখানে থাকা নার্সরা অনুরোধ করেও ওই চিকিৎসককে শান্ত করতে পারেননি। তিনি নার্স ও অন্যদের ওটি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। পরে আবারও লোকাল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর খতনা করানো হয়। শিশু আয়মান অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হওয়ার পর বাবা-মাকে জানায়, আর কখনও ওই ডাক্তারের কাছে যাব না, ডাক্তার মারে।

এ ঘটনায় ওই ডাক্তারের শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: