খাদ্যাভ্যাসে চিনির পরিমাণে কমতে পারে শুক্রাণুর মান

                       
প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, ২৫ আগস্ট, ২০২০
ছবি: ইন্টারনেট

খাদ্যাভ্যাসে চিনির পরিমাণ বেশি হলে কমতে পারে পুরুষের শুক্রাণুর মান। ‘পিএলওএস বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তথ্য বলছে, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে চিনির পরিমাণ বেশি হলে পুরুষের শুক্রাণুর মান কমতে থাকে। শুক্রাণুর কাজ সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানা গিয়েছে এই গবেষণার মাধ্যমে যা ভবিষ্যতে এর গুণগত মান পরীক্ষা করার নতুন পথ দেখাবে বলে বিশ্বাস গবেষকদের।

গবেষণার প্রধান, সুইডেনের ‘লিংকোপিং ইউনিভার্সিটি’র আনিতা ওস্ট জানিয়েছেন, “খাদ্যাভ্যাস শুক্রাণুর মৃত্যুর হারকে প্রভাবিত করে। আর খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবে শুক্রাণুর ঠিক কোন অংশে পরিবর্তন আসছে সেটাও আমরা শনাক্ত করতে পারি। গবেষণায় আমরা দ্রুতগামী পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি যা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান হয়।” গবেষকরা বলেন, “শুক্রাণুর মান নষ্ট হতে পারে পরিবেশগত ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বিভিন্ন প্রভাবকের কারণে। এদের মধ্যে ‘ওবেসিটি’, ‘টাইপ টু ডায়াবেটিস’ অন্যতম।”

গবেষকরা মূলত আগ্রহী ‘এপিজেনেটিক ফেনোমেনা’ নিয়ে, যেখানে শারীরিক গঠন ও জিনগত বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসে। এমনকি এই পরিস্থিতিতে জিনের উপাদান ও ‘ডিএনএ সিকুয়েন্স’য়ের পরিবর্তন না আসলেও তাদের বহিঃপ্রকাশ পরিবর্তীত হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই ‘এপিজেনেটিক’ পরিবর্তন বাবা-মায়ের কাছ থেকে শুক্রাণু কিংবা ডিম্বানুর মাধ্যমে সন্তানের মাঝে চলে যেতে পারে। এর জন্য দায়ী মূলত ‘আরএনএ’য়ের ক্ষুদ্রাংশ, ‘টিএসআরএনএ’ যা বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণির মধ্যে বিদ্যমান।

অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে মানুষের শুক্রাণুর ‘আরএনএ ফ্রাগমেন্টস’য়ে কোনও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে কি-না সেটা দেখাই ছিল এই গবেষণার উদ্দেশ্য। এজন্য গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করেন ১৫ জন স্বাস্থ্যবান, অধূমপায়ী পুরুষকে, যাদের প্রত্যেককে দুই সপ্তাহের খাবার একবারে দিয়ে দেন গবেষকরা।

গবেষকদের নির্ধারণ করে দেওয়া খাদ্যাভ্যাসটি ছিল ‘নরডিক নিউট্রিশন রেকোমেন্ডেশন ফর হেলদি ইটিং’ মোতাবেক, তফাৎ ছিল শুধু একটি জায়গায়। দ্বিতীয় সপ্তাহে গবেষকরা তাতে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেন। এই বাড়তি চিনি ছিল প্রতিদিন সাড়ে তিন লিটার কোমল পানীয় কিংবা ৪৫০ গ্রাম ‘কনফেকশনারি’ খাবারের সমতুল্য। অংশগ্রহণকারীদের শুক্রাণুর মান ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় গবেষণার শুরুর আগে, শুরুর প্রথম সপ্তাহ শেষে এবং দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষে।

গবেষণার শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের এক তৃতীয়াংশের ‘স্পার্ম মোটিলিটি’ কম ছিল। ‘স্পার্ম মোটিলিটি’ হল নারীর প্রজননতন্ত্রে শুক্রাণুর স্বাভাবিক চলাফেরা করার ক্ষমতা। গবেষণার প্রথম সপ্তাহ শেষে গবেষকরা দেখেন সকল অংশগ্রহণকারীর ‘স্পার্ম মোটিলিটি’ স্বাভাবিক মাত্রায় চলে এসেছে। আনিতা ওস্ট বলেন, “আমাদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ‘স্পার্ম মোটিলিটি’ খুব অল্প সময়েই পরিবর্তন করা সম্ভব এবং তা খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। চিকিৎসাক্ষেত্রে এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, ‘স্পার্ম মোটিলিটি’কে প্রভাবিত করে যেসব ‘আরএনএন’ ক্ষুদ্রাংশ, সেগুলোতেও পরিবর্তন এসেছে।” সূত্র: কলকাতা ২৪।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


পাঠকের মন্তব্য:

বর্তমানে জাতীয় সংসদ, নির্বাচন কমিশন সবিচালয়, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, অপরাধ, সচিবালয়, আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, খেলাধুলা, বিনোদনসহ প্রায় সব গুরুত্ত্বপূর্ণ বিটেই রয়েছে একঝাঁক তরুণ সাংবাদিক। এছাড়া সারাদেশে বিডি২৪লাইভ ডটকম’র রয়েছে প্রতিনিধি।

লাইফ স্টাইল

নিবন্ধন নং- ০০০৩

© স্বত্ব বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭

ফোন: ০৯৬৭৮৬৭৭১৯০, ০৯৬৭৮৬৭৭১৯১
ইমেইল: [email protected]