খাবারের বিনিময়ে কাকেদের কাছ থেকে উপহার পাচ্ছে এই শিশু

   
প্রকাশিত: ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাকেদের খাবার খাইয়ে বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে উপহার পেয়ে আসছে ওয়াশিংটনের সিয়াটলের বাসিন্দা আট বছরের শিশু গ্যাবি ম্যান। চার বছর ধরে কাকেদের খাবার খাইয়ে আসছে সে। বিনিময়ে পাওয়া উপহারের মধ্যে রয়েছে পুঁতি, মসৃণ পাথর, লেগো, ধাতব বস্তু, পেপার ক্লিপ, বোতাম এবং ফোমের টুকরা।

জানা যায়, গ্যাবির খাবার ফেলে দেওয়ার অভ্যেস ছিল। একদিন গাড়ি থেকে নেমে একটি চিকেন নাগেট ফেলে দেওয়ার পর দেখা গেলো অনেকগুলো কাক এসে সেটি নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করেছে। তারপর থেকে সে তার যাওয়া-আসার পথে গাড়ি থেকে নেমে কাকেদের খাবার দিতে শুরু করে। কাকেরা যখন বুঝে ফেলল গ্যাবি প্রতিদিন গাড়ি থেকে নেমে এসে খাবার দিয়ে যায় তাই তরা অপেক্ষা করতে শুরু করে।

এরপর প্রতিদিন সকালে গ্যাবি এবং তার মা তাদের বাড়ির পেছনের উঠানে কাকেদের জন্য বাদাম ও কুকুরের জন্য তৈরি খাবার রেখে যায় এবং চৌবাচ্চার পানি বদলে দিয়ে যায়। এখান থেকেই ধীরে ধীরে কাকেদের মধ্যে উপহার নিয়ে আসার অভ্যাস শুরু হয়।

একবার গলির মাথায় ছবি তুলতে গিয়ে গ্যাবির মা লিসা তার লেন্স ক্যাপটি হারিয়ে ফেলেন। পরে একটি কাক এসে ক্যাপটি দিয়ে যায়। তিনি প্রথমে নিশ্চিত ছিলেন না কাকই ক্যাপটি নিয়ে এসেছে। কিন্তু বাড়িতে পাখি দেখার জন্য লাগানো ক্যামেরার ভিডিওতে তিন দেখতে পান একটি কাক ক্যাপটি নিয়ে এসে চৌবাচ্চার পানিতে বার বার চুবিয়ে নিচ্ছে। অবশ্য উপহারের সব জিনিসই যে খুব চমৎকার তা নয়। একবার একটি কাক পঁচতে থাকা কাঁকড়ার দাঁড়া নিয়ে এসেছিল।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রানী বিভাগের অধ্যাপক জন মারজলুফ গ্যাবির এই ঘটনার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হতে লোকেদের পরামর্শ দেন এবং বলেন, ‘যদি আপনারা কাকের সাথে বন্ধন তৈরি করতে চান তাহলে তাদের নিয়মিত সেবা করে যান।’

তিনি বলেন, কাকের সাথে ভালো আত্মীয়তা তৈরি করা খুবই সম্ভব তবে তারা যে উপহার নিয়ে আসবেই সেই নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।

তিনি অন্যান্য লোকেদেরও কাকের কাছ থেকে উপহার পেতে দেখেছেন যদিও নিজে কখনো পাননি। উপহারগুলো সবসময় সুন্দর ও চকচকে হয় না। মারজুফলার বলেন, তিনি অনেক সময় মানুষের কাছে মৃত বাচ্চা নিয়ে আসতে দেখেছেন কাকেদের।

পাখিদের মধ্যে কাকেদের বুদ্ধিমত্তা চমকপ্রদ। এদের বুদ্ধিমত্তাকে সাত বছরের মানব শিশুর বুদ্ধিমত্তার সাথে সমতুল মনে করা হয়। জাপানের টোকিওর রাস্তায় কাকেরা লাল বাতির জন্য অপেক্ষা করে। গাড়ি থেমে গেলে তারা গাড়ির চাকার নিচে ওয়ালনাট রেখে যায়। গাড়ি চাপা দিয়ে সেগুলো ভেঙ্গে দিলে তারা ভেতরের বাদাম খেয়ে নেয়। সূত্র: বিজ্ঞান পত্রিকা।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: